আর্থিক প্রতারণা, হ্যাকিং, ম্যালওয়্যার আক্রমণ, ক্রিপ্টোকারেন্সি জালিয়াতি এবং ডার্কওয়েবে রাষ্ট্রবিরোধী অপতৎপরতা রুখতে বাংলাদেশ পুলিশে আনুষ্ঠানিকভাবে গঠিত হয়েছে বিশেষায়িত সাইবার পুলিশ ইউনিট (সিপিইউ)। প্রথাগত পুলিশিংয়ের গণ্ডি পেরিয়ে প্রথমবারের মতো পুলিশ বাহিনীতে ‘ইথিক্যাল হ্যাকার’ ও সাইবার বিশেষজ্ঞদের সরাসরি অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে
গতকাল (১ অক্টোবর) পুলিশ সদর দপ্তরের ‘হল অব ইন্টিগ্রিটি’তে বাংলাদেশ পুলিশের বিশেষায়িত ও স্বতন্ত্র এই ইউনিটের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
‘রেসপন্ড, ইনভেস্টিগেট অ্যান্ড প্রটেক্ট’ অর্থাৎ সাড়া প্রদান, তদন্ত ও সুরক্ষা মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে গঠিত হয়েছে পুলিশের নতুন এই ইউনিট। একজন অতিরিক্ত আইজিপির নেতৃত্বে এতে জনবল থাকবে ৪ হাজার ৫৯২ জন। যানবাহন থাকবে ২ হাজার ৬৭টি।
নতুন ইউনিট উদ্বোধন প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পরিবর্তনশীল অপরাধের ধরন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে চিরাচরিত সনাতন পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে এসে আধুনিক প্রযুক্তি ও মেধানির্ভর ফোর্সে রূপান্তরের লক্ষ্যেই এই ইউনিটের সূচনা করা হয়েছে।
পুলিশের নতুন এই স্বতন্ত্র ইউনিটের সাংগঠনিক কাঠামো ও পদায়ন বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নতুন গঠিত সাইবার পুলিশ ইউনিটটি একজন অতিরিক্ত আইজিপির নেতৃত্বে পরিচালিত হবে। প্রাথমিকভাবে অতিরিক্ত আইজিপি মো. ইকবাল হোসেনকে এ ইউনিটের দায়িত্ব দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বিভাগীয় পর্যায়ে ডিআইজি ও অতিরিক্ত ডিআইজি এবং জেলা পর্যায়ে পুলিশ সুপার (এসপি) বা দায়িত্বপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি থানা পর্যায়ে ওসির নেতৃত্বে সাইবারকেন্দ্রিক সেবা প্রদান ও তদন্তের জন্য পৃথক সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই), সহকারী সাব-ইন্সপেক্টর (এএসআই) ও কনস্টেবল পদায়ন করা হবে।
অনুমোদিত অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী ইউনিটটির মোট জনবল নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ৫৯২ জন। বিদ্যমান পুলিশ ফোর্সের অভিজ্ঞ ও প্রশিক্ষিত সদস্যদের পদায়নের পাশাপাশি নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এ জনবল পূর্ণাঙ্গ রূপ পাবে।
সাইবার অপরাধের শিকার সাধারণ নাগরিক যেন নিকটস্থ থানা থেকেই দ্রুত আইনি সহায়তা পান, সে লক্ষ্যে দেশের প্রতিটি থানায় একটি করে ‘সাইবার ডেস্ক’ স্থাপন করা হবে। পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এসব ডেস্কে ২ থেকে ৩ জন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সাইবার তদন্তকারী কর্মকর্তা এবং ২ থেকে ৩ জন সহকারী সদস্য ‘ফার্স্ট রেসপন্ডার’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
থানা পর্যায়ের পাশাপাশি সমন্বিত আইনি কার্যক্রম পরিচালনায় জেলা পর্যায়ে ‘সাইবার পুলিশ হাব’, বিভাগীয় ও মেট্রোপলিটন এলাকায় ‘সাইবার ইনভেস্টিগেশন ইউনিট’ এবং পুলিশ সদর দপ্তরের অধীন কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক নেটওয়ার্ক সার্বক্ষণিক কার্যকর থাকবে।
প্রথাগত পুলিশিংয়ের বাইরে ‘ইথিক্যাল হ্যাকার’
সাইবার জগতের জটিল প্রযুক্তিগত অপরাধ মোকাবিলায় প্রথাগত পুলিশ ক্যাডারের পাশাপাশি প্রথমবারের মতো বাহিনীর ভেতরে ১২৫টি অতি-বিশেষায়িত নন-পুলিশ কারিগরি পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। এর আওতায় ইথিক্যাল হ্যাকার, ম্যালওয়্যার অ্যানালিস্ট, ক্রিপ্টো অ্যানালিস্ট, ডার্কওয়েব বিশেষজ্ঞ, সিস্টেম অ্যানালিস্ট, সিকিউরিটি ইঞ্জিনিয়ার ও ডিজিটাল ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের সরাসরি চুক্তিতে বা নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
ইউনিটটিতে উচ্চতর প্রশিক্ষণ ও চুক্তিভিত্তিক বিশেষজ্ঞ নিয়োগ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রথাগত পুলিশিং কাঠামোর বাইরে গিয়ে আন্তর্জাতিক মানের কারিগরি দক্ষতা নিশ্চিত করতে এই ইউনিটে আউটসোর্সিং ও চুক্তিভিত্তিক বিশেষজ্ঞ নিয়োগের বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, সিস্টেম অ্যানালিস্ট, ফাইন্যান্সিয়াল ডাটা অ্যানালিস্ট, সাইবার সিকিউরিটি এক্সপার্ট, নেটওয়ার্ক অ্যাডমিনিস্ট্রেটর, ডার্কওয়েব অ্যানালিস্ট, ক্রিপ্টো অ্যানালিস্ট, ম্যালওয়্যার অ্যানালিস্ট, সোশ্যাল মিডিয়া অ্যানালিস্ট, ইমার্জেন্সি রেসপন্স কনসালট্যান্ট এবং ডিজাস্টার রিকভারি এক্সপার্টসহ বিভিন্ন বিশেষায়িত পদে চুক্তিভিত্তিক উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দেওয়া হবে। তাদের জন্য আলাদা আকর্ষণীয় বেতন কাঠামোর ব্যবস্থা থাকবে। একই সঙ্গে রেগুলার পুলিশ ফোর্সের আইটি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সদস্যদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এখানে নিয়োজিত করা হবে।
amardesh24.com









