কোটা আন্দোলন তখন সবে দানা বাঁধছে। ঢাকা থেকে ছড়িয়ে পড়ছে সারাদেশে। এর মধ্যে রংপুরে শহিদ আবু সাইদের মৃত্যু ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরিয়ে দেয় আন্দোলনের মোড়। যা শেষ পর্যন্ত পৌঁছে স্বৈরাচার হাসিনা সরকারের পদত্যাগ পর্যন্ত। দেশের সংকটপূর্ণ এ সময়ে আন্দোলনে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মাঠে নামে সাধারণ আলেমসমাজ ও কওমি মাদরাসার ছাত্ররা।
কৌশলগতভাবেই শুরুতে জুব্বা পাঞ্জাবি পরে মাঠে নামেননি তারা। কোনোভাবেই হাসিনা সরকার যেন যৌক্তিক এই আন্দোলনকে জঙ্গি আন্দোলন হিসেবে না দেখাতে পারে, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতার পরিচয় দিয়েছেন আলেম–ওলামারা। কিন্তু আন্দোলন গভীর থেকে শুরু করলে ছদ্মবেশ ভেঙে সরাসরি জুব্বা টুপি নিয়েই মাঠে নামেন। কোনো লুকোচুরি নেই, নেই কোনো সংশয়-সন্দেহ। অন্যায়র প্রতিবাদকে ঈমানি দায়িত্ব জ্ঞান করে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে গেছেন সবাই।
ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ তিনটি পয়েন্ট—যাত্রাবাড়ি, মোহাম্মদপুর, উত্তরা। তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বারও। এ তিন পয়েন্টেই আন্দোলনে দারুণ ভূমিকা রেখেছে মাদরাসার ছাত্ররা। যাত্রাবাড়িতে সাধারণ আবাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তেমন নেই। কিন্তু আছে অগণিত মাদরাসা। ইন্টারনেট বন্ধের দিনগুলোতে রিজার্ভ ফোর্সের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন তারা। কারফিউর মাঝেও সাধারণ জনতাকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যান আলেম-ওলামা ও মাদরাসার ছাত্ররা।
উত্তরায় প্রাইভেটের ছাত্রদের সঙ্গে মাঠে নেমেছিল বারিধারা থেকে শুরু করে উত্তরার অনেক মাদরাসার ছাত্ররা। ১৫-১৬ তারিখে যখন প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা মাঠে নামে তখন নতুন বাজারে আন্দোলনকারী ছাত্রদের জন্য পানি ও সরবতের ব্যবস্থা করেন বারিধারা মাদরাসার ছাত্ররা। প্রশাসনিক বাধা আসলেও ছাত্রদের সহযোগিতা ও মাঠে প্রতিরোধ গড়ে তোলা থেকে পিছপা হননি তারা। মোহাম্মদপুরেও ঘটেছে একই ঘটনা। সেসময় জামিয়া আজিজিয়াসহ বিভিন্ন মাদরাসার ছাত্ররা স্থানীয় আওয়ামী নেতাদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে মাঠে সক্রিয় থাকেন।
শুধু মাঠেই না! আন্দোলনের শুরু থেকে জনমত গড়তে অনলাইন–অফলাইনে চেষ্টা চালিয়ে গেছেন। জুমার আলোচনায় জুলুমের বিষয়ে স্পষ্ট বক্তব্য দিয়েছেন। সেসময় রাজধানীর বেশ কজন খতিবকে জোরপূর্বক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি ও পুলিশের জেরার মুখোমুখি করা হয়। তাছাড়া আলেম–ওলামা ও মাদরাসার ছাত্রদের এই আন্দোলন শুধু ঢাকাতেই থেমে থাকেনি, মাঠে নেমেছে চট্রগ্রামের হাটহাজারি, পটিয়া থেকে শুরু করে দেশের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে থাকা মাদ্রাসার ছাত্র শিক্ষকরা।
আমারদেশ ২৪ ডেস্ক।









