জিয়েন্স এক্সপেডিশানের দাম বাংলাদেশে ৭১ হাজার ৫০০ টাকা, ভারতে ৫৪ হাজার ৫৮৩ টাকা।যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন সাইন্টিফিকের সিনার্জি রিংয়ের দাম ভারতে ৫৪ হাজার ৫৮৩ টাকা হলেও বাংলাদেশে এক লাখ ১৭ হাজার টাকা, প্রমাস এলিটের দাম ভারতে ৩২ হাজার ৯৫ টাকা, বাংলাদেশে ৭৯ হাজার টাকা।ভারতে তৈরি মেটাফর ব্র্যান্ডের স্টেন্টের দাম বাংলাদেশে ৪০ হাজার টাকা, ভারতে ৩২ হাজার ৯৫ টাকা। বায়োমাইম রিংয়ের দাম বাংলাদেশে ৪৫ হাজার টাকা, ভারতে যার দাম ৩২ হাজার ৯৫ টাকা।আয়ারল্যান্ডের তৈরি রিসোলুট ওএনওয়াইএক্স রিংয়ের দাম বাংলাদেশে এক লাখ ৪০ হাজার ৫০০ টাকা হলেও ভারতে ৫৪ হাজার ৫৮৩ টাকা। রিসোলুট ইন্টেগ্রিটির রিং দেশের বাজারে ৭৮ হাজার ৪০০ টাকা, ভারতে বিক্রি হয় ৩২ হাজার ৯৫ টাকায়।
জাপানের আল্টিমাস্টার তেনসেই রিংয়ের দাম বাংলাদেশে ৬৬ হাজার টাকা, ভারতে ৫৪ হাজার ৫৮৩ টাকা। সুইজারল্যান্ডের ওরসিরো ব্র্যান্ডের দাম বাংলাদেশে ৬৩ হাজার টাকা, ভারতে ৫৪ হাজার ৫৮৩ টাকা।
দুই দেশের তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বেশ কিছু ব্র্যান্ডের একই মানের রিংয়ের দাম ভারতের চেয়ে বাংলাদেশে বেশি। কিছু কোম্পানির রিংয়ের দাম দ্বিগুণ এবং কিছু রিংয়ের দাম প্রায় ৩ গুণ।
এছাড়া হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীর হার্টে রিং বসানোর নামে নানা অনিয়মেরও অভিযোগ রয়েছে। রোগীদের জিম্মি করে একটি চক্র, কিছু অসাধু চিকিৎসক ও কর্মচারীর যোগসাজশে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
রাজধানীর পুরান ঢাকায় বসবাস করা পঞ্চাশোর্ধ ফজলুর রহমান প্রায় বছর দুয়েক আগে বুকে ব্যথা অনুভব করলে মিটফোর্ড হাসপাতালে ভর্তি হোন। চিকিৎসকেরা তখন তাকে হার্টে রিং লাগানোর পরামর্শ দেন।
ফজলুর রহমানের রিং লাগানোর মতো আর্থিক সক্ষমতা না থাকার বিষয়টি চিকিৎসককে জানান। তখন চিকিৎসক তাকে কিছু নিধি নিষেধ, নিয়ম-কানুন মেনে চলার সঙ্গে কিছু ওষুধ নিয়মিত সেবনের পরামর্শ দিয়ে বলেন, সুযোগ পেলে যেন রিং লাগিয়ে নেন। তিন মাস পরে আবারও চিকিৎসকের কাছে গেলে তাকে আগের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ওষুধ চালিয়ে যেতে বলেন। ফজলুর রহমান এখনও মোটামুটি ভালো আছেন।
অভিযোগ রয়েছে, কারও কারও হার্টে রিং পরানোর প্রয়োজনীয়তা না থাকলেও কিছু অসাধু চিকিৎসক কমিশনের লোভে পড়ে রোগীদের রিং লাগিয়ে দেন অথবা রিং লাগানোর পরামর্শ প্রদান করেন। যদিও চিকিৎসকেরা এসব অভিযোগ একেবারেই অস্বীকার করেন।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা বলছেন, ফজলুর হার্টে যে পরিমাণ ব্লক ছিল, ওষুধ দিয়ে হয়তো তার চিকিৎসা করানো সম্ভব ছিল। তাই নিয়মিত ওষুধ খেয়ে তিনি এখন ভালো আছেন। তবে তাকে নিয়মিত একজন চিকিৎসকের পরামর্শ মোতাবেক চলতে হবে। কিছু অসাধু চিকিৎসক প্রয়োজন না থাকলেও ওষুধের পরিবর্তে রিং বসানোর জন্য উৎসাহিত করেন, যা একেবারেই নৈতিকতা বিরোধী।
কোনো রকম কমিশন প্রদানের কারণে রিংয়ের দাম কম বেশি হয় কি না জানতে চাইলে স্থানীয় একজন আমদানীকারক এবং মেডিকেল ডিভাইস ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমাদের রিংয়ের যে প্রাইসিং করা আছে, সেখানে রিটেলারদের জন্য একটা কমিশন দেওয়া আছে, হাসপাতাল।









