নিউজ ডেস্ক:
মঙ্গলবার, ৩ জুন, ২০২৫
বগুড়ার শেরপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মসূচিতে ককটেল হামলা ও মারপিটের মামলার এজাহারভুক্ত আসামি আওয়ামী লীগ নেতাকে আটকের পর ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের এক এসআইয়ের বিরুদ্ধে।
এর আগে সোমবার বিকেলে উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের ছোনকা বাজার এলাকা থেকে আওয়ামী লীগ নেতা আবু জাফর মজনুকে আটক করা হয়। পরে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে ঘণ্টাব্যাপী দেনদরবারের পর তাকে ছেড়ে দেন এসআই তোফাজ্জল হোসেন।ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর আন্দোলনের নেতাকর্মীসহ নানা শ্রেণীপেশার মানুষের তীব্র ক্ষোভ জানিয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৭ জুলাই দুপুরে শহরের ধুনট রোড বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মসূচিতে ককটেল হামলা ও শিক্ষার্থীদের বেধড়ক মারধর করা হয়। এই ঘটনায় গত ২ নভেম্বর উপজেলার শাহবন্দেগী ইউনিয়নের খন্দকারটোলা গ্রামের বাসিন্দা রিফাত সরকার বাদী হয়ে থানায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা করেন।
মামলায় ১৪৭ জনের নাম উল্লেখসহ আরও অজ্ঞাতপরিচয়ে অনেককে আসামি করা হয়। আর সেই মামলার অন্যতম আসামি হলেন বিশালপুর ইউনিয়নের গোয়াল বিশ্বা গ্রামের বাসিন্দা ও স্থানীয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা আবু জাফর মজনু। তিনি সোমবার বিকেলে ছোনকা বাজার এলাকায় ঘোরাঘুরি করছিলেন। গোপনে এমন সংবাদ পেয়ে মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা ও শেরপুর থানার এসআই তোফাজ্জল সেখানে উপস্থিত হন। একপর্যায়ে ওই নেতাকে আটক করেন। তাকে থানায় না নিয়ে ছেড়ে দেন তিনি।
অভিযোগ রয়েছে, আটকের পর থেকেই ওই আওয়ামী লীগ নেতাকে ছাড়তে তাদের স্বজনদের সঙ্গে দেনদরবার শুরু করেন পুলিশের ওই কর্মকর্তা। পরবর্তীতে মোটা অঙ্কের সুবিধা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এই ঘটনায় ক্ষোভ জানিয়ে বিশালপুর ইউনিয়ন বিএনপির ছয় নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক সিরাজ উদ্দিন বলেন, গত ১৬ বছর বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীদের ওপর জুলুম নির্যাতন চালিয়েছে আওয়ামী লীগ নেতা আবু জাফর মজনু। পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক মামলায় জড়িয়ে দলীয় নেতাকর্মীকে হয়রানি করেছেন তিনি। এমনকি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মসূচিতেও ককটেল হামলায় সরাসরি অংশ নেন। তার বিরুদ্ধে মামলা করেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী।
তিনি বলেন, পুলিশ তাকে আটক করলেও পরবর্তীতে ছেড়ে দিয়েছে। যা খুবই কষ্টকর ও দুঃখজনক। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানান বিএনটির এই নেতা।
উপজেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির সংগঠক রাশেদ সাহাদাত অভিযোগ করে বলেন, তোফাজ্জল হোসেনের বিরুদ্ধে এর আগেও এমন অভিযোগ শুনেছি। তার বিরুদ্ধে কেন এখনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি সেটি আমাদের বোধগম্য নয়। তবে এবারের অভিযোগ আমলে নিয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে দাবি জানাই।
অভিযুক্ত এসআই তোফাজ্জল নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, মামলার আসামি ওই আওয়ামী লীগ নেতাকে আটকের ঘটনাটি সঠিক। হাইকোর্ট থেকে জামিন নেওয়ার কারণে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তাই এ ক্ষেত্রে টাকা-পয়সা নেওয়ার অভিযোগ ভিত্তিহীন। তবে আটক হওয়া আওয়ামী লীগ নেতার জামিনের কাগজপত্র ও মেয়াদ সম্পর্কে জানতে চাইলে কোনো সদত্তোর দিতে পারেননি তিনি।শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঈনুদ্দিন বলেন, ঘটনাটি আমার জানা নেই। তবে এমনটি হয়ে থাকলে তা খুবই দুঃখজনক।









