নিউজ ডেস্ক।
শ নিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৫
পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে নির্মিত বান্দরবানের বাসস্ট্যান্ড থেকে হাফেজঘোনা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল যাওয়ার পথে ৫০০ ফুট দৈর্ঘ্যের টানেলটি নির্মাণের কয়েক বছরের মধ্যেই ভাঙাচোরা ও অযত্নে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। দেয়ালে ফাটল, ভেতরে পানি চুঁইয়ে পড়া, ছোট-বড় গর্ত, কাদামাটি ও আলোর ব্যবস্থা না থাকায় টানেলটি এখন পথচারী ও গাড়িচালকদের জন্য ভয়ের কারণ হয়ে উঠেছে।
সরজমিনের গিয়ে দেখা যায়, টানেলে প্রবেশমুখে যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং, ভেতরে বাতি না থাকায় দিনদুপুরেও ভুতুড়ে অন্ধকার। বৃষ্টির সময় ফাটল দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ে রাস্তাজুড়ে জমে থাকে। গাড়ি চলাচলের কারণে রাস্তায় সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য গর্ত। অন্যদিকে পাহাড় থেকে মাটি ধসে একপাশে স্তূপ হয়ে পড়ে আছে। পথচারী ও স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের কাদামাটিতে ভিজে বিপদসংকুল পথ পার হতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, টানেলটি উদ্বোধনের দুই বছর না যেতেই দুই পাশে পাহাড় ধসে মাটি ভরাট হয়ে যায়। অপরিকল্পিত ও নিম্নমানের কাজের কারণে টানেলের দেয়ালে ফাটল ধরে, সেই ফাটল দিয়ে চুঁইয়ে পড়ছে বৃষ্টির পানি। ফলে রাস্তাজুড়ে পানি জমে তৈরি হয়েছে ছোট-বড় গর্ত, আর এতে ওই রুটে চলাচলকারীরা প্রতিনিয়ত চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
তারা অভিযোগ করে আরও বলেন, এ যেন সরকারের অর্থ লুটপাটের এক ঘোর উদাহরণ। স্থানীয়দের দাবি, এই পুকুরচুরি ধরনের দুর্নীতির সঠিক তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট দুর্নীতিবাজ প্রকৌশলী ও ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।
উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য মতে, প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে (২০১৮-২০২৩ অর্থবছরে) টানেলটি নির্মিত হয়। কাজ শুরু হয় ২০১৮-১৯ অর্থবছরে, শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২০ সালের জুনে। তবে দুই দফা বরাদ্দের পর ২০২৩ সালের অক্টোবরে কাজ শেষ হয়। এম এম ট্রেডার্স লাইসেন্স নামে প্রতিষ্ঠান কাজটি সম্পন্ন করে রাজু বড়ুয়া নামে ঠিকাদার। টানেলটি উদ্বোধন করেন তৎকালীন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর উ শৈ সিং, ২০২৩ সালের ২৭ অক্টোবর।
ওই রুটের পথচারী ইসলামপুর ৯নং ওয়ার্ডের মোহাম্মদ রেজা বলেন, টানেল দিয়ে যাতায়াতে এখন ভোগান্তি ছাড়া কিছু নেই। ভেতরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাব, লাইট না থাকায় মানুষ ভয়ে চলাচল করছে।









