এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন, বিএনপি দেশের প্রতিটি গণঅভ্যুত্থানের সুফল ভোগ করলেও পরে সেই আন্দোলনের মূল অঙ্গীকার থেকে সরে গেছ। তিনি বলেন, বিএনপির ইতিহাস প্রতারণার ইতিহাস। বিএনপি প্রতিটি গণঅভ্যুত্থানের সুবিধাভোগী এবং প্রতিটি গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। নির্বাচনের পর তারা গণভোট নিয়েও প্রতারণা করেছে।
শনিবার বিকেলে রংপুর নগরীর জিলা স্কুল মাঠে ১১ দলের উদ্যোগে আয়োজিত বিভাগীয় সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, সীমান্ত হত্যা ও ‘পুশ-ইন’ বন্ধ এবং উত্তরাঞ্চলের জনদুর্ভোগ নিরসনের দাবিতে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
নাহিদ ইসলাম বলেন, নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের মানুষের অন্যতম দাবি ছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা। সেই ব্যবস্থার অধীনেই বিএনপি ক্ষমতায় এলেও পরবর্তীতে তারাই তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা থেকে সরে দাঁড়ায়। এর পরিণতিতে দীর্ঘ ১৬ বছর দলটিকে আবার একই দাবিতে আন্দোলন করতে হয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, গণভোট, সংস্কার এবং জুলাই সনদকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার পর বিএনপি নিজেদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি।
তার বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘বিএনপি গণভোটের সঙ্গে প্রতারণা করেছে, ৩১ দফার সঙ্গে প্রতারণা করেছে, জুলাই সনদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে এবং গণতন্ত্রের সঙ্গেও প্রতারণা করেছে।’
প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন সফর নিয়েও সমালোচনা করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি দাবি করেন, এ সফর থেকে তিস্তা মহাপরিকল্পনা কিংবা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট অগ্রগতি বা প্রতিশ্রুতি পাওয়া যায়নি। তার মতে, দেশের ভেতরে জাতীয় ঐক্য ও সংস্কারের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন না হলে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়বে।
রংপুর বিভাগের উন্নয়ন বৈষম্যের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অঞ্চলটি অবহেলার শিকার। নতুন সরকারের প্রথম বাজেটেও রংপুরকে প্রয়োজনীয় গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।
তার অভিযোগ, রংপুর বিভাগের অধিকাংশ সংসদীয় আসন বিরোধী দলের হওয়ায় পরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন বরাদ্দ কম দেওয়া হয়েছে এবং এ অঞ্চলের জন্য উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নয়ন প্রকল্পও রাখা হয়নি।
সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘বরাদ্দ সব যাচ্ছে বগুড়ার শিবগঞ্জে। গোপালগঞ্জের জায়গায় এখন শিবগঞ্জ এসেছে। অথচ প্রকৃত বৈষম্যের শিকার রংপুরবাসী উন্নয়ন বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।’তিনি রংপুরের জন্য বিশেষ উন্নয়ন বরাদ্দ এবং দ্রুত তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি জানান।
বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের উন্নয়ন বরাদ্দ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা যে পরিমাণ বরাদ্দ পান, বিরোধী দলের সদস্যরা তার তিন ভাগের এক ভাগও পান না। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও জনগণকে উন্নয়ন সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জাতীয় বাজেটের সমালোচনা করে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থনৈতিক সংস্কারের কোনো সুস্পষ্ট রূপরেখা নেই। ব্যাংক খাত সংস্কার, অর্থ পাচার রোধ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কার্যকর পরিকল্পনার অভাব রয়েছে।
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান এবং জাগপার সহসভাপতি রাশেদ প্রধান। এছাড়া ১১ দলীয় জোটের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারাও সমাবেশে বক্তব্য দেন।
amardesh24.com









