নিজস্ব প্রতিবেদক।
তেলের দাম বৃদ্ধির পরও দেশের বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে ভিড়ের চিত্রে তেমন পরিবর্তন দেখা যায়নি।রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় আগের মতোই দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহ করতে দেখা গেছে যানবাহন চালকদের।
এদিকে, গতকাল মন্ত্রনালয় থেকে এক বিজ্ঞপ্তির মাদ্যমে এপ্রিল মাসে ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১৫ টাকা, অকটেনের দাম ১২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৪০ টাকা, পেট্রোলের দাম ১১৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা এবং কেরোসিন ১১২ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে প্রতি লিটার ডিজেল ১৫ টাকা, অকটেন ২০ টাকা, পেট্রোল ১৯ টাকা ও কেরোসিনের দাম ১৮ টাকা বেড়েছে।
এর আগে, সবশেষ ৭ এপ্রিল বিমানে ব্যবহৃত জ্বালানি তেল বা জেট ফুয়েলের দাম বাড়ানো হয়। বিইআরসি ঘোষিত দাম অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইটের জন্য প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ২০২ টাকা ২৯ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২২৭ টাকা ৮ পয়সা করা হয়েছিল। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ১ দশমিক ৩২১৬ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১ দশমিক ৪৮০৬ ডলার (শুল্ক ও মূসকমুক্ত) নির্ধারণ করা হয়।
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশে ভোক্তা পর্যায়ে বিক্রয়মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে বলে গতকাল শনিবার (১৮ এপ্রিল) জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। জ্বালানি তেলের নতুন দাম মধ্যরাত (১৯ এপ্রিল) থেকে কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে জ্বালানি বিভাগ। আজ রোববার থেকে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হলেও প্রতিদিনের মতো আজও সকাল থেকেই পাম্পগুলোতে তেল সংগ্রহে আসা যানবাহনের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে।
সর্বশেষ, গত ১ ফেব্রুয়ারি সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারে দুই টাকা কমানো হয়েছিল। সেই দাম মার্চ মাসেও বহাল থাকে। এপ্রিল মাসেও আগের দাম বহাল রাখা হয়।পাম্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দাম বাড়লেও জ্বালানির চাহিদা কমেনি। পরিবহন, ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেলের ব্যবহার অব্যাহত থাকায় প্রতিদিনই একই মাত্রার চাপ থাকছে। অনেক চালক আবার ভবিষ্যতে দাম আরও বাড়ার আশঙ্কায় অতিরিক্ত তেল ভরছেন, যা ভিড় বাড়ার একটি কারণ।
গাড়িচালকদের অভিযোগ, দাম বাড়ায় খরচ বেড়েছে, কিন্তু বিকল্প না থাকায় তারা বাধ্য হয়েই আগের মতো তেল কিনছেন। বিশেষ করে গণপরিবহন ও পণ্য পরিবহন খাত পুরোপুরি জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এর প্রভাব সরাসরি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় পড়ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি এমন একটি পণ্য যার চাহিদা সহজে কমে না। তাই দাম বাড়লেও স্বল্পমেয়াদে ভিড় বা ব্যবহার কমার সম্ভাবনা কম। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বাজার তদারকি ও সরবরাহ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
আমারদেশ২৪ নিউজ।








