নোটিশ: বকেয়া পরিশোধ না হওয়ায় সাইটটি শীঘ্রই সাসপেন্ড হয়ে যাবে, অনুগ্রহ পূর্বক যোগাযোগ করুন। ধন্যবাদ।

সর্বশেষ
প্রধানমন্ত্রী কন্যা জাইমা রহমানের আজ জম্মদিন। বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী গুম বিমান বাহিনী কমান্ডার ট্রাইব্যুনালে হাজির। সাবেক আইনমন্ত্রীর ১৭২ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ। প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটুক্তি করায় এক যুবকের ৭ দিনের রিমান্ড। প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেনার দুটি প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে|: সরকার। আগামী নভেম্বর থেকে উম্মুক্ত হচ্ছে সেন্টমার্টিন। সংসদ স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন সুইডেনের রাষ্ট্রদূত। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আবারও ফ্লাইট চলাচল শুরু। জুলাই-আগস্ট ২৪ ছাত্র-জনতার মামলায় ২৩ জনকে মৃত্যুদন্ড যাবজ্জীন১১। মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী স্মরণ সভায় চসিক মেয়র ডা.শাহাদাত হোসেন।

আওয়ামী আমলে যেসব ব্যাংক লুটও দখল হয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক।

রবিবার ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫

ব্যাংক খাতে জালিয়াতির মাধ্যমে বিতরণ করা বড় অঙ্কের সব ঋণই এখন খেলাপি হচ্ছে। এ কারণে অপরিশোধিত ঋণের পরিমাণ বাড়ছে। যা ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের বোঝা বাড়িয়ে দিচ্ছে। যেসব ব্যাংকে ঋণ জালিয়াতি বেশি হয়েছে, সেগুলোতেই বর্তমানে খেলাপি ঋণের বোঝা বেশি। মাত্রাতিরিক্ত খেলাপি ঋণের কারণে জালিয়াতির শিকার ব্যাংকগুলোই বর্তমানে বেশি দুর্বল। এর মধ্যে অতি দুর্বল ৫টি ব্যাংক একীভূত করা হচ্ছে। ব্যাংক খাতের হালনাগাদ সার্বিক চিত্র নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তৈরি প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য উপাত্ত পাওয়া গেছে।

সূত্র জানায়, পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সাড়ে ১৫ বছরে ব্যাংক খাতে নজিরবিহীন লুটপাট হয়েছে। লুটপাট করতে ১১টি ব্যাংক দখল করা হয়েছে। ঋণ জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যাংকে রাখা আমানতকারীদের টাকা যেমন আত্মসাৎ করা হয়েছে, তেমনি ওইসব টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে। পাচার করা টাকায় বিদেশে গড়ে তোলা হয়েছে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিলাসবহুল প্রতিষ্ঠান। পাচারের টাকায় জালিয়াতরা এখন দেশ থেকে পালিয়ে বিদেশে বিলাসবহুল জীবন যাপন করছেন।

এর মধ্যে গত সরকারের মন্ত্রী, সরকারের ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী, আমলা ও ব্যাংকাররা আছেন। তারা ব্যাংক খাত থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে প্রায় ৫ লাখ কোটি টাকা বের করে নিয়েছেন। যেগুলো এখন পর্যায়ক্রমে খেলাপি হচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ বাড়ার জন্য দায়ী মূলত গত সরকারের আমলে বড় অঙ্কের ঋণ জালিয়াতি অর্থাৎ যেসব ঋণ প্রচলিত নিয়মকানুন ভঙ্গ করে দেওয়া হয়েছে। সমাজের মধ্যে গড়ে ওঠা ইচ্ছাকৃত ঋণ খেলাপি সংস্কৃতি এবং সমাজের বহুপাক্ষিক স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর নেতিবাচক প্রভাবের কারণেই ব্যাংক খাতে ঋণ পরিশোধ না করার প্রবণতা বাড়ছে। এতে বেড়ে যাচ্ছে খেলাপি ঋণ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই ধরনের ঋণ বিতরণ প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে। পাশাপাশি ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য সংস্কার ও বিধিবিধানের কঠোর প্রয়োগ শুরু করেছে। বিশেষ করে বড় অঙ্কের ঋণগুলোতে কঠোর তদারকি আরোপ করেছে। যেগুলো খেলাপি হচ্ছে সেগুলো আদায় বা ঋণের অর্থ কোথায় গেছে তার অনুসন্ধান করছে। শিল্পে বিনিয়োগ হয়ে থাকলে শিল্প সচল করার চাপ দিচ্ছে। ব্যাংক খাতে বিতরণ করা ঋণের মানে যাতে ঝুঁকি না বাড়ে এবং আমানতকারীদের ওপর যাতে আঘাত না আসে সেদিকে সতর্ক আছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বিগত সরকারের আমলে জালিয়াতির মধ্যে হলমার্ক গ্রুপের নেওয়া ৪ হাজার কোটি টাকার ঋণের সবই খেলাপি। বেসিক ব্যাংক থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে নেওয়া ৫ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এর মধ্যে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ বেড়ে প্রায় ৮ হাজার ৯০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। জালিয়াতির মাধ্যমে এন্যান টেক্স গ্রুপের সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকার পুরোটাই এখন খেলাপি। ক্রিসেন্ট গ্রুপের প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার মধ্যে অর্ধেকের বেশি খেলাপি। ব্যবসা সচল রাখার জন্য কিছু ঋণে ছাড় দেওয়া হয়েছে। বিসমিল্লাহ গ্রুপের ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা জালিয়াতির পুরোটাই খেলাপি। গ্রুপের মালিক পক্ষ ওইসব টাকা বিদেশে পাচার করে দুবাইয়ে ব্যবসা ও বিলাসী জীবন যাপন করছেন।

এস আলম গ্রুপ জালিয়াতির মাধ্যমে প্রায় ২ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা সরিয়েছেন। এর মধ্যে পাচার করেছেন ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা। গ্রুপের এখন খেলাপি ঋণ ৪০ হাজার কোটি টাকা। বেক্সিমকো গ্রুপের ঋণ জালিয়াতির পরিমাণ প্রায় ৫৩ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ২০ হাজার ৫১৬ কোটি টাকা। সিকদার গ্রুপের ঋণ ১৩ হাজার কোটি টাকা, খেলাপি ২ হাজার ১০০ কোটি টাকা।

 

আরও পড়ুন