নোটিশ: বকেয়া পরিশোধ না হওয়ায় সাইটটি শীঘ্রই সাসপেন্ড হয়ে যাবে, অনুগ্রহ পূর্বক যোগাযোগ করুন। ধন্যবাদ।

সর্বশেষ
জ্বালানি খাতে তুরস্কের বিনিয়োগ ও অংশগ্রহণ আরও সম্প্রসারণের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে দুই দেশ। দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধান মন্ত্রী তারেক রহমান এক কোটি ২০ লাখ শিক্ষার্থীকে স্কুল ড্রেস ও স্কুল ব্যাগ দেওয়া হবে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এক মাদ্রাসাভবনের ওপর পাহাড় ধসে ৫ শিক্ষার্থী নিহত। জাহাজে হামলাকে কেন্দ্র করে ইরানে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মিশন সফল হলোনা ব্রাজিলের অপেক্ষা বাড়ল আরো চার বছর। শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন সব জেলার বুধবারের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত। বড় ধরনের ধসের কবলে পড়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার বাজার। সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া সফরের পর বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য দেশটির শ্রমবাজার পুনরায় চালুর ঘোষণা। ডিএসসিসির একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পের অসম্পূর্ণতার প্রতিচ্ছবি।

ডিএসসিসির একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পের অসম্পূর্ণতার প্রতিচ্ছবি।

ঢাকা বাসাবো বালুর মাঠের উন্নয়নের চিত্রটি এখন ডিএসসিসির একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পের অসম্পূর্ণতার প্রতিচ্ছবি ‘ঢাকা সিটি নেইবারহুড আপগ্রেডিং প্রজেক্ট’ নামে বিশ্বব্যাংকের ঋণসহায়তায় নেয়া প্রকল্পটি সাত বছর পার করলেও এখনো আলোর মুখ দেখেনি। দুর্বল প্রস্তুতি, ভুল নকশা এবং অদক্ষ ব্যবস্থাপনার কারণে সরকারি অর্থের অপচয় ও জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।

২০১৯ সালের মার্চ মাসে প্রকল্পের যাত্রা শুরু হয়েছিল মূলত নগরবাসীর জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন, নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং পরিবেশগত উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে। প্রকল্পের আওতায় ২০টি পার্ক, ৩টি খেলার মাঠ, নদীর তীর সংরক্ষণ, নর্দমা ও রাস্তা উন্নয়ন এবং শৌচাগার নির্মাণের মহাপরিকল্পনা ছিল। ৮৮০ কোটি টাকার প্রাক্কলিত ব্যয় কমিয়ে ৫০৪ কোটিতে আনা হলেও প্রকল্পের কাজের মান ও অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও বিশ্বব্যাংকের নথি পর্যালোচনা করলে ভয়াবহ কিছু তথ্য বেরিয়ে আসে— দুর্বল পরিকল্পনা: কোনো ধরনের বাস্তবসম্মত সমীক্ষা ছাড়াই প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছিল। পরবর্তীতে মাঠপর্যায়ে কাজের সময় নকশার সাথে বাস্তবতার ব্যাপক গরমিল ধরা পড়ে। অদক্ষ ব্যবস্থাপনা: বিশ্বব্যাংকের নথিতে ডিএসসিসির পদ্ধতিগত দুর্বলতা, মান নিয়ন্ত্রণ ও তদারকির অভাবকে প্রকল্পের প্রধান ব্যর্থতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। মেয়াদ বৃদ্ধি: তিন দফা সময় বাড়িয়েও মূল লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হয়নি। ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত বর্ধিত মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বিশ্বব্যাংক আর ঋণ প্রদানে আগ্রহী নয়। গুরুত্বপূর্ণ কাজ বাতিল: কামরাঙ্গীরচরের লোহারপুল ও শাহজাহানপুর ঝিল দৃষ্টিনন্দন করার মতো ২৬০ কোটি টাকার বড় দুটি কাজ প্রকল্প থেকে বাদ দিতে হয়েছে, কারণ এসব কাজের ঠিকাদার নিয়োগই করা সম্ভব হয়নি।

সাবেক প্রকল্প পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলামের দায়ভার করোনা মহামারির ওপর চাপিয়ে দিলেও বর্তমান প্রকল্প পরিচালক রাজীব খাদেম দাবি করেছেন, চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত বর্ধিত মেয়াদে ৮৩ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। তবে নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, প্রকল্প পরিচালকদের অদক্ষতা এবং জবাবদিহিতার অভাবই এই পরিস্থিতির মূল কারণ। অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খানের মতে, সঠিক সমীক্ষা ছাড়া অনুমানের ভিত্তিতে প্রকল্প গ্রহণ করা জনগণের টাকার অপচয়। প্রকল্প ব্যর্থ হলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত দায় না থাকায় এমন ভুল বারবার হচ্ছে। প্রকল্পের কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই বেতন-ভাতা ও পরামর্শক খাতে ৬৮ কোটি টাকা ব্যয় হয়ে গেছে, যা সরাসরি জনগণের ট্যাক্সের টাকার অপচয়। এখন অসম্পূর্ণ কাজগুলো শেষ করতে আবার সরকারি তহবিল বা নতুন প্রকল্পের শরণাপন্ন হতে হচ্ছে, যার দায়ভার সাধারণ মানুষের ওপরই বর্তায়।

সাত বছরের দীর্ঘ অপেক্ষা এবং শত শত কোটি টাকার ব্যয় সত্ত্বেও ঢাকা সিটি নেইবারহুড আপগ্রেডিং প্রজেক্টটি নগরবাসীর জন্য একটি আস্থার সংকটে পরিণত হয়েছে। যে লক্ষ্য নিয়ে প্রকল্পের শুরু হয়েছিল, তার একটি বড় অংশই আজ বাস্তবায়নহীন। সংশ্লিষ্ট পরামর্শকরা বলছেন সরকারের উচিত এই ব্যর্থ প্রকল্পের জন্য দায় নিরূপণ করা এবং অদূর ভবিষ্যতে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে আরও স্বচ্ছতা, দক্ষতা ও বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা নিশ্চিত করা। অন্যথায়, একই ভুল চক্রে পড়ে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড কেবল নথিপত্রেই সীমাবদ্ধ থাকবে, আর ভোগান্তি পোহাতে হবে নগরবাসীকে।

amardesh24.com

 

আরও পড়ুন