নোটিশ: বকেয়া পরিশোধ না হওয়ায় সাইটটি শীঘ্রই সাসপেন্ড হয়ে যাবে, অনুগ্রহ পূর্বক যোগাযোগ করুন। ধন্যবাদ।

সর্বশেষ
ভারতীয় শাড়ি ও থ্রি-পিসসহ একটি কাভার্ড ভ্যান ও মোটরসাইকেল আটক করেছে বিজিবি। ব্যাটালিয়নের অভিযানে জব্দ প্রায় ৩ কোটি টাকা মূল্যের মাদকদ্রব্য ধ্বংস করেছে বিজিবি। নির্বাচন কমিশনের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা জোরদার। বন্দরে ‘ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশ’ ঘোষণার আড়ালে কাটা বা আমদানির ঘটনা উদঘাটন করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা। ৫৩টি মোবাইল ফোন ও বিকাশ অ্যাকাউন্টে ভুলবশত চলে যাওয়া সর্বমোট ১৭ হাজার টাকা উদ্ধার। শর্ত পূরণ সাপেক্ষে পরিবারের সদস্যদের সৌদি আরবে নেওয়ার সুযোগ পাবেন। আর ই-টিকেটিং সিস্টেমের ড্যাশবোর্ডের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে ভেন্ডর প্রতিষ্ঠান। গ্লোবাল সিটিজ ইনডেক্সে বিশ্বের এক নম্বর শহর হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে নিউইয়র্ক। উড়োজাহাজে ব্যবহৃত জ্বালানি জেট ফুয়েলের মূল্যবৃদ্ধি। শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেশে টানা ৫ দিনের ছুটি।

রাজধানীতে টানা বৃষ্টি ও দেশের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা।

রাজধানীতে টানা বৃষ্টি ও দেশের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধত এবং সরবরাহ সংকটের প্রভাবে আবারও বাড়তে শুরু করেছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। বিশেষ করে স্বল্প ও মধ্যম আয়ের মানুষের অন্যতম প্রোটিনের উৎস ব্রয়লার মুরগি, পাঙ্গাস ও তেলাপিয়ার পাশাপাশি অধিকাংশ সবজি, কাঁচামরিচ এবং চালের দাম বেড়েছে। তবে পেঁয়াজ ও কিছু ক্ষেত্রে ডিমের বাজারে সামান্য স্বস্তি দেখা গেছে।

আজ শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মোহাম্মদপুর ও আশপাশের কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, কয়েক দিনের ব্যবধানে অনেক পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভারী বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন জেলা থেকে পণ্য পরিবহনে বিলম্ব হচ্ছে। কোথাও কোথাও কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় উৎপাদনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বর্তমানে বাজারে ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি ২০০ থেকে ২১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা কয়েক সপ্তাহ আগের তুলনায় প্রায় ১০ টাকা বেশি। সোনালি মুরগির দাম ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকা এবং লেয়ার মুরগি ৩৪০ থেকে ৩৬০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজারেও বেড়েছে দাম। পাঙ্গাস মাছ বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ২২০ থেকে ২৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা, কই মাছ ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা এবং মাগুরের দামও আগের তুলনায় বেড়েছে। অন্যদিকে রুই ৩৬০ থেকে ৩৮০ টাকা এবং কাতলা ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সবজির বাজারে সবচেয়ে বেশি চাপ পড়েছে কাঁচামরিচে। বর্তমানে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। কোথাও কোথাও এর দাম আরও বেশি। এছাড়া বেগুন ৯০ থেকে ১২০ টাকা, করলা ৮০ থেকে ১০০ টাকা, পটল ও ঢ্যাঁড়শ ৭০ থেকে ৮০ টাকা, ঝিঙা ৮০ থেকে ৯০ টাকা, চিচিঙ্গা ৭০ থেকে ৮০ টাকা, শসা ১২০ থেকে ১৩০ টাকা, গাজর ১৬০ টাকা, কাঁকরোল ৮০ টাকা এবং মুলা ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লাউয়ের দাম বেড়ে হয়েছে ৮০ থেকে ৯০ টাকা। তবে পেঁপে এখনও তুলনামূলক কম দামে, ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজিতে পাওয়া যাচ্ছে।

মসলা পণ্যের মধ্যে দেশি রসুনের দাম কিছুটা বেড়ে ১০০ থেকে ১৪০ টাকায় পৌঁছেছে। অন্যদিকে পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমে কেজিপ্রতি ৩৫ থেকে ৪৫ টাকায় নেমেছে।

চালের বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা রয়েছে। সরু চাল (নাজির বা মিনিকেট) কেজিপ্রতি ৭২ থেকে ৮৫ টাকা এবং মোটা চাল (স্বর্ণা বা চায়না ইরি) ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি মানের পাইজাম বা লতা চালের দামে তেমন পরিবর্তন হয়নি।

ডিমের বাজারে মিশ্র চিত্র দেখা গেছে। কিছু বাজারে ফার্মের বাদামি ডিমের হালিতে ৫ টাকা কমে ৪০ থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি হলেও, অন্য কিছু বাজারে লাল ডিমের ডজন ১৩৫ টাকা এবং সাদা ডিম ১২০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

কারওয়ান বাজারে কেনাকাটা করতে আসা আমিনুল ইসলাম বলেন, গরুর মাংস বা দামি মাছ কেনার সুযোগ নেই। এতদিন ব্রয়লার মুরগি আর পাঙ্গাস কিনেই পরিবারের প্রোটিনের চাহিদা মেটাতাম। এখন এসবের দামও বাড়ায় মাসের বাজেট সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

সবজি বিক্রেতা আব্বাস আলী বলেন, টানা বৃষ্টিতে বিভিন্ন এলাকা থেকে সবজি সময়মতো আসছে না। অনেক জায়গায় ক্ষেত পানিতে ডুবে গেছে। ফলে পাইকারি বাজারেই দাম বেড়েছে, যার প্রভাব খুচরা বাজারেও পড়েছে।

মুরগি বিক্রেতা মকবুল জানান, খামার থেকেই বেশি দামে মুরগি কিনতে হচ্ছে। পাশাপাশি পরিবহন ব্যয়ও বেড়েছে। তাই খুচরা বাজারে আগের দামে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না।

ব্যবসায়ীদের মতে, আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে এবং বাজারেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তবে বাজারসংশ্লিষ্টদের অভিমত, প্রোটিন ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে উৎপাদন, পরিবহন ও সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা জরুরি। অন্যথায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়ে যাবে।

amardesh24.com

 

আরও পড়ুন