নোটিশ: বকেয়া পরিশোধ না হওয়ায় সাইটটি শীঘ্রই সাসপেন্ড হয়ে যাবে, অনুগ্রহ পূর্বক যোগাযোগ করুন। ধন্যবাদ।

ঈদের ছুটিতে বান্দরবানে পর্যটকদের ভিড়।

আমারদেশ২৪ ডেস্ক:
মঙ্গলবার, ১ এপ্রিল, ২০২৫

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর পাহাড়ি জেলা বান্দরবান বরাবরের মতো এবারও ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের ভিড়ে মুখরিত। পবিত্র ঈদুল ফিতরে টানা ৯ দিনের ছুটিকে কেন্দ্র করে পর্যটকদের সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। ফলে হোটেল-মোটেলগুলো শতভাগ বুকিং হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন হোটেল মালিক কর্তৃপক্ষ।

বান্দরবান শহরের কাছাকাছি নীলাচল, শৈলপ্রপাত, গোল্ডেন মন্দির এবং মেঘলা পর্যটন কেন্দ্রে প্রচুর ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। সকালে তুলনামূলকভাবে ভিড় কম থাকলেও বিকেলের দিকে পর্যটকদের আনাগোনা বেড়েছে। প্রকৃতির শোভা উপভোগ করতে আসা দর্শনার্থীরা ক্যামেরাবন্দি করছেন স্মরণীয় মুহূর্তগুলো। পাহাড়ের চূড়ায় বসে মনোরম বাতাস উপভোগ করতে গোল টেবিলে আড্ডায় মেতেছিলেন অনেকে, আর আশপাশে অনেকেই প্রকৃতির সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে ঘুরাঘুরি করছিলেন এমন দৃশ্য দেখা গেছে।

ঢাকা মতিঝিল থেকে আগত মনিরুল বলেন, প্রকৃতির প্রতি আমার টান ছিল। ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করতে বান্দরবানে এসেছি। এখানে প্রাকৃতিক পরিবেশ অসাধারণ।

ঢাকা থেকে তিন মেয়ে আর স্ত্রীকে নিয়ে বেড়াতে আসা ডা. মনিরুল জামান জানান, বান্দরবান খুবই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। নীলাচল ঘুরেছি, পরিবারের সবাই খুব মজা করছি।মেঘলা পর্যটন স্পটে বাবা-মায়ের সঙ্গে ঘুরতে আসা শিশু আরিয়ান বলে, উঁচু পাহাড় আর আঁকাবাঁকা রাস্তা দেখে একটু ভয় পেয়েছিলাম, কিন্তু মেঘলায় ঝুলন্ত ব্রিজে বাতাসে দুলে দুলে চলার অনুভূতি ছিল অসাধারণ।
পাহাড়ে চূড়ায় নির্মিত পর্যটন স্পট নীলাচলে কথা হয় নারায়ণগঞ্জ থেকে আগত হাবিবুর রহমান।
তিনি বলেন, এটাই আমার প্রথম বান্দরবান ভ্রমণ। এখানে না এলে বুঝতেই পারতাম না এত সুন্দর পরিবেশ কেমন লাগে। ঢাকাতে যারা থাকে, এখানে না আসলে কিছু বুঝবে না।বান্দরবান রেসিডেন্সিয়াল হোটেল রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, শহরের সব হোটেল শতভাগ বুকিং হয়ে গেছে। বাংলাদেশি পর্যটকদের পাশাপাশি, ভারতে ভ্রমণ বন্ধ থাকায় কিছু বিদেশি পর্যটকরাও বান্দরবানে আসছেন। এতে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা আনন্দিত।

বান্দরবান ট্যুরিস্ট পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার নিত্যানন্দ দাস বলেন, ঈদ উপলক্ষে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ট্যুরিস্ট পুলিশ ও জেলা পুলিশ সমন্বিতভাবে কাজ করছে যাতে পর্যটকরা নিরাপদে ভ্রমণ উপভোগ করতে পারেন।বান্দরবান জেলা প্রশাসক শামীম আরা রিনি বলেন, পর্যটনের উন্নয়নে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। অসাধু ব্যবসায়ীরা যাতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি রাখা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, সম্প্রতি রোয়াংছড়ির দেবতাখুম পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। তবে রুমা ও থানচির আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখনও স্বাভাবিক হয়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে এসব এলাকাও পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।

আরও পড়ুন