নোটিশ: বকেয়া পরিশোধ না হওয়ায় সাইটটি শীঘ্রই সাসপেন্ড হয়ে যাবে, অনুগ্রহ পূর্বক যোগাযোগ করুন। ধন্যবাদ।

সর্বশেষ
আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আবারও ফ্লাইট চলাচল শুরু। জুলাই-আগস্ট ২৪ ছাত্র-জনতার মামলায় ২৩ জনকে মৃত্যুদন্ড যাবজ্জীন১১। মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী স্মরণ সভায় চসিক মেয়র ডা.শাহাদাত হোসেন। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬ সামনে রেখে ২৮ সদস্যের প্রাথমিক দল চূড়ান্ত। যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নিয়ে বাংলাদেশীদের জন্য নতুন সর্তকবার্তা। ইউরোপে ৫ দেশের মানুষের জন্য ভিসা ছাড়াই ভ্রমণের সুযোগ। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে কিশোরীকে ধর্ষণে সেই যুবক গ্রেপ্তার। বলৎকার হুজুরের পক্ষে সাফাই গাইলেন: চুমু দেওয়া হুজুর তাসরিফ। মেট্রোরেলে যাএীদের নিরাপত্তা জোরদার। সীমান্তে ভারত ও চীনের সৈন্যদের মধ্যে একাধিক পয়েন্টে সংঘাত মুখোমুখি।

পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে জেলার দক্ষিণাঞ্চলে।

নিজস্ব প্রতিবেদক।

গত সপ্তাহের টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। জেলার দক্ষিণাঞ্চলেরসাতকানিয়া ও বাঁশখালী উপজেলায় বন্যার তীব্রতা সবচেয়ে বেশি।

এছাড়া চন্দনাইশ, লোহাগাড়া, বোয়ালখালী, পটিয়া ও আনোয়ারা উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। তিন দিন পানিবন্দি থাকলেও দুর্গতদের অনেকে সরকারি বা বেসরকারি কোনো ত্রাণ পাননি। বিদ্যুৎহীনতা, খাবার ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় লাখো মানুষ চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন।

শুক্রবার রাতের বৃষ্টির পর শনিবার সাতকানিয়ার বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ত্রাণ সংকটের বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসার পর সরকার, রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠনগুলো ত্রাণ তৎপরতা জোরদার করে। সরকারি ত্রাণ প্রয়োজনের তুলনায় কম হওয়ায় প্লাবিত এলাকার মানুষের মধ্যে ক্ষোভ দেখা গেছে।

এদিকে শুক্রবার সকালে বাঁশখালীর বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শনে যান জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের খোঁজ নেন এবং শুকনো খাবার ও আর্থিক সহায়তা দেন। অন্যদিকে, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা শুক্রবার সাতকানিয়ার ঢেমশা ইউনিয়ন ও পৌরসভা এলাকা পরিদর্শন করে ৮০০ পরিবারের মাঝে জরুরি ত্রাণ বিতরণ করেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম।

চট্টগ্রামের আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা দিতে ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, জেলা প্রশাসকের অনুরোধে সেনাবাহিনীর ১০ ও ২৪ পদাতিক ডিভিশনের সদস্যরা উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। সেনাসদস্যরা ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে সাতকানিয়ার দুর্গম ও বিচ্ছিন্ন এলাকায় চাল, চিড়া, মুড়ি, বিশুদ্ধ পানিসহ জরুরি খাদ্যসামগ্রী বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিচ্ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা আমির হোসেন বলেন, “অনেক পরিবার কয়েক দিন ধরে ঘরবন্দি। বাজারে যাওয়ার সুযোগ না থাকায় সবাই খাদ্যসংকটে পড়েছিলেন। সেনাবাহিনীর ত্রাণ পৌঁছানোয় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।” সাতকানিয়া উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, সেনাবাহিনী, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্বেচ্ছাসেবীদের সমন্বয়ে এই উদ্ধার কাজ চলছে।

শনিবার সকাল থেকে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও রাজনৈতিক দলের ত্রাণ কার্যক্রমও দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। আনোয়ারা ও চট্টগ্রাম নগর থেকে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী দল বাঁশখালীর দুর্গম গ্রামে ত্রাণ বিতরণ শুরু করে।

বাঁশখালীর কাথারিয়া এলাকার ত্রাণকর্মী নাজিম উদ্দীন ছোটন বলেন, এখানে পরিস্থিতি খুবই খারাপ। আমরা ঘরে ঘরে গিয়ে খাবার তুলে দেওয়ার চেষ্টা করছি।

বাহারছড়ার বাসিন্দা নুর আনোয়ার বলেন, গত দুই দিন কেউ আসেনি, আজ অনেকেই এসেছেন। তবে অনেকের ঘরবাড়ি ভেঙে গেছে।

চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও তিন পার্বত্য জেলার বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং ত্রাণ কার্যক্রম তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, প্রশাসনের পাশাপাশি কোস্ট গার্ড, বিজিবি, আনসার ও সশস্ত্র বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের দুর্গত মানুষও যেন সহায়তা পান, তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা জানান, পর্যাপ্ত ত্রাণ মজুত আছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত উদ্ধার ও ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত থাকবে। তিনি বিত্তবানদেরও দুর্গতদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

amardesh24.com

 

আরও পড়ুন