নিউজ ডেস্ক।
পবিত্র রমজান মাস শেষে মুসলিম উম্মাহর সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর উদযাপনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে। জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব ও চাঁদের অবস্থান বিশ্লেষণ করে চলতি বছর অধিকাংশ আরব দেশে একই দিনে ঈদ পালিত হওয়ার এক জোরালো পূর্বাভাস প্রকাশ করা হয়েছে।গতকাল মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) আমিরাত জ্যোতির্বিদ্যা সোসাইটির চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আল জারওয়ান এই সংক্রান্ত একটি সম্ভাব্য তারিখ ও তথ্যগত বিশদ বিবরণ তুলে ধরেন যা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সাধারণ মানুষের মধ্যে উৎসবের আমেজকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
ইব্রাহিম আল জারওয়ানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী এ বছর রমজান মাস পূর্ণ ৩০ দিন হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। সেই গাণিতিক হিসেবে শাওয়াল মাসের প্রথম দিন অর্থাৎ ঈদুল ফিতর আগামী ২০ মার্চ উদযাপিত হতে পারে। এই পূর্বাভাসটি মূলত সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ কাতার ও মধ্যপ্রাচ্যের পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর জন্য প্রযোজ্য হবে বলে মনে করা হচ্ছে। মহাকাশ গবেষণার তথ্যানুযায়ী ২৯তম রমজানের দিন সন্ধ্যায় আকাশে নতুন চাঁদ দৃশ্যমান হওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ হওয়ায় রোজা পূর্ণ হওয়ার বিষয়টিকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
তবে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণভাবে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল থাকবে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর চাঁদ দেখা কমিটি এবং ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট সময়ে পর্যবেক্ষণ শেষে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রদান করবে যা বিশ্ব মুসলিমদের জন্য চূড়ান্ত নির্দেশিকা হিসেবে গণ্য হবে। আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা আগাম ধারণা দিলেও ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আকাশ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমেই এই মহিমান্বিত উৎসবের সূচনা হবে। নিখুঁত হিসাব আর ধর্মীয় বিশ্বাসের সমন্বয়ে উৎসবের এই প্রতীক্ষা এখন প্রতিটি মুমিন হৃদয়ে এক বিশেষ দোলা দিচ্ছে।
দীর্ঘ এক মাসের সিয়াম সাধনা শেষে যখন ঈদের বাঁকা চাঁদ আকাশে উদিত হয় তখন তা কেবল একটি তারিখ নয় বরং হৃদয়ে প্রশান্তির এক অনন্য বার্তা নিয়ে আসে। ত্যাগের মহিমায় উজ্জ্বল হয়ে ওঠা প্রতিটি মানুষের মুখ যখন সম্প্রীতির আলোয় আলোকিত হয় তখন সেখানে কোনো ভেদাভেদ থাকে না বরং ফুটে ওঠে এক পরম ভ্রাতৃত্বের দৃশ্য। আমরা এমন এক আগামীর প্রত্যাশা করি যেখানে প্রতিটি উৎসব হবে আনন্দময় এবং প্রতিটি জনপদ হবে নিরাপদ ও কলুষমুক্ত। অন্ধকারের সকল বৈষম্য ও সংঘাত মুছে গিয়ে রহমতের নূরে আলোকিত হোক প্রতিটি ঘর এবং প্রতিটি মানুষ ফিরে পাক তার অনাবিল সুখ ও চিরস্থায়ী শান্তি। সাহসের সাথে এই সম্প্রীতির বন্ধন বজায় রেখেই আমাদের গড়ে তুলতে হবে এক সুশৃঙ্খল ও ভালোবাসাপূর্ণ বিশ্ব।
আমারদেশ২৪ নিউজ।









