নোটিশ: বকেয়া পরিশোধ না হওয়ায় সাইটটি শীঘ্রই সাসপেন্ড হয়ে যাবে, অনুগ্রহ পূর্বক যোগাযোগ করুন। ধন্যবাদ।

সর্বশেষ
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে সংসদে তীব্র সমালোচনা করেছেন : রুমিন ফারহানা। সাবেক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ও তার পিএস মাসুমের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চেয়ে দুদকে আবেদন। ইবনে সিনা হাসপাতালে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ। যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এখন পর্যন্ত ৭ জন বাংলাদেশির প্রাণহানির তথ্য জানিয়েছে সরকার। নিউইয়র্কে সড়ক দুর্ঘটনায় তিন বাংলাদেশির মৃত্যু। হাদি হত্যা মামলার ২ আসামিকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে ভারত সম্মত। সপ্তাহে ৩ দিন সরাসরি পাঠদান: আর ৩ অনলাইনে ক্লাস করবে। শহীদ আবু সাঈদ হত্যার দায়ে দুই পুলিশ সদস্যের মৃত্যুদন্ড। প্রধান মন্ত্রী তারেক রহমান ২৫ এপ্রিল যশোর যেতে পারেন। তেলের দাম বাড়ানো হবে কি না, সে বিষয়ে মন্ত্রিসভা বৈঠকে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

শহীদ আবু সাঈদ হত্যার দায়ে দুই পুলিশ সদস্যের মৃত্যুদন্ড।

নিউজ ডেস্ক।

জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যার দায়েমানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দুই পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। বাকি ২৮ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

রায়ে আদালত স্পষ্ট করে বলেন, নিরপরাধ ও নিরস্ত্র একজন শিক্ষার্থীর ওপর সরাসরি গুলি চালানো কেবল একটি হত্যাকাণ্ড নয়, এটি মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল। অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনা করে এবং ভিডিওচিত্রসহ অকাট্য প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযুক্ত দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হলো।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন:

১. আমির হোসেন: পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই)।
২. সুজন চন্দ্র রায়: পুলিশের সাবেক কনস্টেবল।

উল্লেখ্য যে, সাজাপ্রাপ্ত এই দুই পুলিশ সদস্য বর্তমানে কারাগারে আছেন এবং আজ রায় ঘোষণার সময় তাঁদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছিল।

রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, ১৬ জুলাই ২০২৪-এ আবু সাঈদের সাহসী অবস্থান বাংলাদেশের ইতিহাসের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, আবু সাঈদ কোনো মারণাস্ত্র বহন করছিলেন না; তাঁর হাতে ছিল কেবল একটি লাঠি। দুই হাত প্রশস্ত করে দাঁড়িয়ে থাকার সময় পুলিশ তাঁকে লক্ষ্য করে একের পর এক ছররা গুলি ছুড়তে থাকে। একজন নিরস্ত্র নাগরিককে এভাবে হত্যার নির্দেশ দেওয়া বা সরাসরি গুলি করা পেশাদারত্বের কোনো সংজ্ঞায় পড়ে না। এটি ছিল রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার চরম অপব্যবহার।

বিটিভিতে সরাসরি সম্প্রচারিত হওয়া এই রায়ের মুহূর্তটি দেশের কোটি মানুষ গভীর আবেগ নিয়ে প্রত্যক্ষ করেছে। আদালত মন্তব্য করেন, আবু সাঈদ হত্যার এই ভিডিও সারা বিশ্বের বিবেককে নাড়া দিয়েছিল এবং এটিই ছিল জুলাই বিপ্লবের চালিকাশক্তি।

আবু সাঈদ হত্যা মামলার মোট আসামির সংখ্যা ছিল ৩০ জন। এর মধ্যে আজকের রায়ে দুইজনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলেও বাকি আসামিদের ব্যাপারে আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

কারাগারে থাকা আসামিরা হলেন:

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুজন ছাড়া আরও চারজন গুরুত্বপূর্ণ আসামি বর্তমানে গ্রেপ্তার রয়েছেন। তাঁরা হলেন:

শরিফুল ইসলাম: রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর (যাঁর নির্দেশে পুলিশ ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেছিল)।
রাফিউল হাসান রাসেল: সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার।
মো. আনোয়ার পারভেজ: রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের সাবেক কর্মচারী।
ইমরান চৌধুরী ওরফে আকাশ: নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা।

পলাতক আসামিরা হলেন:

উপাচার্য থেকে শুরু করে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এই মামলার অধিকাংশ আসামিই পলাতক। মোট ২৪ জন পলাতক আসামির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন:মো. হাসিবুর রশীদ: বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য।

মো. মনিরুজ্জামান: রংপুর মহানগর পুলিশের সাবেক কমিশনার।মো. আবু মারুফ হোসেন: সাবেক উপকমিশনার।পোমেল বড়ুয়া ও মাহাফুজুর রহমান: বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।

পলাতক আসামিদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও বেশ কয়েকজন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী রয়েছেন, যাঁদের বিরুদ্ধে উস্কানি প্রদান এবং হামলাকারীদের সহায়তার অভিযোগ রয়েছে। আদালত তাঁদের দ্রুত গ্রেপ্তারে ইন্টারপোল বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহায়তা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

গত বছরের (২০২৫) ২৪ জুন ৩০ জনকে অভিযুক্ত করে প্রথম তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। ৬ আগস্ট ট্রাইব্যুনাল আনুষ্ঠানিকভাবে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।

আমারদেশ২৪ নিউজ।

 

আরও পড়ুন