ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেছেন, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণে কেউ দুর্নীতি করলে আইনজীবী হিসেবে তিনি নিজেই বাদী হয়ে মামলা করবেন।আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে নেত্রকোণার দুর্গাপুরে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের সঙ্গে এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘আমার নির্বাচনি প্রধান ওয়াদা ছিল ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড নিয়ে কেউ দুর্নীতি করলে আইনজীবী হিসেবে আমি নিজে বাদী হয়ে মামলা দায়ের করবো। আমি আমার দেয়া ওয়াদা রক্ষা করবো। তবে আমি চাই না এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হোক। আপনারা সবাই সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে প্রকৃত তথ্য সংগ্রহ করবেন।’
তথ্য সংগ্রহকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘দল-মত, ধর্ম, বর্ণ ও শ্রেণির ঊর্ধ্বে উঠে প্রকৃত হকদারদের খুঁজে বের করতে হবে। তালিকা করার কাজ শুরু করতে হবে একদম সর্বনিম্ন জায়গা থেকে ছাপড়া ঘর কিংবা যার ঘর নেই সেখান থেকে। আস্তে আস্তে ধাপে ধাপে ওপরে উঠবেন। দুর্গাপুরের একজন দরিদ্র মানুষও যেন এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হয়। সেই আমানত ও ঈমানী দায়িত্ব আপনাদের ওপর ন্যাস্ত।’
স্বচ্ছতা ও কঠোর আইনি ব্যবস্থার বিষয়ে ডেপুটি স্পিকার বলেন, বিগত সময়ে তালিকা তৈরিতে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ ছিল।
তিনি বলেন, ‘বিগত দেড় দশকে সামাজিকভাবে নানা ব্যাধি আমাদের আঁকড়ে ধরেছে। দেখা গেছে সচ্ছল ও বিল্ডিংওয়ালারাও ফ্যামিলি কার্ড পেয়েছে। আমরা সেই অনিয়ম থেকে বেরিয়ে এসে একটি স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই।’
অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি এখন অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে অনুরোধ জানাচ্ছি। কিন্তু কোনো ধরনের অনিয়ম বা ঘুষের অভিযোগ উঠে এলে আর বিন্দুমাত্র ছাড় দেয়া হবে না। সরাসরি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মনে রাখবেন, আইনের হাত আমাদের সবার চেয়ে লম্বা।’
সভায় জানানো হয়, দুর্গাপুর উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ডের শুমারি ও তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য ১০৭ জন কর্মী মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন। তাদের মধ্যে ৯৭ জন তথ্য সংগ্রহকারী এবং ১০ জন সুপারভাইজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
মাঠপর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে কোনো ধরনের জটিলতা দেখা দিলে বা পরামর্শের প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে যোগাযোগ করতে মাঠকর্মীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
amardesh24.com









