নাসির উদ্দিন নাসিরের পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো—
তিনি ছাত্রদলের অবিনশ্বর সম্পদ, দেশপ্রেমের উজ্জ্বল বহ্নিশিখা : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ইতিহাস যাদের নামে-সুনামে সমৃদ্ধ তাদের মধ্যে জনাব সালাহউদ্দিন আহমদ অগ্রগণ্য। সংগ্রাম ও সাধনায়, দেশাত্মবোধের অগ্নিপরীক্ষায় এবং আদর্শ ও ত্যাগে মহীয়ান একজন মানুষ হয়ে ওঠেন পথপ্রদর্শক। ছাত্রদলের সাবেক সোনালী সফল ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য জনাব সালাহউদ্দিন আহমদ তেমনই একজন বাংলাদেশপন্থী দেশপ্রেমিক রাজনীতিবিদ। দেশ ও জনগণের প্রতি তার অপরিসীম দরদ ও দায়বদ্ধতার প্রতিদানে জনতা তাঁকে ঘিরে স্বপ্ন আঁকে। তারই ফলশ্রুতিতে ভোটাররা বারবার বিপুল ভোটে তাকে বিজয়ী করে সংসদে পাঠিয়েছে। মেধা, প্রজ্ঞা এবং যোগ্যতায় তিনি অনন্য। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রত্যক্ষ মেন্টরশীপ ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের সাহচর্য জনাব সালাহউদ্দিন আহমেদকে পরিণত করেছে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদী শক্তির অন্যতম স্তম্ভ হিসেবে । তিনি বাংলাদেশের দেশপ্রেমিক শক্তির জন্য একটি অমূল্য সম্পদ।
আওয়ামী ফ্যাসিবাদ ও ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে তার আপোষহীন মনোভাব, সাহসী নেতৃত্ব এবং প্রখর বুদ্ধিমত্তার কারণে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ভীত হয়ে তাকে গুম করার নির্দেশ দেয়। শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ নির্দেশে সালাহউদ্দিন আহমদকে গুম করে নির্মম নির্যাতন করা হয়। গুম করার পরে শেখ হাসিনার দম্ভোক্তিতে প্রমাণ মেলে কতোটা ব্যক্তিগত আক্রোশ সে পুষে রেখেছিলো একজন সালাহউদ্দিন আহমদের বিরুদ্ধে । দীর্ঘ দুই মাস গুম করে রাখার পরে দেশের জনগণ এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর চাপে শেখ হাসিনা একসময়ে বাধ্য হয়ে মৃতপ্রায় সালাহউদ্দিন আহমেদকে ভারতের মাটিতে ফেলে আসে।
ভারতের কর্তৃপক্ষ তাকে গ্রেফতার করে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে মামলা দায়ের করে। তিনি জামিনে মুক্ত হতে দীর্ঘ আইনি লড়াই চালিয়ে যেতে থাকেন। জামিন পেলেও ভারতের আদালতের বিধিনিষেধের কারণে তিনি শিলং ত্যাগ করতে পারেননি। সেখানেই প্রকাশ্যে বসবাস করেন।
জনাব সালাহউদ্দিন আহমদকে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতি শুরু করে ধাপে ধাপে ত্যাগ ও বিশ্বস্ততার চুড়ান্ত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।দলের প্রায় সব পর্যায় অতিক্রম করে তিনি এখন বিএনপির সর্বোচ্চ ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে ছাত্রদলের প্রথম এবং এখন পর্যন্ত একমাত্র প্রতিনিধি। ভারতে নির্বাসিত থাকা অবস্থায়ও তিনি স্থায়ী কমিটির সবগুলো সভাতে নিয়মিত অংশগ্রহণ করতেন। বিভিন্ন সময়ে আন্দোলনের কর্মসূচিগুলো সমন্বয় করতেন। জুলাই আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের সময়েও তিনি সরাসরি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতাকর্মীদেরকে বিভিন্ন নির্দেশনা দিয়ে আন্দোলনকে বেগবান করতে ভূমিকা রাখতেন।
আমি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের শীর্ষ পর্যায়ে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে ব্যক্তিগতভাবে জনাব সালাহউদ্দিন আহমদকে একজন মননশীল মেন্টর হিসেবে পেয়েছি, যিনি সবসময় মনোবল ধরে রেখে আন্দোলন সংগঠিত করতে অনুপ্রাণিত করতেন। তিনি সবসময়ই বলতেন, অতিশীঘ্রই ফ্যাসিবাদের পতন ঘটবে। তার সাহচর্যে রাজনীতি করায় আমরা কখনো মনোবল হারাইনি। বরং উজ্জীবিত ও অনুপ্রাণিত হয়েছি।









