রেলস্টেশন-সংলগ্ন রেলগেট এলাকায় অস্ত্র উঁচিয়ে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে সম্প্রতি আলোচনায় আসেন সদ্য সাবেক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।
এ ঘটনায় তাঁর পাশাপাশি সহযোগীদের হাতে থাকা অস্ত্র নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক পাভেল শিকদারকে রাইফেল হাতে মহড়া দিতে দেখা যায়। পুলিশ জানিয়েছে, রাইফেলটি ইশরাক হোসেনের নামে লাইসেন্স করা।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ওয়ারী জোনের উপকমিশনার মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পাভেলের কাছে রাইফেলটি থাকার বিষয়ে তাঁকে কিছু জিজ্ঞাসা করা হয়নি। এ নিয়ে কোনো তদন্তও করা হয়নি।
অস্ত্র উঁচিয়ে অভিযানের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন ইশরাক হোসেন। ওই ভিডিওতে তাঁর সঙ্গে পাভেল শিকদারসহ একাধিক ব্যক্তিকে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে দেখা যায়।
ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, পাভেলের হাতে থাকা অস্ত্রটি ইশরাক হোসেনের নামে লাইসেন্স করা একটি বিদেশি রাইফেল। জার্মানিতে তৈরি অস্ত্রটি পয়েন্ট ২২ বোরের। রাইফেলটির বিপি নম্বর ১০২০৩৩ এবং মডেল ওয়ালথার কোল্ট এমফোর।
ডিএমপির ওয়ারী জোনের উপকমিশনার মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী বলেন, ‘সাবেক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের মাদকবিরোধী অভিযানে ছাত্রদল নেতা পাভেলের হাতে যে অস্ত্রটি দেখা গেছে সেটি একটি পয়েন্ট টুটু বোরের রাইফেল। এটির মালিক ইশরাক হোসেন বলে আমরা নিশ্চিত হয়েছি।’
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ইশরাক হোসেন আগ্নেয়াস্ত্র হাতে গাড়ি থেকে নামছেন। পরে তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা রেললাইনের পাশে অবস্থান করা কয়েকজনকে আটক করতে এগিয়ে যান।
ওই অভিযানে ইশরাকের সঙ্গে ছিলেন তাঁর নিয়োগ দেওয়া দুই ব্যক্তিগত দেহরক্ষী তোফাজ্জল হোসেন ও লাভলু। এ ছাড়া সেখানে একজন সরকারি দেহরক্ষীও উপস্থিত ছিলেন। ব্যক্তিগত দুই দেহরক্ষীর হাতেও অস্ত্র ছিল। ভিডিওতে সরকারি দেহরক্ষীকে অস্ত্র তাক করে থাকতে দেখা যায়।
একই ভিডিওতে দেয়ালের ওপর রাইফেল হাতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক পাভেল শিকদারকে। তাঁর হাতে থাকা রাইফেলটি নিয়ে তদন্ত হয়েছে কি না, জানতে চাইলে ডিএমপির ওয়ারী জোনের উপকমিশনার বলেন, ‘এ বিষয়ে কোনো তদন্ত করিনি।’
amardesh24.com









