আমারদেশ ২৪ ডেস্ক।
ধামরাই উপজেলার কুল্লা ইউনিয়নের রুপনগরে বেদে পল্লী থাকলেও এতদিন কোনো জেলা প্রশাসক সেখানে যাননি। দীর্ঘ ৩০ বছর পর প্রথমবারের মতো বেদে পল্লীতে গিয়ে বাসিন্দাদের খোঁজখবরনিয়ে তাদের পাশে দাড়িয়েছেন ঢাকা জেলার জেলা প্রশাসক মিজ ফরিদা খানম।
আজ বৃহস্পতিবার ধামরাই উপজেলার বিভিন্ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে রুপনগরের বেদে পল্লীতে যান তিনি। এ সময় পল্লীর বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের জীবনযাপন, সমস্যা ও প্রয়োজনের কথা শোনেন।
জেলা প্রশাসকের উপস্থিতিতে বেদে পল্লীর ৬৩টি পরিবারের মধ্যে শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়। এছাড়া ১২ জনকে ঢেউটিন দেওয়া হয়। ১২ জনের প্রত্যেককে ৬ হাজার টাকা করে মোট ৭২ হাজার টাকা নগদ সহায়তা দেওয়া হয়। পল্লীর ১১৩ জনের মধ্যে শাড়ি ও থ্রিপিস এবং ২০০ শিশুর মধ্যে খেলনা বিতরণ করা হয়।
জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বেদে সম্প্রদায়ের মানুষটি এই এলাকায় বসবাস করলেও তাদের জীবনমান ও বিভিন্ন সমস্যার বিষয়ে সরেজমিনে খোঁজ নেওয়ার সুযোগ হয়নি। জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম প্রথমবারের মতো সেখানে গিয়ে তাদের কথা শুনেছেন এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার উদ্যোগ নিয়েছেন।
এসময় তিনি বেদে জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে উপজেলা পরিষদ থেকে ৫ লক্ষ টাকার প্রকল্প, খাস জমি বরাদ্দ দেওয়া ও ২৫ টি সেলাই মেশিন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন৷
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মিজ ফরিদা খানম বলেন, সমাজের কোনো মানুষ যেন উন্নয়ন ও সরকারি সেবার বাইরে না থাকে, সে লক্ষ্যেই প্রশাসন কাজ করছে। পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন এবং তাদের সন্তানদের শিক্ষা ও স্বাভাবিক বিকাশের সুযোগ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
এদিন ধামরাই উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা, সামাজিক সুরক্ষা ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিতেও অংশ নেন জেলা প্রশাসক। মতবিনিময় এবং ১৮৬ জন এ-প্লাস পাওয়া শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। ৪২ জন প্রাথমিক শিক্ষার্থীর মধ্যে স্কুল ড্রেস, ব্যাগ ও জুতা বিতরণ করা হয়।
এছাড়া উদ্যোক্তা ও আত্মকর্মীদের মধ্যে ঋণ বিতরণ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্পোর্টস ক্লাবে ক্রীড়া সামগ্রী, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য পরিচালিত স্কুলে শিক্ষা উপকরণ, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মধ্যে হুইলচেয়ার এবং তিনটি প্রতিবন্ধী স্কুলে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়।
‘হ্যালো ডিসি’ অ্যাপে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ১৫ জন দুস্থ ও অসহায় ব্যক্তির মধ্যে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। পাশাপাশি গ্রাম পুলিশদের মধ্যে পোশাক ও সরঞ্জাম এবং আব্দুস সোবহান মডেল স্কুলের ৭০০ শিক্ষার্থীর মধ্যে গাছের চারা বিতরণ করা হয়।
amardesh24.com









