আমারদেশ২৪ ডেস্ক।
মঙ্গলবার ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫
মধ্যবিত্ত বা নিম্ন মধ্যবিত্তের জন্য গাড়ির মালিক হওয়া অনেকটা স্বপ্নের মতো। অথচ শত কোটি টাকার বিলাসবহুল বা দামি গাড়ির মালিক হয়েও এক শ্রেণির করদাতা বছরের পর বছর সরকারকে কোটি কোটি টাকার কর থেকে বঞ্চিত করে আসছেন।
সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) তথ্য যাচাই করে ৫ হাজার ২৮৮টি বিলাসবহুল গাড়ির সন্ধান পেয়েছে এনবিআরের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল- সিআইসি। উচ্চমূল্যের গাড়ি ক্রয় করলেও তা গোপন করে আয়কর ফাইলে না দেখানো কিংবা রিটার্ন দাখিল না করা এমন ২ হাজার ৫৬৯টি সুনির্দিষ্ট বিলাসবহুল গাড়ির খোঁজ পেয়েছে সংস্থাটির গোয়েন্দা দল। এর বেশির ভাগই উচ্চপর্যায়ের ব্যবসায়ী, রাজনীতিক, প্রভাবশালী ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের সদস্যদের নামে নিবন্ধিত। অথচ গাড়ি ক্রয়ের অর্থের উৎস কিংবা করের তথ্য কোথাও দেখানো হয়নি।
এনবিআরের গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুসারে খোঁজ পাওয়া পাঁচ হাজার ২৮৮টি দামি ও বিলাসবহুল গাড়ির মধ্যে দুই হাজার ৭১৯টি গাড়ি করদাতা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান আয়কর রিটার্নে দেখিয়েছেন। এক হাজার ৩৩৯টি গাড়ি আয়কর রিটার্নে দেখানো হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর অঞ্চলের সার্কেল থেকে গাড়ি ও গাড়ির বিনিয়োগ না দেখানো এসব আয়কর নথি পুনরায় উন্মোচন করা হয়েছে। ৪০৯টি গাড়ির মালিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান রিটার্নই দাখিল করেননি। ৪৪২টি গাড়ির মালিক গাড়ির মালিকানা হস্তান্তর করেছেন। তবে, তারা সঠিকভাবে গাড়ির বিনিয়োগ কর ফাইলে দেখিয়েছেন কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে
যেমন: গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুসারে, চট্টগ্রামের কর অঞ্চল-১ এর অধীনে বিআরটিএ’র নিবন্ধন পাওয়া ১৫২টি বিলাসবহুল গাড়ির খোঁজ পাওয়া যায়। এর মধ্যে আয়কর ফাইলে প্রদর্শন না করা ৭০টি গাড়ির মধ্যে ২১টি গাড়ি নিবন্ধন নিয়েছে একটি বহুজাতিক পেইন্ট বা রং কোম্পানি। এই গাড়িগুলো বিআরটিএ-তে নিবন্ধিত থাকলেও কোম্পানিটি আয়কর রিটার্নে তা দেখায়নি। ওই কর অঞ্চলের কয়েকটি সার্কেলের আরও ২৯টি গাড়ির সন্ধান মিলেছে, যারা তথ্য গোপন করেছেন। কোম্পানিগুলোর মধ্যে রড ও স্টিল প্রস্তুতকারী কোম্পানি, সিমেন্ট কোম্পানি, পোশাক কারখানা ও ফাইন্যান্স কোম্পানি রয়েছে। বাকি ২০টি গাড়ির মালিক কয়েকজন ব্যক্তি করদাতা, যাদের বেশিরভাগই ব্যবসায়ী। আর সাতটি বিলাসবহুল নিবন্ধিত গাড়ির মালিক রিটার্নই দাখিল করেননি।
amardesh24 desk
একটি বিলাসবহুল ল্যাম্বরগিনি গাড়ির তথ্য পাওয়া গেছে। বাংলাদেশে শুল্ক ও করের কারণে এই গাড়ির দাম ৩০ কোটি টাকার বেশি হতে পারে / ছবি- সংগৃহীত
এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করে এনবিআরের ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা ঢাকা পোস্টকে বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এনবিআরের এই কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা উচ্চমূল্যের কিছু গাড়ির নিবন্ধন সংক্রান্ত তথ্য বিআরটিএ’র ডাটাবেজ থেকে সংগ্রহ করে। এসব গাড়ির দাম কয়েক কোটি টাকা হলেও বড় অঙ্কের রাজস্ব ফাঁকি রয়েছে। শুধুমাত্র কর ফাঁকি থেকেই প্রতি বছর কয়েক’শ কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। শুধু কর ফাঁকি নয়, রয়েছে অর্থপাচারের প্রমাণও। বড় বড় কোম্পানি ও প্রভাবশালীরা এই গাড়িগুলো ব্যবহার করলেও সরকারের চোখ ফাঁকি দিচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মিথ্যা তথ্য দেওয়ার কারণে আর্থিক শাস্তির পাশাপাশি ফৌজদারি অপরাধেও অভিযুক্ত হতে পারেন তারা।
গোয়েন্দা চোখে ৫২৮৮টি গাড়ির বর্তমান চিত্র
এনবিআরের গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুসারে খোঁজ পাওয়া পাঁচ হাজার ২৮৮টি দামি ও বিলাসবহুল গাড়ির মধ্যে দুই হাজার ৭১৯টি গাড়ি করদাতা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান আয়কর রিটার্নে দেখিয়েছেন। এক হাজার ৩৩৯টি গাড়ি আয়কর রিটার্নে দেখানো হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর অঞ্চলের সার্কেল থেকে গাড়ি ও গাড়ির বিনিয়োগ না দেখানো এসব আয়কর নথি পুনরায় উন্মোচন করা হয়েছে। ৪০৯টি গাড়ির মালিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান রিটার্নই দাখিল করেননি। ৪৪২টি গাড়ির মালিক গাড়ির মালিকানা হস্তান্তর করেছেন। তবে, তারা সঠিকভাবে গাড়ির বিনিয়োগ কর ফাইলে দেখিয়েছেন কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। ১৮৮টি গাড়ির মালিক রিটার্নে গাড়ি প্রদর্শন করলেও তাতে কোনো কর ফাঁকি হয়েছে কি না, তা পুনরায় তদন্ত করা হচ্ছে। আর ১৪৮টি গাড়ি চলতি করবর্ষে আয়কর রিটার্নে দেখানোর কথা। অর্থাৎ এসব গাড়ি ২০২৪-২৫ করবর্ষে কেনা ও নিবন্ধন হয়েছে। ফলে এসব গাড়ি কেনা ও গাড়ির বিনিয়োগ চলতি ২০২৫-২৬ করবর্ষের রিটার্নে দেখানোর কথা। সংশ্লিষ্ট সার্কেলকে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ৬৭ (১২) অনুযায়ী ৪৩টি গাড়ির আয় খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট করদাতার আয়কর নথি পুনরায় উন্মোচন করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।









