নিউজ ডেস্ক:
শুক্রবার ০৪ এপ্রিল ২০২৫
বিএনপির কোনো কর্মীর ওপর ফুলের টোকা পড়লেও অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আইনের আশ্রয়ে আনতে হবে বলে দাবি করেছেন দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ।
ফরিদপুরের সালথায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দুপক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় আজ শুক্রবার ক্ষতিগ্রস্ত বিএনপি নেতা-কর্মীদের বাড়ি পরিদর্শনকালে তিনি এমন মন্তব্য করেন।শুক্রবার বিকেলে সংঘর্ষস্থল উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের মুরুটিয়া গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত বিএনপি নেতা-কর্মীদের বাড়ি পরিদর্শন করেন শামা ওবায়েদ। এ সময় স্থানীয় ও উপজেলা বিএনপির নেতারা তার সঙ্গে ছিলেন।
পরিদর্শনকালে তিনি ওই গ্রামের বাসিন্দা ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আফছার মাতুব্বরকে ঘটনার জন্য দায়ী করেন এবং তাকে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনকে অনুরোধ জানান।
তিনি বলেন, ‘যদি আফছার চেয়ারম্যান এই সমাজে সবার সঙ্গে মিলেমিশে থাকতে চায়, তাহলে তাকে দলমত নির্বিশেষে মিলেমিশে চলতে হবে। আর যদি এ ধরনের অন্যায় কাজ করে তাহলে তাকে আইনের আওতায় নেব।’
এই বিএনপি নেতা বলেন, ‘আমাদের বক্তব্য পরিষ্কার, বিএনপি কারো ওপর নির্যাতন করতে চায় না। কেউ যদি বেগম খালেদা জিয়ার, তারেক রহমানের কিংবা আমার কোনো নেতা-কর্মীর ওপর ফুলের টোকাও দেয়, তাহলে তাকে আইনের আশ্রয় নিতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা সালথায় শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান চাই। সেই শান্তি যদি কেউ বিনষ্ট করে, অশান্তি তৈরি করে, তাদের কাউকে প্রশাসনের ছাড় দেওয়া উচিত নয়।’
স্থানীয় বিএনপি নেতা মিন্টু মিয়াকে নিরাপরাধ দাবি করে তিনি বলেন, ‘মিন্টুর দোষ ছিল রোজার মাসে বিএনপির ইফতার পার্টিতে যোগ দেওয়া। এ কারণে নিরাপরাধ লোকের বাড়িতে হামলা হয়েছে, এটা মেনে নেওয়া যায় না।’
এ সময় তিনি নেতা-কর্মীদের ধৈর্য ধারণ করার আহ্বান জানান। এছাড়া এ ঘটনার সঙ্গে দলীয় নেতা-কর্মীরা কেউ জড়িত থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানান তিনি।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে কথা হয় ইউপি চেয়ারম্যান আফছার মাতুব্বরের ছেলে ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা নাজমুল হোসেনের সঙ্গে। তিনি দাবি করেন, ‘আমার বাবা দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ থাকায় ঘরে রয়েছেন। তিনি কেন (হামলার) নেতৃত্ব দিতে যাবেন,চাঁদা চাওয়া নিয়ে ঘটনাটি ঘটেছে।’
এর আগে, বৃহস্পতিবার সালথা উপজেলায় এক বিএনপি নেতাকে চাঁদা না দেওয়াকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় উভয়পক্ষের বাড়িঘর ভাঙচুর ও এক আওয়ামী লীগ সমর্থক কৃষকের ঘরে আগুন দেওয়া হয়। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন।
উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের মুরুটিয়া গ্রামে দফায় দফায় এ সংঘর্ষ হয়। এতে একপক্ষের নেতৃত্ব দেন ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি হারুন মিয়ার ছেলে মিন্টু মিয়া এবং অপরপক্ষের নেতৃত্ব দেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান আফছার মাতব্বরের অনুসারী আওয়ালী লীগকর্মী বেলায়েত মোল্যা।