রাজশাহী উপজেলায় চলতি মৌসুমে পেঁয়াজ চাষাবাদ করে উৎপাদন খরচ উঠছে নাআজ বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) উপজেলার অন্যতম হাট হামিরকুৎসা ইউনিয়নের আলোকনগর হাটে মাত্র দুইশো টাকা মণ দরে কৃষকরা পেঁয়াজ বিক্রি করেন। এতে কৃষকরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
জানা যায়, সম্প্রতি পেঁয়াজের বাজার দর কম হওয়ায় কৃষকদের মাঝে হতাশা দেখা দিয়েছে। গত কয়েক হাট ৬/৭ শত টাকা মণ দরে বিক্রি হলেও হঠাৎ দাম কমে যাওয়ায় বেকায়দায় পড়েছেন কৃষকরা। বৃহস্পতিবার ভোর থেকেই লাইনের পর লাইন হয়ে শত শত মণ পেঁয়াজ ঢ়ুকতে থাকে আলোকনগর হাটে। কিন্ত ব্যবসায়ীরা মাত্র দুইশো থেকে তিনশো টাকা মণ দরে স্লিপ ধরিয়ে দেয়ায় হতাশ হয়ে পড়েন কৃষকরা।
রাঁয়াপুর গ্রামের কৃষক আহম্মাদ আলী বলেন, হাটে পেঁয়াজ বিক্রি করতে এসে মাত্র দুইশো টাকা মণ বিক্রি করলাম। কালুপাড়া গ্রামের আব্দুল মজিদ বলেন, হাটে এনে যে দাম পেলাম এতে উৎপাদন খরচ তো দুরের কথা পরিবহন খরচই উঠছে না।
এদিকে ব্যবসায়ীরাও পরিবহনে জ¦ালানি সংকট, প্যাকেট ও অন্যান্য সামগ্রীর দুস্প্রাপ্যতা ও শ্রমিক সংকটের কারণে বেশি দামে কিনতে পারছেন না বলে জানান।
তাহেরপুর বাজারের মেসার্স হোসেন ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী হোসেন আলী জানান, আজকে বাজার দর কম। দুইশো থেকে সাড়ে তিনশো টাকার মধ্যে ওঠানামা করছে। এর কমেও কেউ কেউ কিনছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ মৌসূমে বাগমারার ১৬টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভায় ৪ হাজার তিনশো বিশ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ এবং ৫৫ হেক্টরে কদম (বিজ) চাষাবাদ করা হয়েছে।
জানা যায়, জেলার পেঁয়াজ উৎপাদনকারী উপজেলা হিসেবে বাগমারা অন্যতম। এ উপজেলার তাহেরপুরী পেঁয়াজের সমাদর বেশ আগে থেকেই। পেঁয়াজের ফলন ভাল হলেও দাম কম হওয়ায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুর রাজ্জাকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এ মৌসূমে উপজেলায় পেঁয়াজের উৎপাদন ভাল হয়েছে। তবে বাজারদর ওঠানামা করছে।
আমারদেশ২৪ নিউজ।









