দেশে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা, পানি সংকট ও নাব্য হ্রাসের সমস্যার সমাধানে আবারও খাল খনন কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নিচ্ছে তারেক রহমানের নেতৃত্বে নির্বাচিত সরকার। দেশজুড়ে পরিত্যক্ত ও ভরাট হয়ে যাওয়া খালগুলো পুনঃখননের মাধ্যমে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করা, কৃষিতে সেচ সুবিধা বাড়ানো এবং নগর এলাকায় জলাবদ্ধতা কমানোই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। জানা গেছে, ১৮০ দিনের মধ্যে কর্মসূচির আওতায় বেশির ভাগ খাল খনন করা হবে। সংশ্লিস্টরা বলছেন, খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়ন হলে বদলে যাবে দেশ। অর্থনীতিতে নতুন ধারা সূচিত হবে।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছিলেন। ১৯৭৭ থেকে ১৯৮১ সালের মধ্যে দেশজুড়ে প্রায় দুই হাজার মাইলের বেশি খাল খনন করেছিলেন তিনি, যা সে সময় কৃষি বিপ্লব ঘটিয়েছিল। তার এই ধারাবাহিকতায় শিগগির সারাদেশে খাল খনন কর্মসূচি শুরু করবে নতুন সরকার।
এর আগে বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। এ ছাড়া একই সভায় প্রতিবছর ৫ কোটি করে বৃক্ষরোপণের সিদ্ধান্ত হয়েছে।এ বিষয়ে গতকাল শুক্রবার পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি সাংবাদিকদের জানান, আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে দেশব্যাপী খাল খনন কার্যক্রম সরকার শুরু করবে বর্তমান সরকার।
তিনি বলেন, শিগগিরই খাল খননের তারিখ ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতোমধ্যে কেবিনেট মিটিং করেছেন। সেখানে মন্ত্রীদের নির্দেশনা দিয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ও রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি এলাকার উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে কাজ করতে হবে। সে অনুযায়ী কাজ করছি।
পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, যেসব স্থানে নদীভাঙন অব্যাহত রয়েছে, সেসব স্থানে পর্যায়ক্রমে ভাঙন প্রতিরোধে কাজ করা হবে। বিশেষ করে লক্ষ্মীপুরের ভূলুয়া নদী ও রহমতখালী খাল খনন কার্যক্রম শুরু করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। পাশাপাশি জনগণকে এলাকার রাস্তাঘাট উন্নয়নে দেওয়া নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানান।
উল্লেখ্য, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ৭০-এর দশকের শেষের দিকে প্রাকৃতিক জলাধার সৃষ্টির লক্ষ্যে সারাদেশে খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছিলেন। দ্রুতই খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতার দিকে এগিয়ে যায়।খাল খনন ছিল এক ধরনের সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিপ্লব। এর ফলে গ্রামীণ জনগোষ্ঠী একতাবদ্ধ হয়েছিল। দল বেঁধে খাল খনন করা তাদের বিভিন্ন সামাজিক কাজে উদ্বুদ্ধ করেছিল।
খাল খননের সরাসরি প্রভাব পড়েছিল কৃষিতে। খালের মাধ্যমে কৃষিতে সেচ দেওয়ার পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। এটা অপেক্ষাকৃত স্বল্পমূল্যের সেচসুবিধা ছিল কৃষকদের জন্য। ফলে অতিরিক্ত জ্বালানি ব্যয় বহন করতে হয়নি কৃষকদের। ১৯৭৪ থেকে ৭৫ সালে মোট ৩২ লাখ ২ হাজার ২৫০ একর জমি সেচের আওতায় ছিল। এর মধ্যে ১৫ লাখ ৩৯ হাজার ১৩০ একর জমিতে পাওয়ার পাম্প ও টিউবওয়েলের মাধ্যমে সেচ দেওয়া হতো। আর ১৬ লাখ ৬৩ হাজার ১২০ একর জমিতে প্রচলিত পদ্ধতিতে সেচ দেওয়া হতো। খাল থেকে সেচ দেওয়া হতো মাত্র ২ লাখ ৯৩ হাজার ৮৪০ একর জমিতে। ১৯৮১ থেকে ৮২ সালে দেশে মোট সেচের আওতায় আসা জমির পরিমাণ দাঁড়ায় ৪০ লাখ ৬৪ হাজার ৩৩৭ একর। ওই সময় খাল থেকে সেচ দেওয়া জমির পরিমাণ দাঁড়ায় ৪ লাখ ৩ হাজার ৫১৫ একর।
শুধু সেচের আওতাই বৃদ্ধি নয়, গ্রামাঞ্চলে দারিদ্র্য বিমোচন ও খাদ্য সহায়তারও পথ খুলে দিয়েছিল খাল খনন কর্মসূচি। কার্যত খাল খনন কর্মসূচি একসঙ্গে অনেকগুলো সাফল্য অর্জনের একটি পরিকল্পিত কর্মসূচি ছিল। এর অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রভাব ছিল সুদূরপ্রসারী। ওই সময় দেশের জনসংখ্যার বড় একটি অংশ কার্যত বেকার বসে ছিল। দারিদ্র্যের হার ছিল বেশি। তাদের দ্রুত খাদ্য সহায়তা ও কর্মসংস্থানের প্রয়োজন ছিল। কিন্তু সরাসরি ভর্তুকি সহায়তা দেওয়ার মতো সংগতি দেশের ছিল না। এ ক্ষেত্রে খাল খনন কর্মসূচি ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।
আমারদেশ২৪ নিউজ।









