মানুষের যোগাযোগ, তথ্যপ্রাপ্তি এবং মতপ্রকাশের সুযোগকে অভূতপূর্বভাবে সম্প্রসারিত করেছে। কিন্তু একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে গুজব, অপতথ্য, মানহানি, সাইবার বুলিং, ডিজিটাল চাঁদাবাজি এবং সংগঠিত অপপ্রচারের এক নতুন বাস্তবতা।এসব অপরাধ কেবল ব্যক্তির সম্মানহানি করছে না; সামাজিক স্থিতিশীলতা,
রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশকেও প্রশ্নের মুখে ফেলছে। এই প্রেক্ষাপটে সরকার ‘সাইবার সুরক্ষা আইন’ সংশোধনের যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা সময়োপযোগী ও প্রয়োজনীয়। এ উদ্যোগের জন্য বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রী প্রশংসার দাবিদার।
সংশোধিত আইনে গুজব, অপতথ্য, মানহানি এবং হেয়প্রতিপন্ন করার মতো কর্মকাণ্ডকে সুস্পষ্টভাবে অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বাড়ানো হচ্ছে শাস্তির পরিধি। সংশোধিত আইনে নতুন একটি ধারা (২৬/ক) যুক্ত করে বলা হয়েছে। খসড়া অনুযায়ী, সাইবার মাধ্যমে গুজব বা অপতথ্য ছড়ালে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড অথবা ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে ভুয়া ভিডিও, অডিও, ছবি বা বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট তৈরি ও প্রচারের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। একইভাবে মানহানি বা হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে ডিজিটাল কনটেন্ট প্রচারকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। নারী ও শিশুদের ক্ষেত্রে এ ধরনের অপরাধের শাস্তি আরও কঠোর করার উদ্যোগ বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।
বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি বড় অংশ ব্যক্তিগত যোগাযোগের পরিবর্তে চরিত্রহনন, অপপ্রচার, ব্ল্যাকমেইল এবং চাঁদাবাজির হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। সংঘবদ্ধ কিছু চক্র দেশ-বিদেশ থেকে পরিচালিত হয়ে ব্যবসায়ী, শিল্পপতি, উদ্যোক্তা, রাজনীতিবিদ, শিক্ষক, সরকারি কর্মকর্তা, সাংবাদিক এমনকি সাধারণ নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে। মিথ্যা ও বিকৃত তথ্য ছড়িয়ে তাদের সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার পাশাপাশি অর্থ আদায়ের অভিযোগও দিন দিন বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে এসব অপপ্রচারের কারণে ব্যক্তি, পরিবার এবং প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের সুনাম মুহূর্তেই ধূলিসাৎ হয়ে যাচ্ছে।
উদ্বেগজনক বিষয় হলো, অধিকাংশ ভুক্তভোগী কার্যকর আইনি প্রতিকার পান না। অভিযোগ রয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে মামলা গ্রহণ কিংবা তদন্তেও অনীহা দেখা যায়। ফলে অপরাধীরা দায়মুক্তির সুযোগ পেয়ে আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। এই পরিস্থিতি শুধু আইন প্রয়োগের দুর্বলতাই প্রকাশ করে না, বরং সাইবার অপরাধকে আরও উৎসাহিত করে।
amardesh24.com








