নোটিশ: বকেয়া পরিশোধ না হওয়ায় সাইটটি শীঘ্রই সাসপেন্ড হয়ে যাবে, অনুগ্রহ পূর্বক যোগাযোগ করুন। ধন্যবাদ।

সর্বশেষ
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ভাইস চ্যান্সেলর পরিবর্তন করা হয়েছিল। কাল শনিবার চাঁদপুর যাচ্ছেন: প্রধান মন্ত্রী। দেশের বাজারে মুরগি ও ডিমের দাম বেড়েছে ব্রয়লার মুরগি ২০০ টাকা। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বাস্থ্য উপদেষ্টাকে বাঁচাতে এখন চুপ: তাসনিম জারা। বাংলাদেশ থেকে এখন পর্যন্ত ৫০ হাজার ৯৬ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। পশুর হাটগুলোতে জাল নোট শনাক্তকরণ বুথ স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কালিয়াকৈরে গরু চুরির অভিযোগে স্থানীয় জনতার গণপিটুনিতে ৩ জনের মৃত্যুর। হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করা ৩৫২ শিশুর। যুদ্ধবিরতির মাঝে মধ্যপ্রাচ্যের ৩ দেশ ড্রোন হামলা হয়েছে। হাসপাতালে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন রোগী পরিবার।

মানবজাতির অস্তিত্বের ওপর এক বিশাল হুমকি।

রোববার, ৬ জুলাই, ২০২৫
জীববৈচিত্র্য ধ্বংস কেবল প্রাকৃতিক বিপর্যয় নয়, এটি মানবজাতির অস্তিত্বের ওপর এক বিশাল হুমক। আমরা যে আত্মঘাতী পথে চলছি, তা থেকে সরে না দাঁড়ালে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এক অবসবাসযোগ্য পৃথিবীর সম্মুখীন হবে। জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা কোনো বিলাসিতা নয়, বরং এটি আমাদের বেঁচে থাকার অন্যতম শর্ত। আসুন, আমরা প্রকৃতির প্রতি দায়িত্বশীল হই, সচেতনভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ করি এবং জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের এই আত্মঘাতী প্রবণতা বন্ধ করে একটি সুস্থ ও সমৃদ্ধ পৃথিবীর স্বপ্ন দেখি। আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পারে এই পৃথিবীকে আবারও প্রাণের কোলাহলে ভরিয়ে তুলতে, যেখানে মানুষ এবং প্রকৃতি একসঙ্গে সহাবস্থান করবে।
পৃথিবী এক অসাধারণ জীবন্ত সত্তা, যেখানে প্রাণের বৈচিত্র্য এক জটিল অথচ সুসংহত জালের মাধ্যমে টিকে আছে। এই জীববৈচিত্র্য কেবল প্রকৃতির শোভা বর্ধন করে না, বরং এটি আমাদের অস্তিত্বের ভিত্তি। অক্সিজেন উৎপাদন থেকে শুরু করে পানি পরিশোধন, খাদ্য নিরাপত্তা থেকে নতুন ওষুধের উৎস- সবকিছুই জীববৈচিত্র্যের ওপর নির্ভরশীল। অথচ আমরা মানবজাতি সচেতন বা অচেতনভাবে এই অমূল্য সম্পদকে দ্রুত ধ্বংস করে চলেছি, যা প্রকারান্তরে আমাদের নিজেদের পায়ে কুড়াল মারারই শামিল। এই আত্মঘাতী প্রবণতা বন্ধ না হলে অদূর ভবিষ্যতে মানব সভ্যতা এক গভীর সংকটের মুখে পড়বে।
জীববৈচিত্র্য বলতে একটি নির্দিষ্ট বাস্তুতন্ত্রে, অঞ্চল বা পৃথিবীতে বিদ্যমান সব প্রকার প্রাণী, উদ্ভিদ, অণুজীব এবং তাদের জিনগত বৈচিত্র্যকে বোঝায়। এটি কেবল প্রজাতির সংখ্যাগত উপস্থিতি নয়, বরং তাদের মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ক, তাদের বাস্তুতান্ত্রিক ভূমিকা এবং অভিযোজন ক্ষমতাকেও অন্তর্ভুক্ত করে। বনাঞ্চল, জলাভূমি, পর্বত, মরুভূমি, মেরু অঞ্চল-পৃথিবীর প্রতিটি প্রান্ত তার নিজস্ব বৈশিষ্ট্য নিয়ে অনন্য জীববৈচিত্র্যের ধারক। প্রতিটি প্রজাতিই বাস্তুতন্ত্রে কোনো না কোনো ভূমিকা পালন করে। পরাগায়ন থেকে শুরু করে মৃত জৈব বস্তুর পচন, মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি থেকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রতিরোধ-সবকিছুই এই সুসংহত ব্যবস্থার অংশ।
কিন্তু বর্তমান সময়ে এই প্রাণের ভান্ডার মারাত্মক হুমকির সম্মুখীন। বিজ্ঞানীরা প্রতিনিয়ত নতুন নতুন প্রজাতির বিলুপ্তির খবর দিচ্ছেন, যা অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে দ্রুততর গতিতে ঘটছে।
বহুমুখী এবং একে অপরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত। নগরায়ণ, শিল্পায়ন,কৃষিজমির সম্প্রসারণ, রাস্তাঘাট নির্মাণ এবং বন উজাড়ের কারণে প্রাণী ও উদ্ভিদের প্রাকৃতিক বাসস্থান ধ্বংস হচ্ছে। বাসস্থান হারিয়ে প্রাণীরা খাদ্য ও আশ্রয় সংকটে ভুগছে, যা তাদের বিলুপ্তির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
অনেক সময় বাসস্থানগুলো ছোট ছোট খণ্ডে বিভক্ত হয়ে যায়, যা জীবপ্রজাতিগুলোর মধ্যে জিনগত আদান-প্রদান ব্যাহত করে এবং তাদের টিকে থাকার ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। বায়ু, পানি এবং মাটি দূষণ জীববৈচিত্র্যের জন্য এক নীরব ঘাতক।
উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণ ব্যাহত করছে এবং মাটির দূষণ অণুজীব ও কীটপতঙ্গকে মেরে ফেলছে। জীবাশ্ম জ্বালানির অত্যধিক ব্যবহার এবং বনাঞ্চল ধ্বংসের ফলে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় পৃথিবীর উষ্ণতা বাড়ছে।
 আমারদেশ২৪ নিউজ।

আরও পড়ুন