নিউজ ডেস্ক।
রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ২ দফায় দীর্ঘ আলোচনার ভিত্তিতে জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫-এর খসড়া প্রণয়ন করা হলেও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে মতানৈক্যের কারণে তা এখনও চূড়ান্ত করতে পারেনি ঐকমত্য কমিশন। খসড়া সনদের অঙ্গীকারনামায় বলা হয়েছিল, আগামী নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সরকার পরবর্তী দুই বছরের মধ্যে সংস্কার প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন করবে। এ প্রস্তাবে বিএনপিসহ অধিকাংশ দল নীতিগতভাবে সম্মত হলেও আপত্তি ছিল জামায়াত ও এনসিপির। তাদের দাবি, নির্বাচনের আগেই অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে এ সনদের আইনি ও সাংবিধানিক ভিত্তি দিতে হবে। আইনি ভিত্তি না দিলে এ সনদে স্বাক্ষর করবে না বলেও জানিয়ে দেন এনসিপির নেতারা। এ দুটি দলের চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত জুলাই সনদের খসড়া অঙ্গীকারনামায় পরিবর্তন এনেছে ঐকমত্য কমিশন। বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনাও শুরু করেছে তারা। ফলে জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, সাংবিধানিক সংশোধনীগুলো বাস্তবায়নের বৈধ ফোরাম হলো জাতীয় সংসদ। এ সনদ বাস্তবায়নে সবাই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দেওয়ার পাশাপাশি সনদ বাস্তবায়নে দুই বছরের সময়সীমা নিয়েও তারা একমত। যারা বলছেন সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নে আইনি ভিত্তি নেই, তারা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। আগামী সংসদের মাধ্যমে আইনি ভিত্তি দিতে হবে।
তবে বিএনপির এ অবস্থানের সম্পূর্ণ বিপরীতে অবস্থান নিয়েছে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি। জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের গণমাধ্যমকে বলেছেন, জুলাই সনদে যদি আইনি ভিত্তি দেওয়া না হয় এবং এখন থেকে এটা বাস্তবায়ন না হয়, তা হলে দলগুলো যত জায়গায় ঐক্যবদ্ধ হয়েছে, সেগুলোর কোনো প্রতিফলন ঘটবে না। তার মতে, সংস্কার বাস্তবায়নে দেরি করা সুষ্ঠু নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র হতে পারে। এমনকি আইনি ভিত্তি না দিলে কমিশনের বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকিও দিয়েছে দলটি। আর বর্তমান সরকারের আমলেই সনদের আইনি ভিত্তি না দিলে এটি বাস্তবায়ন হবে না বলে মনে করছে এনসিপি। তাই তারা গণভোটের মাধ্যমে এর বাস্তবায়ন চাইছে।
আমারদেশ২৪ নিউজ।









