নোটিশ: বকেয়া পরিশোধ না হওয়ায় সাইটটি শীঘ্রই সাসপেন্ড হয়ে যাবে, অনুগ্রহ পূর্বক যোগাযোগ করুন। ধন্যবাদ।

চট্টগ্রামে বিআরটিএ ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে গ্রাহকদের ভোগান্তি।

নিজস্ব প্রতিবেদক।
বুধবার ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫
হাটহাজারী আমান বাজার নতুন পাড়া চট্টগ্রামে বাংলাদেশ রোড ট্র্যান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) অফিসে ব্যপক দুর্নীতির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এবার ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়ন বা নতুন ইস্যুর ক্ষেত্রে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অনৈতিক সুবিধা আদায়ের জন্য নানা অযুহাতে সেবাপ্রার্থীদের হয়রানি করা হয়। উৎকোচ দিলে সহজে কাজ হলেও ঘুষ না দিলে চরম ভোগান্তীর মুখোমুখি হতে হয় বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। একই লাইসেন্সের টাকা একাধিকবার জমা নেয়া, লাইসেন্স ইস্যু হওয়ার পর ডেলিভারি না দিয়ে তথ্য গোপন করে আবারো টাকা জমা নেয়ার অভিযোগ রয়েছে এই শাখার বিরুদ্ধে। এমনকি মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে টাকা জমাদানের ক্ষেত্রেও কৌশলে লেইট ফি আদায়ের নামে হয়রানি করছে বলে জানা গেছে।

জানা যায়, হাটহাজারী থানার নতুনপাড়া এলাকায় অবস্থিত বিআরটিএ অফিসে নতুন লাইসেন্স ইস্যু বা নবায়ন করতে কমপক্ষে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা ঘুষের বিনিময়ে চুক্তি করতে হয়। দালাল, পিয়ন বা অসিার কারো না কারো সাথে চুক্তি হলেই হলো, আর চুক্তি না হলে ফেল করানো হয়। মাসে ১৫ টি বোর্ড বসে, প্রত্যেক বোর্ডে ১৬০ জনের ভাইবা হয় তারমধ্যে ১২০/১৩০ জনকে পাশ করানো হয়। যারা পাশ করে প্রত্যেকেই কোননা কোনভাবে তদবীর করে পাশ করতে হয়। এই খাত থেকে প্রতি মাসে ঘুষ আসে প্রায় ১ কোটি টাকা।  প্রতি বোর্ডের ১০/১২ জন সদস্য ছাড়াও আদায়কৃত ঘুষের টাকা পিয়ন থেকে উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের পকেট পর্যন্ত পৌছাচ্ছে বলে সূত্র দাবি করছে।
আবার বিআরটিএ অফিসের স্টাফ বা দালালের চাহিদামতো ঘুষ না দিলে বছরের পর বছর হয়রানির শিকার হতে হয়। সম্প্রতি এমন একটি ঘটনা নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও বিআরটিএ চেয়ারম্যান বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন চট্টগ্রামের নূরুল আবছার আনছারী নামের এক ভুক্তভোগী। বিআরটিএ অফিসের লোকজন বিভিন্ন সেবাপ্রার্থীদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করছেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
অভিযোগে তিনি আরো বলেন, পেশাদার মোটর ড্রাইভিং লাইসেন্স নং সিজি০১৩৭৩২০সিএল০০০৯ এর মেয়াদ ছিল ২৮/২/২০২২ পর্যন্ত। নবায়নের জন্য বিআরটিএ, চট্টগ্রাম অফিসে গেলে কর্তৃপক্ষের পরামর্শে এনআরবিসি ব্যাংক বিআরটিএ বুথে লাইসেন্স নবায়ন বাবদ ২,৪৮৪ টাকা এবং পেশাদার থেকে অপেশাদার করার ফি বাবদ ২৩০ টাকাসহ মোট ২৭১৪ টাকা বিগত ২৪/২/২২ জমা দেন। একইদিনে “পেশাদার লাইসেন্স হইতে অ-পেশাদার লাইসেন্সে রূপান্তর করার জন্য আবেদন জমা দিলে, আবেদনকারীর আবেদনের পরিপেক্ষিতে ও সংশোধনী ফি ২৩০ টাকা জমা দেওয়ায়, লাইসেন্সটি পেশাদার থেকে অপেশাদার হিসেবে লিপিবদ্ধ করা হলো” উল্লেখে করে প্রাপ্তি স্বীকার করে পত্র দেন বিআরটিএ। লাইসেন্স নবায়নের জন্য কর্তৃপক্ষের বিলিকৃত সেকশন এ এন্ড বি ফরম পুরণ করে জমা দেন। কাগজপত্র যাচাই-বাছাইয়ের পর, হাই সিকিউরিটি ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদানের লক্ষ্যে ওই বছরের ৭ জুলাই আঙ্গুলের ছাপ ও ছবি উঠানোর নিমিত্তে স্ব-শরীরে উপস্থিত হওয়ার জন্য “প্রাপ্তি স্বীকার রশিদ” প্রদান করেন। এরপর থেকে বিভিন্ন তারিখ দেওয়া শুরু করেন। ২/৩ বছরে বেশ কয়েকটি তারিখ দিলেও হয়রানী ছাড়া কাজের কাজ কিছুই হয়নি।
সর্বশেষ চলতি বছরের ২৫ এপ্রিল বিআরটিএ অফিসে গেলে আবারো ২০৭০  (লেইট ফিসহ) টাকা জমা দিয়ে অনলাইনে নতুন করে আবেদন করতে বলে। আগের জমাকৃত ২৭১৪ টাকার হিসাব চাইলে ওই টাকার কোন হদিস নেই বলে জানায়। এরপরেও হয়রানী থেকে বাঁচতে ৪৫৫৭ টাকা বিকাশের মাধ্যমে জমা দিয়ে নতুন করে অনলাইনে আবেদন  করেন।
নুরুল আফছার আনছারী বলেন, দুঃখজনক হলেও সত্য যে, আমার লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হওয়ার ৪/৫ দিন পূর্বে ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা জমা দিলেও বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ আমার কাছ থেকে লেইট ফিসহ ৪৫৫৭ আদায় করেছে। আমার গত ২০/৪/২০২৫ তারিখ প্রাকটিক্যাল টেস্ট, ৯/৩/২০২৫ তারিখ ডোপ টেস্ট হওয়ার পর আমার ই-ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যুর তারিখ লেখা আছে ৩০ জানুয়ারী ২০২৫ এবং মেয়াদ লেখা আছে ২৯ জানুয়ারী ২০৩০ ইংরেজী। এসব হয়রানি থেকে মুক্তি পাওয়ার একটা পথ তৈরি হওয়া দরকার বলে আমি মনে করি।
এবিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বিআরটিএ’র লাইসেন্স শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারি পরিচালক (এডি) মো. ওমর ফারুক দালাল, হয়রানি ও ঘুষ বাণিজ্যের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আমাদের অফিসে কোন দালাল নেই, কাউকে হয়রানি করা হয় না। যথাসাধ্য সেবা দেয়ার চেষ্টা করছি।

 

আরও পড়ুন