বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের ঘটনায় প্রতিটি দেশ নড়েচড়ে বসেছে। ইতিমধ্যে পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে বিশ্বব্যাপী তোলপাড় শুরু হয়েছে। হোয়াইট হাউসের রোজ গার্ডেনে বিভিন্ন দেশের আরোপিত শুল্কের একটি তালিকা তুলে ধরেন ডোনাল্ড ট্রাম্প, যা পুরো বিশ্বের বাণিজ্যের জন্য একটি বড় ধাক্কা। এমন শুল্কনীতিতে সারা পৃথিবীর রাষ্ট্রপ্রধানরা এক নতুন চ্যালেঞ্জে পড়লেন। অনেক বিশ্লেষকের মতে অর্থনীতি নতুন বাঁক নিতে পারে।
অর্থনীতিকে নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার এমন শুল্কনীতি আগে কখনো হয়েছে কি না জানা নেই। বিশ্ব মহামন্দার পূর্বে এমন চেষ্টা করা হয়েছিল ধারণা করা হয়। ১৯২৯ সালে বিশ্বব্যাপী যে মন্দা শুরু হয় তা অনেকটা ত্বরান্বিত করেছিল এ ধরনের নিয়ন্ত্রিত শুল্কনীতি। সে সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি, উৎপাদন ও খরচের মধ্যে অসামঞ্জস্যতা, ব্যাংক ব্যবস্থার দুর্বলতা, যুদ্ধের কারণে ঋণের বোঝা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের পতনÑএসব কারণেই বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দার সৃষ্টি হয়, যা মহামন্দা নামে পরিচিত। এই মহামন্দা এশিয়া, ইউরোপ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় এক দশক ধরে প্রভাব ফেলেছিল। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি এবং রাজনৈতিক নীতি বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলে। বিশ্ব যেখানে মুক্তবাজার অর্থনীতির দিকে এগোচ্ছে সেখানে ট্রাম্পের শুল্কনীতি বিশ্বের বড় বড় ব্যবসায়ীকে হতবাক করেছে।
বৈশ্বিক রাজনীতি ও অর্থনীতিকে এক নতুন চ্যালেঞ্জের মধ্যে ফেলে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কনীতি। একবিংশ শতাব্দীতে কি আবারও একটি মহামন্দার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বিশ্ব? অর্থনীতির চরম উৎকর্ষের পরে অবনতি অবধারিত। আর তা যদি অস্বাভাবিক হয়, তবে এ বিপর্যয় ডেকে আনে মহাদুর্ভোগ। পাল্টা শুল্কারোপে উন্নত দেশের সঙ্গে সব থেকে বিপদে পড়তে যাচ্ছে উন্নয়নশীল এবং অনুন্নত রাষ্ট্রগুলো। পরবর্তী করণীয় নিয়ে প্রতিটি রাষ্ট্রপ্রধান দারুণ উদ্বেগের মধ্যে আছেন।
অন্যদিকে অন্যতম পরাশক্তি চীন ১০ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সব পণ্যে পাল্টা সমপরিমাণ অর্থাৎ ৩৪ শতাংশ শুল্ক কার্যকর করার ঘোষণা দেয়। মার্কিন পণ্য আমদানিতে সমান পাল্টা শুল্ক আরোপের পাশাপাশি বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে একটি মামলাও করে। কানাডা প্রতিশোধমূলক শুল্ক আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর। ইউরোপীয় ইউনিয়ন একই পরিকল্পনা করছে। ক্রমেই পাল্টা শুল্কারোপ বাণিজ্যযুদ্ধে রূপ নিচ্ছে।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্কনীতির বিরুদ্ধে কী করতে পারে বাংলাদেশ? আমাদের সক্ষমতা কতটুকু? বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশ সবসময় সমস্যায় পতিত হওয়ার পর সমাধান খোঁজে। উন্নত দেশগুলো বাণিজ্যে বিকল্প বাজার তৈরি করে যেখানে আমাদের প্রচেষ্টা নগণ্য অথবা নেই বললেই চলে। কিন্তু কেন এমন হয়। উন্নয়নশীল দেশের সরকার অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য বিশ্লেষকদের কি পুরোপুরি এড়িয়ে যায়? নাকি এদের পরামর্শ ঘুরে-ফিরে সরকারের প্রশংসায় ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।
বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে, যা বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশ ভবিষ্যৎ বাণিজ্য নিয়ে শঙ্কিত। যুক্তরাষ্ট্রের এ শুল্কারোপে বাংলাদেশি রফতানি খাতে ব্যাপক প্রভাব পড়বে। বিশেষ করে পোশাক শিল্প হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কা দেখছেন অনেকেই। নতুন শুল্কনীতিতে রফতানি কমে যাবে। কথা হচ্ছেÑএখন আমদানি কমিয়ে কি এ ঘাটতি পূরণ করা হবে? আর সেটা কতটুকু বাস্তবসম্মত।









