রাজধানীতে অপরাধ দমন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং ট্রাফিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলি (ডিএমপি)। গত ২৪ ঘণ্টায় পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে আলোচিত কামরাঙ্গীরচরের ডাকাতি মামলার মূল পরিকল্পনাকারীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সময়ে মাদক উদ্ধার, ছিনতাই প্রতিরোধ, পরিত্যক্ত আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার, ট্রাফিক আইন প্রয়োগ এবং বিভিন্ন অপরাধে মোট ৩৮৭ জনকে আটক করা হয়েছে।
সম্প্রতি কামরাঙ্গীরচরের মাহদীনগর এলাকায় সংঘটিত আলোচিত ডাকাতির ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে পুলিশ। তদন্তে জানা গেছে, ভুক্তভোগী পরিবারের পরিচিত এবং একই ভবনের বাসিন্দা এক গৃহবধূ পুরো ডাকাতির পরিকল্পনা করেন এবং অপরাধীদের সহযোগিতা করেন।
গত ১৮ জুলাই সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিট থেকে ৭টা ৫০ মিনিটের মধ্যে রক্সি গলি সংলগ্ন একটি ১০ তলা ভবনের একটি ফ্ল্যাটে ঘটনাটি ঘটে। বাসা ভাড়া নেওয়ার কথা বলে পাঁচ সদস্যের একটি দল ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে। পরে সেখানে থাকা তিন নারীকে মারধর করে হাত-পা বেঁধে নগদ প্রায় ২০ লাখ টাকা, তিন ভরি স্বর্ণালঙ্কার এবং চারটি মোবাইল ফোন লুট করে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পরপরই কামরাঙ্গীরচর থানা পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান শুরু করে। বুধবার গভীর রাতে মুসলিমবাগ এলাকা থেকে প্রথমে মো. সজীব আলম (২৯) এবং পরে মো. রিপন মিয়া (৪২)কে গ্রেপ্তার করা হয়। রিপনের বাসা থেকে লুণ্ঠিত এক লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।
পরে তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী চাঁদ মসজিদ এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. ফারুক খান (৫০)কে আটক করা হয়। তার ভাড়া বাসা থেকে আরও এক লাখ টাকা এবং ডাকাতির সময় লুট হওয়া সব স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করে পুলিশ।
জিজ্ঞাসাবাদে উঠে আসে মূল পরিকল্পনাকারী জিয়াসমিন ওরফে জেসমিনের (৩৭) নাম। তিনি ভুক্তভোগীদের ভবনের সপ্তম তলায় থাকতেন এবং পরিবারের সঙ্গে সুসম্পর্কের সুযোগ নিয়ে বাসায় বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ থাকার তথ্য সংগ্রহ করেন। ঘটনার দিন তিনি নিজেই ডাকাতদের ভবনে প্রবেশ ও বেরিয়ে যেতে সহায়তা করেন। সন্দেহ এড়াতে ডাকাতির পর ভুক্তভোগীদের বাসায় গিয়ে সমবেদনা জানান এবং মামলার সাক্ষী হিসেবেও নিজের নাম অন্তর্ভুক্ত করেন।
এ ঘটনায় উদ্ধার হওয়া আলামতের মধ্যে রয়েছে দুই লাখ ২০ হাজার টাকা এবং এক জোড়া দুল, এক জোড়া বালা, একটি ব্রেসলেট, এক জোড়া চুড়ি, এক জোড়া ঝুমকা ও এক জোড়া পাশাসহ বিভিন্ন স্বর্ণালঙ্কার। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় মোট আটজন জড়িত। চারজন গ্রেপ্তার হলেও অন্যদের ধরতে অভিযান চলছে।
amardesh24.com









