নোটিশ: বকেয়া পরিশোধ না হওয়ায় সাইটটি শীঘ্রই সাসপেন্ড হয়ে যাবে, অনুগ্রহ পূর্বক যোগাযোগ করুন। ধন্যবাদ।

পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে সচিবালয় স্থানান্তরের উদ্যোগ।

আমারদেশ২৪ ডেস্ক।

শেরেবাংলা নগরে পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে সচিবালয় স্থানান্তরের উদ্যোগের প্রতিবাদে আন্দোলন করছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনের অংশ হিসেবে বুধবার সকালে মাঠে দুটি মেলার নির্মাণাধীন স্থাপনা ভাঙচুর করেন তাঁরা। পরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের নিবৃত্ত করে ক্যাম্পাসে ফিরিয়ে নেয়।

পুলিশ ও মেলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে পাশাপাশি দুটি মেলার আয়োজন করা হচ্ছে। সেখানে মাসব্যাপী ‘এশিয়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা’ আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। এর পাশেই এক সপ্তাহব্যাপী ‘যুব মেলা’ আয়োজনের কাজ চলছে। দুটি মেলার জন্য মাঠে ফটক ও বিভিন্ন স্টল নির্মাণ করা হচ্ছিল।

মেলার কাজে যুক্ত ব্যক্তিদের অভিযোগ, আজ বুধবার সকালে শেকৃবির ৭০ থেকে ৮০ জন শিক্ষার্থী মাঠে গিয়ে নির্মাণাধীন স্থাপনাগুলো ভাঙচুর করেন, গবেষণার কারণে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি মালামালও নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তাঁরা।

দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, মেলার জন্য নির্মিত টিনের বেড়ার একটি অংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে। কাঠের তৈরি কয়েকটি কাঠামো মাটিতে পড়ে আছে। স্টল নির্মাণের কাজে যুক্ত ব্যক্তিরা সেগুলো খুলে ফেলছিলেন।

যুব মেলার স্টল নির্মাণের কাজে যুক্ত ইউসুফ সর্দার জানান, তাঁরা সরকারের অনুমতি নিয়েই স্টল নির্মাণ করছেন। মাঠ নিয়ে কোনো আপত্তি থাকলে তা সরকারের সঙ্গে মীমাংসা করা উচিত বলে মনে করেন তিনি। এ ঘটনায় তাঁদের দোষ কোথায়, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ইউসুফ বলেন, স্টল ভাঙচুর করে তাঁদের ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে। ভাঙচুরের পর শিক্ষার্থীরা নির্মাণকাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতিও নিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এশিয়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার স্টল নির্মাণের কাজে যুক্ত এক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তাঁদের মেলার মূল ফটক ভাঙচুর করা হয়েছে। শতাধিক শিক্ষার্থী এসে ভাঙচুর চালিয়ে চলে যান। এতে কয়েক লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক তাজুল ইসলাম বলেন, পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে সচিবালয় স্থানান্তরের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা কয়েক দিন ধরে আন্দোলন করছেন। তাঁদের দাবির বিষয়ে প্রশাসনিকভাবে উদ্যোগ নেওয়া হবে। ভবিষ্যতে যাতে ভাঙচুরের মতো ঘটনা না ঘটে, সে জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

শিক্ষার্থীদের দাবি, পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠটি তাঁদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পত্তি। সেখানে সচিবালয় স্থাপন করতে দেওয়া হবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার কাজে ব্যবহারের জন্য মাঠটি ফিরিয়ে দিতে হবে।

এর আগে মঙ্গলবার মেলার মাঠে সচিবালয় স্থাপনের উদ্দেশ্যে মাটির গুণাগুণ পরীক্ষার কাজ চলছিল। দুপুরে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে সেখানে গিয়ে মাটি পরীক্ষার যন্ত্রাংশ ও দুটি গাড়ি ক্যাম্পাসে নিয়ে যান। ওই দিন তাঁরা ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করেন। মাঠ ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে একটি স্টিয়ারিং কমিটিও গঠন করেন শিক্ষার্থীরা।

amardesh24.com

 

আরও পড়ুন