আন্তর্জাতিক ডেস্ক।
চালিয়েছে ইরান, তবে ২,৫০০ কিলোমিটার পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র দিয়েও ইহুদিদের এলাকায় আক্রমণ চালাতে পারে সাবেক পারস্য মুলুকটিতেহরানের সেজ্জিল-২ একটি দ্বিস্তরীয় কঠিন জ্বালানি চালিত মাঝারি-পাল্লার ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। ক্ষেপণাস্ত্রটির আনুমানিক পাল্লা ২,০০০ কিলোমিটার এবং পেলোড বা বিস্ফোরক বহণের ক্ষমতা প্রায় ৭০০ কিলোগ্রাম।
লঞ্চার থেকে উৎক্ষেপণের পর সোজা অনেকটা উঁচুতে উঠে গিয়ে নিখুঁত নিশানায় হামলা চালাতে পারে সেজ্জিল। সেই কারণে একে ‘ডান্সিং মিসাইল’ বা ‘নৃত্যরত ক্ষেপণাস্ত্র’ও বলা হয়। ইসরায়েলের আয়রন ডোমের মতো আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে এড়িয়ে হামলা চালাতেও সক্ষম সেজ্জিল।
‘সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস)’ অনুযায়ী, সেজ্জিল ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রায় ১৮ মিটার লম্বা। ব্যাস প্রায় ১.২৫ মিটার। আনুমানিক ওজন ২৩,৬০০ কিলোগ্রাম।
সেজ্জিল ক্ষেপণাস্ত্রে কঠিন জ্বালানি ব্যবহৃত হয়। কঠিন জ্বালানি ক্ষেপণাস্ত্রটিকে একটি কৌশলগত সুবিধাও দেয়। তরল জ্বালানি চালিত ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় দ্রুত উৎক্ষেপণে সক্ষম সেজ্জিল।
সূত্রের খবর, সেজ্জিল ক্ষেপণাস্ত্রের নকশা তৈরির কাজ ’৯০-এর দশকের গোড়ার দিকে শুরু করে ইরান। সিএসআইএস-এর মতে, ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রটির প্রথম পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণের বছরটি ছিল ২০০৮।
জানা গিয়েছে, প্রথম পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণের সময় ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রায় ৮০০ কিলোমিটার ভ্রমণ করেছিল। তবে উন্নত নেভিগেশন সিস্টেম মূল্যায়নের জন্য ২০০৯ সালের মে মাসে দ্বিতীয় বারের জন্য উৎক্ষেপণ করা হয় সেজ্জিলকে।
২০০৯ সাল থেকে সেজ্জিলের আরও চারটি উড়ান পরীক্ষা করা হয়েছে। ষষ্ঠ পরীক্ষার সময় ক্ষেপণাস্ত্রটি ভারত মহাসাগরে প্রায় ১,৯০০ কিলোমিটার পর্যন্ত উড়ে গিয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। ওয়াশিংটন-তেল আবিবের সঙ্গে সংঘাতের ১৬তম দিনে প্রবেশের পর রোববার শত্রুদের লক্ষ্য করে সেই সেজ্জিল ক্ষেপণাস্ত্রের হামলা চালাল তেহরান।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের তরফে ইরানে যৌথ হামলা চালানোর পর দু’পক্ষের সংঘর্ষ বাধে। এর মধ্যেই আমেরিকার হামলায় ইরানের ৮৬ বছর বয়সি সর্বোচ্চ নেতা (সুপ্রিম লিডার) আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হওয়ার পর পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করেছে।
প্রতিশোধ নিতে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে ইরানও। ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় দেশগুলিতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা শুরু করেছে দেশটি। অন্য দিকে ইজ়রায়েল এবং মার্কিন ফৌজও ইরানের গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলিতে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। সোমবার ১৭তম দিনে পা দিয়েছে সেই সংঘাত।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইতোমধ্যেই ২০০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, তবে নিহতদের বেশির ভাগই ইরানীয়। মার্কিন যুদ্ধ দফতরের সদর কার্যালয় পেন্টাগন জানিয়েছে, সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে আমেরিকা এবং ইসরায়েলি বাহিনী ইরান জুড়ে ১৫,০০০-এরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।
আমারদেশ২৪ নিউজ।









