নোটিশ: বকেয়া পরিশোধ না হওয়ায় সাইটটি শীঘ্রই সাসপেন্ড হয়ে যাবে, অনুগ্রহ পূর্বক যোগাযোগ করুন। ধন্যবাদ।

ট্রাম্প প্রশাসন সফল হলে মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ীভাবে মোতায়েন।

ট্রাম্প প্রশাসন সফল হলে মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ীভাবে মোতায়েনমার্কিন সেনা ও সামরিক স্থাপনার সংখ্যা কমানোর পরিকল্পনা বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। এ নিয়ে দেশটির সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মধ্যে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে সিএনএন।

আলোচনায় শুধু সেনা ও সামরিক স্থাপনা কমানোর বিষয়ই নয়, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা থেকে যেসব মার্কিন ঘাঁটি থাকবে, সেগুলোর নিরাপত্তা আরও জোরদার করার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।

পাকিস্তানের ইংরেজি দৈনিক দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন আজ মঙ্গলবার আনাদোলু এজেন্সির বরাতে জানায়, সিএনএন ছয়টি সূত্রের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পেয়েছে। সূত্রগুলোর মতে, এমন পরিবর্তন হলে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপকভাবে বাড়ানো মার্কিন সামরিক ও গোয়েন্দা উপস্থিতিতে আরেক দফা বড় পরিবর্তন আসতে পারে।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। তাঁদের সঙ্গে রয়েছে দুটি বিমানবাহী রণতরি এবং এক ডজনের বেশি গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার।সিএনএনের দুটি সূত্র জানিয়েছে, আগামী বছর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর কাঠামো পরিবর্তনের সম্ভাব্য কয়েকটি পরিকল্পনা তৈরি করেছে সামরিক বাহিনী। তবে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বাহিনী পুনর্বিন্যাসের কোনো পর্যালোচনা শুরু হয়নি।

উপসাগরীয় কয়েকটি দেশে মার্কিন সেনা কমিয়ে প্রতিরক্ষার বড় দায়িত্ব আঞ্চলিক মিত্রদের হাতে তুলে দেওয়ার পক্ষে পেন্টাগনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের একটি অংশ রয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে সেনা কমানোর পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন বাহিনীর নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে পরিকল্পনা করা হচ্ছে। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা মোকাবিলায় কিছু সামরিক স্থাপনা মাটির নিচে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

সংঘাতের সময় ইরানের হামলায় মার্কিন ঘাঁটিগুলোর দুর্বলতা প্রকাশ পাওয়ার পর এই উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়েছে। এক মার্কিন কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেন, এসব দুর্বলতা আগে থেকেই জানা ছিল, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র কখনোই তা নিয়ে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয়নি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের হামলায় সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে সিআইএর একটি ঘাঁটি কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে। এ ছাড়া বাহরাইন, কাতার, সৌদি আরব ও কুয়েতে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতেও হামলা হয়েছে।

গোয়েন্দা তৎপরতা ও বিশেষ অভিযান পরিচালনায় মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী ঘাঁটি রাখার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও পর্যালোচনা চলছে। কোনো ক্ষেত্রে স্থায়ী ঘাঁটির প্রয়োজন না থাকলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে নির্দিষ্ট অভিযানের জন্য জনবল ও সরঞ্জাম পাঠিয়ে পরে ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হতে পারে।

হামলায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বা পুরোপুরি ধ্বংস হওয়া কিছু সামরিক স্থাপনা বিপুল ব্যয়ের কারণে নতুন করে নির্মাণ না করার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে ওয়াশিংটনের। পেন্টাগনের কম্পট্রোলার জুলস ‘জে’ হার্স্ট তৃতীয় গত এপ্রিলেই জানিয়েছিলেন, ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা পুনর্নির্মাণ করা হবে কি না, তা নির্ভর করবে ভবিষ্যতে ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবস্থানের ওপর।

তবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনা কমানোর আলোচনা শুরু হলেও ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সমঝোতা এখনো অনেক দূরে। গত সপ্তাহেও জর্ডান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে থাকা মার্কিন স্থাপনায় ইরান হামলা চালিয়েছে।

পেন্টাগনের কর্মকর্তারা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে কিছু বড় ও স্থায়ী মার্কিন সামরিক ঘাঁটি অবশ্যই বজায় থাকবে। তবে সেগুলো পুনর্নির্মাণে কয়েক বিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকেও ব্যয়ের একটি অংশ বহন করতে হতে পারে।

এদিকে বাহরাইনে থাকা মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদস্যদের দ্রুত ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল ড্যারিল কডল গত সপ্তাহে বলেছেন, ‘আমরা শিগগিরই সেখানে ফিরছি না।

amardesh24.com

 

আরও পড়ুন