সাতকানিয়ায় বন্ধক রাখা স্বর্ণ ফেরত না দেওয়াকে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটির জেরে অটোরিকশা চালক ছেলের ছুরিকাঘাতে কৃষক বাবা নিহত হয়েছেন এর আগে রোববার রাতে উপজেলার কাঞ্চনা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর কাঞ্চনা নয়াপাড়া এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত আহমেদ হোসেন (৫২) ওই এলাকার জলিল বক্সের ছেলে। ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পালিয়ে যাওয়া ঘাতক ছেলে রিয়াদ হোসেন (২২) কে বাঁশখালী উপজেলার পুকুরিয়া চৌমুহনী বাজার থেকে স্থানীয় জনতা আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।
স্থানীয় বাসিন্দা, পুলিশ ও কাঞ্চনা ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আবু তৈয়ব জানান, বিয়ের পর থেকে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বাবা-ছেলের মধ্যে প্রায়ই বিরোধ লেগে থাকত। এক পর্যায়ে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীসহ রিয়াদকে ঘর থেকে বের করে দেন তার বাবা। পরে পাশের এলাকায় ভাড়াবাসায় থাকতে শুরু করে রিয়াদ। ১৫ দিন আগে তার স্ত্রী সন্তানের জন্ম দেয়।
রোববার রাতে বিরোধ মীমাংসা করতে চাচাদের উপস্থিতিতে পারিবারিক বৈঠক বসে। বৈঠকে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে বাবা টর্চ ও শারীরিক আঘাত করলে ক্ষিপ্ত হয়ে রিয়াদ হাতে থাকা ছুরি দিয়ে বাবার গলায় আঘাত করে পালিয়ে যায়।
পরে গুরুতর আহত অবস্থায় আহমেদ হোসেনকে সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মিরাজ বলেন, “ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গলার ডান পাশে গুরুতর জখমের ফলে রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালে আনার আগেই তিনি মারা যান।”
গ্রেপ্তারের পর রিয়াদ জানান, তিনি ৬ বছর প্রবাসে ছিলেন। মা’য়ের অ্যাকাউন্টে ৩০-৩৫ লাখ টাকা পাঠালেও বাবা তা দিয়ে আলাদা খামার ও বাগান গড়ে তোলেন। বিয়ের পর থেকে তাকে পরিবারের কাজে খাটানো হতো, টাকার হিসাব চাইলে ঝগড়া লেগে যেত। এক পর্যায়ে তাকে বাড়ি থেকে বের করা হয়।
তিনি আরও বলেন, “বিয়ের স্বর্ণ বন্ধক রেখে বাবা টাকা নিয়েছে। অনেকবার বলেও স্বর্ণ ফেরত না পাওয়ায় রোববার রাতে আবার কথা কাটাকাটি হয়। বাবা আমাকে টর্চ দিয়ে আঘাত করে ও কামড় দেয়। রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে হাতে থাকা ছুরি দিয়ে গলায় আঘাত করে ফেলি।
সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আবু মাহমুদ কাওসার জানান, নিহতের স্ত্রী বুলু আকতার বাদী হয়ে ছেলে রিয়াদকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেপ্তারের পর গতকাল সোমবার সকালে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি শেষে জেল হাজতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
আমারদেশ২৪নিউজ ।









