শেয়ারবাজারে গতকাল মঙ্গলবারের লেনদেনে মিশ্র পরিস্থিতি বিরাজ করলেও বড় ধরনের ধসের কবলে পড়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার বাজার।কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বিপুল মুনাফা করার পরও প্রযুক্তি খাতের অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান স্যামসাংয়ের শেয়ারের দরপতন বিনিয়োগকারীদের জন্য আশঙ্কার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকের ধারণা, এআই-ভিত্তিক যে অভাবনীয় প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত ছিল, তা হয়তো এখন অন্তিম পর্যায়ে পৌঁছেছে। এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপি।
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াল স্ট্রিটে দীর্ঘ বিরতির পর লেনদেন শুরুর দিকে সূচক ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও এশিয়ার বাজারে তার ইতিবাচক প্রতিফলন দেখা যায়নি। অ্যামাজন ও অ্যাপলের মতো প্রভাবশালী প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারের দাম বৃদ্ধিতে ওয়াল স্ট্রিটের প্রধান সূচকগুলো বেড়েছে, যার ফলে প্রযুক্তি খাতের দীর্ঘদিনের মন্দার আতঙ্ক কিছুটা প্রশমিত হয়েছে। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে যে বিশাল অংকের বিনিয়োগ করা হচ্ছে, তা থেকে কাঙ্ক্ষিত মুনাফা অর্জন সম্ভব কি না, তা নিয়ে এখনও প্রশ্ন রয়েছে।
মঙ্গলবার দক্ষিণ কোরিয়ার শীর্ষ প্রতিষ্ঠান স্যামসাং এক ঘোষণায় জানিয়েছে যে, এআই-চালিত মেমোরি চিপের ব্যাপক চাহিদার ফলে চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে তাদের পরিচালন মুনাফা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১ হাজার ৮০০ শতাংশের বেশি বাড়তে পারে। বিস্ময়কর এই প্রবৃদ্ধির খবরের পরও দিনের শুরুর দিকে স্যামসাংয়ের শেয়ারের দর প্রায় ৭ শতাংশ হ্রাস পায়। এর প্রভাবে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধান শেয়ার সূচক কোস্পি প্রায় ৫ শতাংশ কমে যায়, যা গত দুই সপ্তাহের ধারাবাহিক দরপতনকে আরও ঘনীভূত করেছে। চলতি বছরের জুনে কোস্পি সূচক সর্বকালীন উচ্চতায় পৌঁছালেও পরবর্তী সময়ে এটি প্রায় ২০ শতাংশ মূল্য হারিয়েছে।
বর্তমানে বিনিয়োগকারীরা আসন্ন আয়ের প্রতিবেদনগুলো গভীরভাবে বিশ্লেষণ করছেন যাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়। এসপিআই অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের স্টিফেন ইনেস এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘স্যামসাংয়ের দ্বিতীয় প্রান্তিকের প্রাথমিক হিসাব কাগজে-কলমে অসাধারণ।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ‘এআই মেমোরি চিপের চাহিদা এখনও অত্যন্ত শক্তিশালী, সরবরাহ সীমিত রয়েছে এবং বড় মেমোরি চিপ নির্মাতারা এমন মুনাফার হার অর্জন করছে, যা কয়েক বছর আগেও অবিশ্বাস্য মনে হতো।’
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, শেয়ারবাজার এখন নিখুঁত ফলাফলের প্রত্যাশায় বাজারদর নির্ধারণ করছে, যেখানে স্রেফ ভালো ফলাফল বিনিয়োগকারীদের তৃপ্ত করতে পারছে না। ইনেস এ বিষয়ে আরও বলেন, ‘বিনিয়োগকারীরা শুধু গত প্রান্তিকের ফলাফল দেখছেন না; তারা বিচার করছেন আগামী কয়েকটি প্রান্তিকের ফলাফল এমন একটি প্রবৃদ্ধির ধারা ছাড়িয়ে যেতে পারবে কি না, যা ইতোমধ্যে প্রায় উল্লম্ব গতিতে ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।
amardesh24.com









