আন্তজার্তিক ডেস্ক।
বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই, ২০২৫
২৫ শতাংশ হারে শুল্ক আরোপের পাশাপাশি ইরানের জ্বালানি তেল কেনার সঙ্গে জড়িত ৬টি ভারতীয় কোম্পানির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই সঙ্গে রাশিয়া, চীন ও ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যের শাস্তি দেওয়ারও হুমকি দিয়েছেন তিনি।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। তবে ওয়াশিংটনে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আলোচনার পর বাংলাদেশি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তারা শুল্ক ১০-২০ শতাংশের মধ্যে রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপে ভারসাম্য রক্ষা ও বাংলাদেশকে অনুকূল অবস্থানে আনার লক্ষ্যে ২৫টি বোয়িং উড়োজাহাজ অর্ডার, ৭ লাখ টন গম, এলএনজি, তুলা, ওষুধ, মূলধনী যন্ত্রপাতি, রাসায়নিক কাঁচামাল ও কৃষিজ পণ্য আমদানির ঘোষণা দিয়েছে ঢাকা। গত সোমবার পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দল ওয়াশিংটনের উদ্দেশে রওনা দেয়।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রস্তাব ছিল—যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি হওয়া পণ্যের ওপর শুল্কহার যেন ১০-২০ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। এই প্রস্তাবের পেছনে রয়েছে আন্তর্জাতিক নজির—ভিয়েতনাম ২০ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইন ১৯ শতাংশ, জাপান ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ১৫ শতাংশ এবং যুক্তরাজ্য ১০ শতাংশ হারে এমন সমঝোতায় পৌঁছেছে। বাংলাদেশের দাবি, এই পরিসরেই একটি যৌক্তিক ও প্রতিযোগিতামূলক হার নির্ধারণ সম্ভব।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক আলোচনার চূড়ান্ত দফার দ্বিতীয় দিনের বৈঠকে আশাব্যঞ্জক অগ্রগতি হয়েছে। আলোচনায় থাকা একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত শুল্ক হার ও প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে একটি বাস্তবসম্মত এবং পরিপূর্ণ সমঝোতায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা এখন প্রবল।
বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল মনে করছে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ‘পাল্টা শুল্ক কমার বিষয়টি শুধু নিশ্চিতই নয়’, বরং এটি হবে ‘সন্তোষজনক মাত্রায়।’ আলোচনায় যুক্ত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, ‘যেখানে দ্বিতীয় ধাপের আলোচনা শেষ হয়েছিল দ্বিধায়, সেখানে এই তৃতীয় ও চূড়ান্ত ধাপ একটি পরিষ্কার সংকেত দিচ্ছে—আমাদের অবস্থান মূল্যায়ন পেয়েছে।’
ভারতের ওপর আরোপিত শুল্ক খুব একটা কমার সম্ভাবনা নেই বলেই মনে করে আর্থিক ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান ‘নমুরা’। প্রতিষ্ঠানটি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে বলছে, ‘সবচেয়ে ভালো ফল হলেও হয়তো শুল্ক ১৫-২০ শতাংশে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে আলোচনায় রয়েছে। কিন্তু এত আলোচনার পরও যেহেতু শুল্ক কমেনি, তাই নতুন করে আলোচনার মাধ্যমে ভারত সেই বাধা কাটিয়ে উঠতে খুব একটা সফল হবে এমনটা মনে করে না নমুরা।
ইরানের পেট্রোলিয়াম ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য বাণিজ্যের অভিযোগে ৬ ভারতীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। স্থানীয় সময় গতকাল বুধবার দেশটির পররাষ্ট্র দফতর এই নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এসব ভারতীয় কোম্পানি ইরানি তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য কেনাবেচায় ‘গুরুত্বপূর্ণ লেনদেনের’ সঙ্গে জড়িত। তারা ইচ্ছা করেই মার্কিন নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করেছে।
নিষেধাজ্ঞা পাওয়া বাকি প্রতিষ্ঠানগুলো হলো— আলকেমিক্যাল সলিউশনস প্রাইভেট লিমিটেড, গ্লোবাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল কেমিক্যালস লিমিটেড, জুপিটার ডাই কেম প্রাইভেট লিমিটেড, রমনিকলাল এস গোসালিয়া অ্যান্ড কোম্পানি, প্রেসিডেন্ট পেট্রোকেম প্রাইভেট লিমিটেড ও কাঞ্চন পলিমারস।









