বাংলাদেশের প্রধান মন্ত্রীর কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জাতিসংঘে নিয়োগ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে তার ব্যক্তিগত অর্জন, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পেশাগত দক্ষতার বিষয়টি তুলে ধরেছেন মেক্সিকোতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী।
তার মতে, পরিবারের বর্ণাঢ্য ঐতিহ্যের বাইরেও জাইমা রহমানের নিজস্ব পরিচয় রয়েছে। পারিবারিক পরিচয়কে যোগ্যতা কিংবা অযোগ্যতার চূড়ান্ত সনদ হিসেবে বিবেচনা করা হলে ব্যক্তির প্রতি সুবিচার করা হয় না।গতকাল সোমবার রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে এসব কথা লেখেন মুশফিকুল ফজল আনসারী।
পোস্টে তিনি লেখেন, ‘দাদা বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট, দাদি বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী, নানা সাবেক নৌবাহিনী প্রধান ও মন্ত্রী, আর বাবা বর্তমানে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর আসনে আসীন এবং মা স্বনামধন্য চিকিৎসক. এমন পরিবারের একজন সদস্যকে ঘিরে দেশের সাধারণ মানুষ, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও গণমাধ্যমের আগ্রহ থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। বলছি, ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের কথা।’
জাইমাকে নিয়ে সংবাদ, প্রতিবেদন কিংবা সাক্ষাৎকার প্রকাশ স্বাভাবিক উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘তার কর্মস্থল, কাজের ধরন, পেশাগত যোগাযোগ ও ভূমিকা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হতে পারে। জনপরিসরে পরিচিত একজন মানুষের ক্ষেত্রে এসব আগ্রহ অপ্রত্যাশিত নয়। তবে সেই আলোচনায় তার ব্যক্তিগত অর্জনের জায়গাটিও যথাযথভাবে থাকা প্রয়োজন।’
জাইমা রহমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পেশাগত প্রস্তুতির কথা তুলে ধরে মুশফিকুল ফজল আনসারী লেখেন, ‘পরিবারের বর্ণাঢ্য ঐতিহ্যের বাইরেও জাইমা রহমানের নিজস্ব একটি পরিচয় আছে। পড়াশোনা, আইনি প্রশিক্ষণ, ব্যারিস্টার হয়ে ওঠার পথ, পেশাগত অভিজ্ঞতা এবং স্ট্রাগল তার জীবনের এক নিজস্ব অধ্যায়। জাইমা রহমান লন্ডনের কুইন মেরি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন ও রাজনীতিতে স্নাতক এবং ইনার টেম্পলের মাধ্যমে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে যোগ্যতাপ্রাপ্ত ব্যারিস্টার। এই অর্জনগুলোকে কেবল পারিবারিক পরিচয়ের আড়ালে ফেলে দেওয়া মোটেও ন্যায্য নয়।’
জাতিসংঘে পি-৩ পর্যায়ের পদে কাজ করার সম্ভাবনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘নিজের শিক্ষা, মেধা ও প্রাসঙ্গিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে জাতিসংঘে পি-৩ পর্যায়ের একটি পদে কাজ করবেন—এটি অস্বাভাবিক কোনো প্রত্যাশা নয়। পারিবারিক পরিচয়কে যোগ্যতা কিংবা অযোগ্যতার চূড়ান্ত সনদ বানালে ব্যক্তির প্রতি সুবিচার হয় না।’
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দপ্তরের জনবল কাঠামো ও অর্থায়নের বিষয়টিও ব্যাখ্যা করেন মুশফিকুল ফজল আনসারী। তার মতে, ‘এখানে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দপ্তরের কাঠামোটিও জানা প্রয়োজন। সাধারণ পরিষদের সভাপতির দপ্তরের ৪০ জন স্টাফের মধ্যে ৮ জনের বেতন-ভাতা জাতিসংঘের নিয়মিত বাজেট থেকে অর্থায়িত, ৪ জন জাতিসংঘের অন্য সংস্থা বা বিভাগ থেকে প্রেষণে, ২০ জন সদস্য রাষ্ট্র ও পর্যবেক্ষকদের পক্ষ থেকে প্রেষণে কর্মরত এবং ৮ জন সাধারণ পরিষদের সভাপতির দপ্তরের ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থায়নে কর্মরত।’
amardesh24.com









