ঈদ নিয়ে এখানে কোনো আলাদা আয়োজনও নেই। শুধু ঈদের নামাজ আদায় করেন মুসলিমরা। মোটাদাগে এর বাইরে নতুন জামা-কাপড় পরা বা খাওয়াদাওয়ার বিশেষ কোনো আয়োজন চোখে পড়ে না।
এখানে বরং ঈদের জায়গা দখল করেছে বড় দিন। সে সময়ের উদযাপন ঈদের উদযাপনের মতো হয়। থার্টিফার্স্ট নাইটে পুরো দেশ আতশবাজিতে প্রকম্পিত হয়ে যায়। রাষ্ট্রীয় নানা আয়োজন থাকে চোখে পড়ার মতো। কিরগিজস্তানের সংসদ ভবনস্থ আলাতু স্কোয়ারে সে প্রস্তুতিও চলে দীর্ঘদিন ধরে; বড় বড় লাইটের সমারোহ। নাচ গান ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের নানা প্রস্তুতি থাকে।
১১ বছর বয়সী আবু বকরকে বললাম ঈদের জন্য কী কিনেছ? সে বললো, ঈদ কী? পরে অনেকক্ষণ কথা বলে বোঝালাম। কিন্তু তবুও দেখলাম, ঈদ নিয়ে এদের তেমন কোনো আগ্রহ নেই।
আমার পরিচিত সাবদান নামের এক কিরগিজ ভালো আরবি পারেন। তার সঙ্গে আরবিতে কথা হলো। তার একটি তথ্য আমাকে খুব অবাক করল। আজ ঈদের দিন রোববার গতানুগতিক সাপ্তাহিক ছুটি। আগামীকাল সোমবার নিয়মতান্ত্রিক অফিস-আদালত ও স্কুল-ভার্সিটি সবই খোলা।
সকাল সাড়ে সাতটায় ঈদের নামাজ পড়তে গেলাম। গতানুগতিক জুমার নামাজের মতোই লোকজনের উপস্থিতি। বাড়তি কোনো আয়োজন বা সাজসজ্জার চিহ্নমাত্র নেই।
আমার আরেকজন কিরগিজ বন্ধু রয়েছে। তার সঙ্গে আমার অনেক আন্তরিক সম্পর্ক। রাতে কথা হয়েছিল আমাকে নিয়ে এক মসজিদে যাবেন তিনি। সেখানে নাকি বড়সড় করে ঈদ উদযাপন হয়। কিন্তু সারাদিন পর তার ফোন খোলা পাওয়া গেল ঈদের দিন শেষে বিকেলে।
এই দেশে বৃহত্তম মসজিদ ধরা হয় তার্কিশ মসজিদকে। আমাদের মেডিকেলের অনেকেই সেখানে নামাজ পড়তে যায়। তাদেরকে জিজ্ঞেস করলাম, সেখানে স্থানীয় লোকদের ঈদ উদযাপন কেমন? তাদের উত্তরও একই। তবে কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেক, টোকমোক, জালাল আবাদ, নারিন, ওশ, উজকেন্দ, তালাস, বালিক্কি, কারাকোল, কারা বালতাসহ বিভিন্ন শহরের মসজিদগুলোতে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।
দেশে থাকার দিনগুলিতে মেহেদি-রাঙা হাতের কথা মনে পড়ে। কিন্তু এখানে হাত তো দূর কি বাত! পরিবর্তে হৃদয়কে বিবর্ণ করে আমার ঈদ হারিয়ে গেল একরাশ বিস্মিত জিজ্ঞাসার ভেতর। (বি. দ্র. : মতামত লেখকের নিজস্ব)
লেখক : শিক্ষার্থী, কিরগিজ ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, বিশকেক, কিরগিজস্তান।