নোটিশ: বকেয়া পরিশোধ না হওয়ায় সাইটটি শীঘ্রই সাসপেন্ড হয়ে যাবে, অনুগ্রহ পূর্বক যোগাযোগ করুন। ধন্যবাদ।

সর্বশেষ
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা সুষ্ঠু সুন্দরভাবে অনুষ্ঠিত হওয়ার সচিবদের নির্দেশনা। আলোচনার শীর্ষে থাকা বনলতা এক্সপ্রেস বক্স: ব্যবসা ৩ কোটি প্লাস। একলাফে রেকর্ড পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে এলপি গ্যাসের দাম। সংঘাতের প্রভাবে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব বাংলাদেশেও। দোকান, বাণিজ্য বিতান ও শপিংমল রাত ৮টার মধ্যে বন্ধ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতার মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অটোমেটেড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট মডিউল চালু করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। ডোনাল্ড ট্রাম্প তার বক্তব্য শেষ হতে হামলা চালিয়েছে ইরান। হামের প্রকোপ না কমা পর্যন্ত স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট। হামের উপসর্গে ৪ মৃত্যু হাসপাতালে ভর্তি ৬৮৫।

অটোমেটেড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট মডিউল চালু করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।

নিজস্ব প্রতিবেদক।

মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট অডিট প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে অটোমেটেড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট মডিউল চালু করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। স্বয়ংক্রিয় এই পদ্ধতিতে প্রথম দফায় অডিটের আওতায় দেশের শীর্ষ পর্যায়ের ৬০০টি প্রতিষ্ঠান এসেছে।

প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ৪০৫টি, সেবাপ্রদানকারী ৯৮টি, খুচরা ও পাইকারি বিক্রেতা ৬৫টি এবং আমদানিকারক ও রপ্তানিকারক ক্যাটাগরিতে ৩২টি প্রতিষ্ঠানকে নির্বাচন করা হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) এনবিআরের ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সদস্য পদমর্যাদার ওই কর্মকর্তা ঢাকা পোস্টকে বলেন, এখন থেকে আর কোনো কর্মকর্তা চাইলেই নিজের ইচ্ছামতো কোনো প্রতিষ্ঠানকে অডিটের জন্য পছন্দ করতে পারবেন না। সম্পূর্ণ ডিজিটাল ও স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে প্রথম দফায় অডিটের জন্য দেশের ৬০০টি বড় প্রতিষ্ঠানকে নির্বাচন করেছে এনবিআর। এর মাধ্যমে অডিটের নামে ব্যবসায়ী বা শিল্প প্রতিষ্ঠানের হয়রানি বন্ধে এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বড় ধরনের সংস্কার আনা হয়েছে।

অন্যদিকে এনবিআরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আল আমিন শেখ ঢাকা পোস্টকে এ বিষয়ে বলেন, করদাতা এবং সুশীল সমাজের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে অডিট প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ করতেই এই ডিজিটাল পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অডিটযোগ্য প্রতিষ্ঠান নির্বাচনে এখন থেকে কোনো ম্যানুয়াল বা মানুষের হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই।

যেভাবে কাজ করে ‘ডিজিটাল জাল’

এনবিআর সূত্রে জানা যায়, সাধারণত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ইলেকট্রনিক ফিসকাল ডিভাইস (ইএফডি), পস মেশিন বা সফটওয়্যার থেকে বিক্রির তথ্য সরাসরি এনবিআর সার্ভারে যায়। ভ্যাট রিটার্নের অনলাইনে জমা দেওয়ার তথ্য এবং আমদানির তথ্যও এ্যাসাইকুডা সিস্টেম থেকে যুক্ত হয়। অর্থাৎ সব তথ্য ডিজিটালভাবে এক জায়গায় জমা হয়; যেমন: হঠাৎ কম বিক্রি দেখানো, অস্বাভাবিক ইনপুট ভ্যাট ক্লেইম বা পূর্বের তুলনায় বড় পার্থক্য। যাদের ঝুঁকি বেশি, তাদের অডিটে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।

এনবিআর বলছে, ই-ভ্যাট সিস্টেমে একটি বিশেষ ‘অটোমেটেড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট মডিউল’ যুক্ত করা হয়েছে। এই সিস্টেমে ২০টি সুনির্দিষ্ট ঝুঁকির সূচক সেট করে দেওয়া হয়েছে। কোনো প্রতিষ্ঠান ভ্যাট ফাঁকি দিচ্ছে কি না বা তাদের তথ্যে গরমিল আছে কি না, তা এই ২০টি সূচকের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাচাই হবে। সিস্টেমটি নিজেই অডিটের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিষ্ঠান খুঁজে বের করবে। এতে কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত প্রভাব খাটানোর কোনো সুযোগ থাকবে না।

এনবিআর মনে করে, স্বচ্ছ এই ব্যবস্থার ফলে ভ্যাট ব্যবস্থাপনায় এক নতুন যুগের সূচনা হবে। অডিট কার্যক্রম শেষে যদি দেখা যায় কোনো প্রতিষ্ঠান তথ্য গোপন করেছে, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই পদ্ধতির কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ করে ভবিষ্যতে ঝুঁকির সূচকগুলো আরও শক্তিশালী করা হবে। মূলত কাস্টমস ও ভ্যাট প্রশাসনকে আধুনিক, স্বচ্ছ ও দক্ষ করার অংশ হিসেবেই এই ‘ট্রেড ফেসিলিটেশন’ বা ব্যবসা সহজীকরণ কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে।

এনবিআর আশা করছে, এই স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা চালুর ফলে ভ্যাট ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে একদিকে যেমন ভ্যাট প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর হয়রানি কমবে, অন্যদিকে রাজস্ব ফাঁকি রোধ করাও সহজ হবে।ভ্যাট প্রশাসনকে আধুনিক, করদাতা বান্ধব এবং ডিজিটাল করার অংশ হিসেবে এই অটোমেশন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছে এনবিআর।

আমারদেশ২৪ নিউজ।

 

আরও পড়ুন