আমারদেশ২৪ ডেস্ক।
জামায়াতে ইসলামী নিজেদের নেতাদের ক্ষেত্রে ন্যায়বিচারের কথা বললেও অন্যদের ক্ষেত্রে তা মানতে নারাজ বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক নেত্রী ডা. তাসনিম জারা। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, বিরোধী দলে থাকতেই একজনের নিজের বসতভিটায় দাফনে বাধা দেওয়া হচ্ছে, রাষ্ট্রের সব ক্ষমতা তাদের হাতে গেলে কী করবেন?
আজ সোমবার সকালে নিজের যাচাইকৃত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা লেখেন তাসনিম জারা।
পোস্টে তিনি লেখেন, আমাদের সমাজে কেউ মারা গেলে কবর খোঁড়ার জন্য কাউকে আলাদাভাবে ডেকে আনতে হয় না। খবর পেয়ে পাড়ার ছেলেরা কোদাল হাতে ছুটে আসেন। কেউ বাঁশ কেটে আনেন, কেউ চাটাই নিয়ে আসেন। মৃত ব্যক্তির দাফনে দেরি করা উচিত নয়—এ শিক্ষা নিয়েই মানুষ বড় হয়।
তাসনিম জারা লেখেন, শনিবার সকাল ১০টার দিকে ৮৭ বছর বয়সী মানিক পশারী মারা যান। এরপর সারাদিন তার পরিবারকে মরদেহ নিয়ে উৎকণ্ঠার মধ্যে অপেক্ষা করতে হয়। স্থানীয় জামায়াতের নেতাকর্মীরা মিছিল করেন এবং মাইক ও ফেসবুকে ঘোষণা দেন, পিরোজপুরে তাকে দাফন করতে দেওয়া হবে না।
প্রথমে তার বাড়িতে একটি কবর খোঁড়া হয়েছিল উল্লেখ করে তাসনিম জারা লেখেন, মানিক পশারীর মেয়ে সীমু আক্তার স্থানীয় সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, কয়েকজন এসে সেই কবর ভরাট করে দেন।
তিনি আরও লেখেন, পরে ফুফুদের সঙ্গে নিয়ে তিনি নতুন করে কবর খোঁড়েন। পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার আশঙ্কায় কবর খোঁড়ার জন্য আর কাউকে পাওয়া যায়নি। যে কোদাল পাড়ার ছেলেদের হাতে থাকার কথা, সেদিন তা ছিল মৃত ব্যক্তির মেয়ে ও বোনদের হাতে। শেষ পর্যন্ত মধ্যরাতের পর পুলিশি পাহারায় মেয়ে ও বোনদের খোঁড়া কবরে তার দাফন সম্পন্ন হয়। প্রশাসনের লোকজন ছাড়া পরিবারের বাইরের কেউ সেখানে উপস্থিত ছিলেন না।
তাসনিম জারা উল্লেখ করেন, মানিক পশারী একজন সরকারি গেজেটভুক্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। পিরোজপুর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি সেদিন দাবি করেছিলেন, মানিক পশারী ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা। তাকে গার্ড অব অনার দিতে দেওয়া হবে না এবং পিরোজপুরের মাটিতেও দাফন করতে দেওয়া হবে না। অথচ দাফনের পর সেই একই নেতা বলেছেন, জামায়াতের নেতারা লাশের রাজনীতি করেন না।
amardesh24.com









