তথ্য গোপন ও প্রতারণার অভিযোগে এক আইনজীবীকে ৫লাখ টাকা জরিমান করাকে কেন্দ্র করে আপিল বিভাগের শুনানিতে বাগবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীসহ আপিল বিভাগের সব বিচারপতি এজলাস ত্যাগ করেন।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে ঘটনাটি ঘটে পরে সুপ্রিম কোর্টের সার্বিক পরিস্থিতি ও এজলাস ত্যাগের কারণ নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে বিস্তারিত কথা বলেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।
ঘটনার পটভূমি ব্যাখ্যা করে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ২০১৩ সালে কাজী নিয়োগ সংক্রান্ত একটি মামলা থেকে ঘটনার সূত্রপাত। একই আদেশ চ্যালেঞ্জ করে বাদী একাধিক রিট আবেদন দায়ের করেন। হাইকোর্টের বিধি অনুযায়ী, পূর্বে দায়েরকৃত মামলা খারিজ হলে পরবর্তী আবেদনের ক্ষেত্রে তা উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক। তবে সংশ্লিষ্ট নারী আইনজীবী পূর্বের খারিজ আদেশের তথ্য গোপন রেখে একের পর এক রিট দায়ের করেন।
তিনি জানান, আদালতের সঙ্গে প্রতারণার গুরুতর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আপিল বিভাগ ওই নারী আইনজীবী ও রিট আবেদনকারী উভয়কে পাঁচ লাখ টাকা করে জরিমানা করেন। জরিমানার এই অর্থ ঢাকা শিশু হাসপাতালে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সকালে আদেশ ঘোষণার সময় সংশ্লিষ্ট আইনজীবী বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ওই মামলায় জ্যেষ্ঠ আইনজীবী হিসেবে যুক্ত ছিলেন সুপ্রিম কোর্ট বার সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন।
পরবর্তীতে দুপুরে দ্বিতীয় দফায় আদালত বসলে ব্যারিস্টার খোকন জরিমানার বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন। প্রধান বিচারপতি সাফ জানিয়ে দেন, পর্যালোচনার পরেই এই আদেশ দেওয়া হয়েছে এবং তা অপরিবর্তিত থাকবে।
অ্যাটর্নি জেনারেল আরও জানান, কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ব্যারিস্টার খোকন প্রধান বিচারপতিকে উদ্দেশ্য করে অনাকাঙ্ক্ষিত মন্তব্য করে বসেন। প্রধান বিচারপতি বিষয়টিকে আদালত অবমাননাকর হিসেবে উল্লেখ করেন এবং ক্ষোভ প্রকাশ করে বিচারিক কার্যক্রম স্থগিত রেখে এজলাস ত্যাগ করেন।
আইনজীবীদের অভিভাবক হিসেবে প্রধান বিচারপতির পদমর্যাদার প্রতি শ্রদ্ধা রাখার আহ্বান জানিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল আশা প্রকাশ করেন, বিচারাঙ্গনের পেশাগত সৌহার্দ্য ও স্বাভাবিক পরিবেশ দ্রুত ফিরে আসবে।
amardesh24.com









