কক্সবাজারের বেপরোয়া গতির যাত্রীবাহি মারছা পরিবহনের ১টি বাসের সঙ্গে বিপরীতমুখী নোহা মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে একই পরিবারের ৫ নারী পর্যটক নিহত হয়েছে। এসময় নোহা মাইক্রোবাস চালক, তাঁর বাবা ও শিশু ছেলেসহ ৩ জন আহত হয়েছেন।
সকাল ১০ টার দিকে কক্সবাজার চট্টগ্রাম মহাসড়কের চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালী হাঁসের দিঘিস্থ সেনাক্যাম্পের অদুরে ঢালা এলাকায় ঘটেছে এ সড়ক দুর্ঘটনা।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বাতিসা এলাকার এনামুল হকের স্ত্রী রুমানা আকতার (৬২), তাঁর মেয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমবিএ শিক্ষার্থী সাদিয়া হক (২৪), ছেলে আমিনুল হকের স্ত্রী লিজা (২৮), লিজার মা রাশেদা বেগম শিল্পী (৫০), তাঁর বোন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ছাত্রী ফারজানা মজুমদার (২৪)।
আহত ব্যক্তিরা হলেন এনামুল হক (৭২), তাঁর ছেলে মাইক্রোবাসের চালক আমিনুল হক (৪০) এবং আমিনুলের শিশুসন্তান সাদমান (৬)।
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আতিকুর রহমান বলেন, নিহতদের একজন নিকটআত্মীয় জান্নাতুল ফেরদৌসের বাড়ি চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নে। তিনি বুধবার দুপুুরে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে নিহতদের পরিচয় সনাক্ত করেছেন।
জান্নাতুল ফেরদৌস (৩৮) নামের ওই নারী জানিয়েছে, বুধবার ভোরে আমিনুল হক তাঁর স্ত্রী-সন্তান, মা-বাবা–বোন, শাশুড়ি ও শ্যালিকাকে নিয়ে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। তিনি নিজেই (আমিনুল হক) তাঁর ব্যক্তিগত নোহা মাইক্রোবাসটি চালাচ্ছিলেন। সকাল দশটার দিকে চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালী সেনাক্যাম্পের অদুরে ঢালা এলাকায় পৌঁছালে চট্টগ্রামমুখী মারছা পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
এতে ঘটনাস্থলে এবং হাসপাতালে নেয়ার পর আমিনুল হকের স্ত্রী, মা-বোন, শাশুড়ি ও শ্যালিকা মারা যান। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আমিনুল, তাঁর বাবা এনামুল হক ও তাঁর শিশু সন্তান সাদমান। তাদেরকে প্রথমে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়েছে।
চকরিয়া থানার ওসি তৌহিদুল আনোয়ার জানিয়েছেন, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বাতিসা এলাকার বাসিন্দা আমিনুল হক তাঁর স্ত্রী, শিশু মেয়ে, বৃদ্ধা মা-বাবা ও শ্বাশুড়ি, বিশ্বিবদ্যালয়ে পড়ুয়া বোন ও শ্যালিকাকে নিয়ে নিজের নোহা মাইক্রোবাসে করে কক্সবাজারের বেড়াতে যাবার পথে এ সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে।
চকরিয়া থানা পুলিশ, মালুমঁঘাট হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, যাত্রীবাহি মারছা পরিবহনের একটি বাস বুধবার সকালে কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রাম যাচ্ছিলেন। সকাল ১০টার দিকে চকরিয়ার ফাসিয়াখালী সেনাক্যাম্প এলাকা অতিক্রমকালে বাসের সঙ্গে কক্সবাজারমুখী পর্যটকবাহি প্রাইভেট নোহা মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে নোহা মাইক্রোবাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এসময় ঘটনাস্থলে ৩ নারী এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও ২ নারী মারা যায়। চকরিয়া উপজেলা সরকারি হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদেরকে মৃত্যু ঘোষণা করেন।









