ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) ত্রয়োদশ কংগ্রেস হতে যাচ্ছে আগামীকাল শুক্রবার। এ কংগ্রেসের মধ্য দিয়ে পার্টির শীর্ষ নেতৃত্বে আসছে বড় ধরনের পরিবর্তন। আগামী চার বছরের জন্য দলটির এই শীর্ষ নেতারা নেতৃত্ব দেবেন।
দলীয় সূত্র জানায়, আগামীকাল শুক্রবার বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) ত্রয়োদশ কংগ্রেস। চার দিনব্যাপী এই কংগ্রেস পরিচালনার জন্য গঠিত হয়েছে- প্রেসিডিয়াম, অডিট কমিটি, ক্রেডেনশিয়াল কমিটি, প্রস্তাব বাছাই কমিটি ও মুখপাত্র নির্বাচন। এ কংগ্রেসের মধ্য দিয়ে দলটির প্রতিনিধিরা ত্যাগী, যোগ্য, সৎ ও তাদের পছন্দের নেতাকে নির্বাচিত করবেন। ইতিমধ্যে সারা দেশে সিপিবির শাখা, থানা, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের সম্মেলন শেষ হয়েছে। পার্টির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, জেলা সম্মেলনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় কংগ্রেসের জন্য ৫২৫ জন প্রতিনিধি ও ২৬ জন পর্যবেক্ষক নির্বাচন করা হয়েছে। এবারের কংগ্রেসে বিদেশি ভাতৃপ্রতিম পার্টির নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। তবে বিভিন্ন দেশের কমিউনিস্ট পার্টির পাঠানো শুভেচ্ছা বার্তা কংগ্রেসে পাঠ করা হবে।
দলীয় সূত্র জানায়, কংগ্রেসকে সামনে রেখে সিপিবির নতুন কমিটির শীর্ষ পদে কারা আসছেন তা নিয়ে দলটির তৃণমূল থেকে শুরু করে কেন্দ্র পর্যন্ত চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। ইতিমধ্যে দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব নিয়ে দুটি ভাগে বিভক্তি দেখা দিয়েছে। এরমধ্যে বর্তমান কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলম ও সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্সের একটি পক্ষ। আরেকটি পক্ষ সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমের। তবে মুজাহিদুল সেলিমের পক্ষের পাল্লাই ভারী। যদিও মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম এর আগে দুবারের সভাপতি ছিলেন। ফলে তিনি গত দ্বাদশ কংগ্রেসে সভাপতি হতে পারেননি। বর্তমান কমিটির শীর্ষ নেতৃত্ব নিয়ে দলের তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত একটি অংশের মধ্যে রয়েছে অসন্তোষ। এই অসন্তোষ প্রকাশ্যে রূপ না নিলেও ভেতরে ভেতরে চলছে আলোচনা। দলের একটি অংশ চাইছেন বর্তমান কমিটির শীর্ষ নেতৃত্বই আগামী দিনে নেতৃত্ব দিক। কারণ সামনে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন। এই জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে আন্দোলন সংগ্রাম, দেনদরবার, প্রার্থী বাছাইসহ নানা ধরনের সংকট আসতে পারে। এসব সংকট মোকাবিলায় বর্তমান কমিটির শীর্ষ নেতারা থাকলে ভালো হয়। আরেকটি পক্ষ চাইছে,যারা বিগত দিনে দলটির শীর্ষ পদে ছিলেন, তারা এলে দেশের বর্তমান যেসব সংকট রয়েছে, সেগুলো মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।









