দাপ্তরিক কার্যক্রমে বাংলা ভাষার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার ঘোষণা দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দ অধিকারী। আজ সোমবার বিধানসভার অধিবেশনে তিনি জানান, আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে রাজ্য সরকারের সব দপ্তরে বাংলা ভাষার ব্যবহার বাধ্যতামূলকভাবে কার্যকর হবে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তাকে পাঠানো এক চিঠিতে বিদেশি ভাষার পরিবর্তে বাংলা অথবা রাজভাষা হিন্দির ব্যবহার বাড়ানোর আহ্বান জানান। সেই প্রস্তাবকে গুরুত্ব দিয়েই রাজ্য সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বিধানসভায় বক্তব্যের সময় শুভেন্দু অধিকারী অমিত শাহর পাঠানো চিঠির বিষয়বস্তুও তুলে ধরেন। সেখানে উল্লেখ করা হয়, এ বছর শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির ১২৫তম জন্মবার্ষিকী। তিনি ভারতীয় ভাষার সংরক্ষণ, বিকাশ ও বিস্তারে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেন এবং মনে করতেন, প্রশাসন, শিক্ষা ও জনজীবনে মানুষের মাতৃভাষার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। কারণ, জনগণের ভাষায় পরিচালিত প্রশাসনই গণতন্ত্রকে আরও কার্যকর করে।
চিঠিতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিভিন্ন স্তরে বাংলা ভাষার ব্যবহার বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর থেকে শুরু করে মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয় পর্যন্ত ফাইল পরিচালনা, নোটিং, সরকারি চিঠিপত্র ও আদেশ বাংলা ভাষায় সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
এ ছাড়া নাগরিক সেবা, Digital Administration, আবেদনপত্রের নমুনা, সনদ, Portal, Website, Mobile App, প্রশিক্ষণসামগ্রী, জনসাধারণের জন্য নির্দেশিকা, সংবাদ বিজ্ঞপ্তি এবং অন্যান্য সরকারি যোগাযোগে বাংলা ভাষাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক নাগরিক সেবায় বাংলা ভাষার বিস্তৃত ব্যবহার প্রশাসন ও নাগরিকদের মধ্যে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করবে বলেও চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে।
কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে দাপ্তরিক যোগাযোগের ক্ষেত্রেও বিদেশি ভাষার পরিবর্তে বাংলা অথবা রাজভাষা হিন্দি ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এতে ভারতের ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য আরও সমৃদ্ধ হবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
চিঠির প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে রাজ্যের সর্বস্তরের প্রশাসনিক কার্যক্রমে বাংলা ভাষার ব্যবহার বাধ্যতামূলক হবে। এর আগে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কেন্দ্র ও রাজ্যের বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে বাংলা ভাষায় যোগাযোগের ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী হিন্দিতেও দাপ্তরিক চিঠিপত্র আদান-প্রদান চলবে। তবে রাজ্যে মাতৃভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।
এদিকে বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসু জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি বিধানসভার কার্যক্রম বাংলা ভাষায় পরিচালনার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। সে সময় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তার সেই উদ্যোগকে সমর্থন ও উৎসাহ দিয়েছিলেন।
amardesh24.com









