নোটিশ: বকেয়া পরিশোধ না হওয়ায় সাইটটি শীঘ্রই সাসপেন্ড হয়ে যাবে, অনুগ্রহ পূর্বক যোগাযোগ করুন। ধন্যবাদ।

সর্বশেষ
রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোতে সবজির দামে রীতিমতো আগুন লেগেছে। চবি এক নারী শিক্ষার্থীকে চলন্ত বাসে শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্তা। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আগামী সোশ্যাল ফাউন্ডেশনের করা জরিপে উঠে এসেছে। আরবিএফএ আনুষ্ঠানিকভাবে ৪৯ বছর বয়সী এই ডাচ কোচের নাম ঘোষণা করেছে। প্রায় ২১ মাস আগেই দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতির অধ্যায়ের অবসান ঘটিয়েছেন। ব্রাজিল ভারতের মাটিতে খেলতে আসতে পারে। চেরাগী মোড় এলাকা থেকে অপহৃত এক মা ও তাঁর ছেলেকে ৬ ঘণ্টার মধ্যে উদ্ধার। কনটেন্ট নিম্নমানের পোস্টের বিস্তার ঠেকাতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে মেটা। সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দীনকে গ্রেপ্তারে দাবী: এনসিপি। উৎপাদনমুখী দেশ গড়ার পরিবর্তে কার্ডের নামে বাড়িতে বাড়িতে বেকারত্বে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

রাজশাহীতে বিএনপি নেতারা ক্ষমতার আগে কমিটি ভাগাভাগী।

print sharing button

ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে ৫ আগস্টের আগে মিছিল করায় রাজশাহী মহানগর বিএনপির অফিসে ভাঙচুর চালানো হয়। নগর বিএনপির ও অঙ্গসংগঠনের অফিসেগুলোতে হামলা হয়। কিন্তু গণ অভ্যুত্থানের পরের চিত্র আলাদা। এক সময়ের বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত রাজশাহী যেন আবার নবযৌবন ফিরে পেয়েছে।

নগরীতে দলীয় ছোটো-খাটো মিছিলেও হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। রাজশাহী মহানগর বিএনপির সেই অফিস এখন নেতাকর্মীদের পদচারণায় মুখরিত। এমনকি ওয়ার্ড বিএনপির কার্যালয়গুলোতেও নেতাকর্মীদের ভিড়।

এগিয়ে যাওয়ার যখন সময়, তখন বিভক্ত পড়েছে নগর বিএনপি। এই দ্বন্দ্ব অনেকে স্বাভাবিকভাবে নিলেও বাইরে থেকে সাধারণ মানুষ তা ভালোভাবে গ্রহণ করছেন না। এতে নষ্ট হচ্ছে দলের ভাবমূর্তি। এমনটাই দাবি বিএনপির তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের।

রাজশাহী মহানগর আহ্বায়ক কমিটি ইতোমধ্যে দুই ভাগে বিভক্ত। সম্প্রতি জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে দলটির নেতাকর্মীরা দুই ভাগে ভাগ হয়ে কর্মসূচি পালন করে। তখনই সাধারণ মানুষের কাছে অন্তঃকোন্দলের বিষয়টি স্পষ্ট

কিন্তু সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে তৃণমূলের কর্মীরা বিষয়টিকে ভালোভাবে নিচ্ছেন না। তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মী জানান, দীর্ঘদিন পর বিএনপি রাজনীতি চর্চার সুযোগ পেয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি ছিলেন সাবেক মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল ও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন। ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর ওই কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। বুলবুল-মিলন কমিটি বিলুপ্ত করে কেন্দ্র থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধা এরশাদ আলী ইশাকে আহ্বায়ক ও মামুনুর রশিদকে সদস্যসচিব করে ৯ সদস্যের রাজশাহী মহানগর কমিটি ঘোষণা করা হয়।

দলীয় সূত্রে আরো জানা গেছে, চলতি বছর ২৪ অক্টোবর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ আলী ইশা, যুগ্ম আহ্বায়ক নজরুল হুদা ও সদস্যসচিব মামুনুর রশিদ নগরের সাত থানার আংশিক আহ্বায়ক কমিটি গঠন করেন। কমিটিগুলোর পদ নিয়ে নানান বিতর্কের অভিযোগ তোলেন মহানগর আহ্বায়ক কমিটির চার যুগ্ম আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন, আসলাম সরকার, জয়নাল আবেদিন ও ওয়ালিউল হক রানা। ওই চার নেতা পাল্টা থানা আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেন।

এ বিষয়ে রাজশাহী মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ওয়ালিউল হক রানা বলেন, ‘রাজশাহী মহানগরে ৩৭টি সাংগঠনিক ওয়ার্ড। এর মধ্যে আহ্বায়ক কমিটি হয়েছে ৩৬টির। ওয়ার্ড কমিটিগুলোর পাশাপাশি তারা ঘরে বসে থানা কমিটি করেছেন। কমিটি গঠন নিয়ে মতবিরোধের কারণে আমরা পাল্টা কমিটি করেছি।’

রাজশাহী মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ আলী ইশা বলেন, ‘আমাদের কমিটির বিরুদ্ধে চার যুগ্ম আহ্বায়ক পাল্টা কমিটি দিয়েছেন। তাদের দেওয়া কমিটির কোনো বৈধতা নেই।’

দ্বন্দ্বটা দলীয় নেতাদের ভেতর ভেতর থাকলেও প্রকাশ্যে আসে ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসকে কেন্দ্র করে। ওই দিন বিএনপির তিনটি গ্রুপ আলাদা কর্মসূচি পালন করে।

৭ নভেম্বর বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনুর নেতৃত্বে জাতীয় পতাকা উত্তোলনসহ নগরজুড়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়।

আর ৮ নভেম্বর মহানগর বিএনপির চার যুগ্ম আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন, আসলাম সরকার, জয়নাল আবেদিন ও ওয়ালিউল হক রানার নেতৃত্বে রাজশাহী কলেজ চত্বরে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও র‌্যালি হয়।

পরের দিন ৯ নভেম্বর বিএনপির মহানগর কমিটির আহ্বায়ক এরশাদ আলী ইশা, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নজরুল হুদা ও সদস্যসচিব মামুনুর রশিদের নেতৃত্বে নগরের ভুবনমোহন পার্কে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

বিএনপির রাজশাহী বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহীন শওকত বলেন, ‘বিএনপি একটি বৃহৎ সংগঠন। সবাই নেতৃত্বে আসতে চায়। প্রতিযোগিতার জায়গা থেকে এমনটা হতে পারে। এছাড়া দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে মান-অভিমান থাকতেই পরে। আমরা আলাপ-আলোচনা করেছি। সমাধানের জায়গায় পৌঁছেছি। খুব তাড়াতাড়ি কেন্দ্রীয় নেতাদের কয়েকজন রাজশাহী আসবেন। আশা করছি, এই বিরোধ মিটিয়ে ফেলা যাবে।’

রাজশাহী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাইদ চাঁদ বলেন, ‘দল একটি। এখানে দুই ভাগ বলতে কিছু নেই। আমরা সবাই এখন তারেক রহমানের দেশে ফেরার অপেক্ষায় আছি। তিনি এলেই সব ঠিক হয়ে যাবে।’

আরও পড়ুন