আনোয়ারায় চাঞ্চল্যকর মা-মেয়ে হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদ্ঘাটন করেছে জেলা পুলিশ।ঋণের চুক্তিপত্র (স্ট্যাম্প) ছিনিয়ে নিতেই এই জোড়া খুন করা হয়েছে বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত রিমন বড়ুয়া ওরফে তেজ্যপ্রিয় বড়ুয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ,
সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মাসুদ আলম। এর আগে গত রাতে পটিয়া থানা এলাকা থেকে আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার রিমন বড়ুয়া আনোয়ারার পরৈকোড়া ইউনিয়নের চেনামতি এলাকার বেশান্ত বড়ুয়ার ছেলে। তিনি ওই ইউনিয়ন (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার রিমন বড়ুয়া জানান, ভিকটিম এনি বড়ুয়ার বাড়িতে সুজন বড়ুয়া নামের এক ব্যক্তির ঋণ সংক্রান্ত স্ট্যাম্প (চুক্তিপত্র) সংরক্ষিত ছিল। সেই চুক্তিপত্রটি চুরি করার উদ্দেশ্যেই একটি চাকু নিয়ে ওই বাড়ির পেছনের দরজায় ওঁৎ পেতে ছিলেন রিমন। এসময় গৃহকর্ত্রী এনি বড়ুয়া ঘর থেকে বের হয়ে রিমনকে দেখে ফেলেন এবং চিৎকার শুরু করেন। ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে রিমন তাকে চাকু দিয়ে আঘাত করেন। মায়ের চিৎকার শুনে মেয়ে প্রিয়ন্তী বড়ুয়া ঘটনাস্থলে ছুটে এলে তাকেও এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, টাকা-পয়সা ধার ও চুক্তিপত্র ছিনিয়ে নেয়াকে কেন্দ্র করেই ঘটনাটি ঘটেছে। তাদের নিজেদের মধ্যকার অন্তর্দ্বন্দ্বের বাইরে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো রাজনৈতিক বা ভিন্ন উদ্দেশ্য আমরা পাইনি। এটি একেবারেই সামাজিকভাবে ঘটে যাওয়া একটি অপরাধ। হত্যাকাণ্ডের পর আসামি দ্রুত স্থান পরিবর্তন করে আত্মগোপনের চেষ্টা করছিল। জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও আনোয়ারা থানা পুলিশের যৌথ দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পটিয়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। জিজ্ঞাসাবাদে আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাকু এবং ভিকটিমের মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
amardesh24.com









