গণঅভ্যুত্থানকে ঘিরে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে একাধিক শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়েছেবিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. সাদেকা হালিমকে সাময়িকভাবে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে অভিযোগের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামীপন্থি নীল দলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত পাঁচজন এবং অনিয়ম ও এমফিল-পিএইচডি থিসিসে চৌর্যবৃত্তির অভিযোগে আরও একজনসহ মোট ছয় অধ্যাপককে সব ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য ও উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম এবং উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো, আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে গত মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাতে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ক্লিনিক্যাল ফার্মেসি অ্যান্ড ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক মো. আবদুল মুহিত, ফার্মাসিউটিক্যাল টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক আবু সারা শামসুর রউফ, ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বাহাউদ্দিন, পিস অ্যান্ড কনফ্লিক্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. রফিক শাহরিয়ার, নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক আফরোজা শেলী এবং একই বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলামকে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ক্লাস নেওয়া, প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন এবং অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বাহাউদ্দিনের বিরুদ্ধে নানাবিধ অনিয়মের পাশাপাশি এমফিল ও পিএইচডি থিসিসে সাদৃশ্যমূলক চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে তাকেও বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে বিরত রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে, অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিমের বিরুদ্ধে পূর্ববর্তী তদন্ত কমিটির স্থায়ী বহিষ্কারের সুপারিশ বিশ্ববিদ্যালয় ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে তদন্ত পরিচালিত হয়। এখন বিশ্ববিদ্যালয় ট্রাইব্যুনাল অভিযোগগুলো পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম ২০২২ সালে আওয়ামী লীগের (বর্তমান কার্যক্রম নিষিদ্ধ) উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। এর আগে তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করেন।
এ বিষয়ে ড. সাদেকা হালিম বলেন, ট্রাইব্যুনালের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চান না। একইভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পাওয়া ছয় অধ্যাপকও এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।
amardesh24.com









