টাইগারদের আবুধাবি পর্ব শেষ, বুধবার দুপুরে দুবাইয়ের উদ্দেশে রওনা করে বাংলাদেশ দল। তাড়াহুড়ো ছিল, কারও মুখে ক্লান্তির ছাপ, কারও চোখে আবার অদ্ভুত এক প্রত্যাশা। সুপার ফোরে খেলার সমীকরণ এখন আর লিটন দাসের দলের হাতে নেই। আফগানিস্তান-শ্রীলঙ্কা ম্যাচই নির্ধারণ করবে বাংলাদেশের ভাগ্য। এমন সময়ে দলের নায়ক নাসুম আহমেদের মুখে ফুটে উঠল এক ভিন্ন সুর-‘যেটা কপালে আছে, সেটাই হবে।’
মঙ্গলবার রাতে আফগানিস্তানকে হারানো ম্যাচের গল্পটা রূপকথার মতো। বাংলাদেশ ছিল দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া এক দল। জয় ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না। সেখানেই একাদশে ফেরা নাসুম বল হাতে নামেন অগ্নিপরীক্ষা দিতে। ইনিংসের প্রথম বলেই এলবিডব্লিউ করে ফেরান সেদিকউল্লাহ আটালকে। কিছুক্ষণের মধ্যেই ফেরান ইব্রাহিম জাদরানকে। কেবল দুই উইকেট নয়, তার প্রথম স্পেলই মূলত বানিয়ে দেয় ম্যাচের ভিত। ১১ রানে ২ উইকেট- এই বোলিংয়েই ম্যাচসেরার পুরস্কার উঠেছে তার হাতে।
কিন্তু ক্রিকেট তো কেবল মাঠের ভেতরের খেলা নয়। মাঠের বাইরের হিসাব-নিকাশই এখন বাংলাদেশের জন্য বড় চিন্তার কারণ। নেট রান রেটের জটিল সমীকরণে জড়িয়ে গেছে দল। আফগানিস্তান যদি শ্রীলঙ্কাকে হারায়, তবে নির্ভর করতে হবে লঙ্কানদের বড় ব্যবধানে হারার ওপর। আর শ্রীলঙ্কা জিতলে বাংলাদেশ কোনো ঝামেলা ছাড়াই পৌঁছে যাবে সুপার ফোরে।
কঠিন এই অঙ্ক নিয়ে কী ভাবছেন নাসুম। টিম হোটেলের বাইরে গণমাধ্যমকর্মীরা যখন প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন, তিনি হেসেই বললেন, ‘যে ভালো খেলবে, সেই জিতবে। এগুলো নিয়ে আমি একদমই চিন্তা করছি না। যা কপালে আছে, সেটাই হবে।’
বাংলাদেশ দলের সমর্থকরা হয়তো চায়, নাসুম খোলাখুলিভাবে শ্রীলঙ্কার জয় কামনা করুক। কিন্তু বাঁহাতি স্পিনারের কণ্ঠে তার উল্টোটাই শোনা গেল। নির্দিষ্টভাবে কাউকে সমর্থন করার প্রয়োজন তিনি দেখেন না, ‘আমরা তো কাউকে নিয়ে বসে থাকতে পারি না। নির্দিষ্টভাবে কাউকে সমর্থন করাও ঠিক মনে করি না। যেটা লেখা আছে কপালে সেটাই হবে। তাই এটা নিয়ে বাড়তি কিছু ভাবছি না।’
দলের বাকি ক্রিকেটারদের মতোই এখন তিনিও অপেক্ষায়। অপেক্ষা আফগান-শ্রীলঙ্কা ম্যাচের ফলাফলের। তবে এই অপেক্ষায় হতাশা নয়, বরং লুকিয়ে আছে আত্মবিশ্বাস। আফগানিস্তানের বিপক্ষে এই জয় বাংলাদেশ দলকে ফিরিয়ে দিয়েছে লড়াইয়ের মানসিকতা। বৃষ্টিভেজা আবহাওয়ার মতো অনিশ্চয়তার মাঝেও দল যেন খুঁজে পেয়েছে আলোর ঝলক।
সুপার ফোরে বাংলাদেশ উঠবে কি না তা নির্ধারণ করবে আবুধাবির আরেকটি ম্যাচ। তবে ক্রিকেটপ্রেমীরা মনে রাখবে যে মঙ্গলবার রাতে আফগানদের বিপক্ষে নাসুমরা আবারও প্রমাণ করে দিলেন- ‘চাপে পড়ে বাংলাদেশ যেমন লড়তে জানে, তেমনি ভরসা খুঁজে নেয় নিয়তির কাছেও।’
নাসুম দেখিয়ে দিয়েছেন কীভাবে বীরের মতো লড়তে হয়। বাংলাদেশকে পথ দেখিয়েছেন তিনি। কিন্তু বাংলাদেশের এশিয়া কাপ যাত্রা যদি এখানেই শেষ হয়ে যায় তবে নিজেদের প্রমাণের জায়গা হয়তো হারিয়ে ফেলবে লিটনরা। আর সেজন্যই শ্রীলঙ্কার দিকে তাকিয়ে থাকা ছাড়া আপাতত কোনো উপায় নেই। তবে এশিয়া কাপের মঞ্চে না হলেও আফগানদের বিপক্ষে নিজেকে প্রমাণের সুযোগ পাবেন নাসুম। এশিয়া কাপ শেষ হলেই দুবাইয়ে আফগানিস্তানের বিপক্ষে সাদা বলের সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। সেখানে নাসুম প্রমাণ করবেন নিজেকে। তবে এশিয়া কাপের মতো মঞ্চে সেই সুযোগটা যেন তিনি পান সেজন্য খুব করে হলেও শ্রীলঙ্কার জয়টা চাইবেন। তাই তো মাঠে খেলবে শ্রীলঙ্কা আর লঙ্কানদের গায়ে থাকবে অদৃশ্য বাংলাদেশের জার্সি।









