চাঁদাবাজি, ছিনতাই, কিশোর গ্যাং ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে নতুন কৌশল গ্রহণ করেছেঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদের নির্দেশনায় পরিচালিত ‘শংকর’ অভিযান ও ২৪ ঘণ্টার বিশেষ চিরুনি অভিযানে ৪৬৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিপুল পরিমাণ মাদক, চোরাই মালামাল ও জালিয়াতির সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে পুলিশ।
প্রায় দুই কোটি মানুষের আবাস রাজধানী ঢাকা। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা পুলিশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় জনমনে উদ্বেগ তৈরি হয়। এ পরিস্থিতিতে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে তথ্যনির্ভর ও গোয়েন্দাভিত্তিক অভিযান জোরদার করেছে ডিএমপি।
ডিএমপির তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীর আটটি বিভাগ ও বিশেষায়িত ইউনিটের সমন্বিত অভিযানে মোট ৪৬৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সময়ে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় ৫৭টি মামলা হয়েছে।
বিভাগভিত্তিক গ্রেফতারের সংখ্যা:
• মিরপুর বিভাগ ১১৫ জন
• মতিঝিল বিভাগ ৭৪ জন
• ওয়ারী বিভাগ ৫৯ জন
• তেজগাঁও বিভাগ ৫৩ জন
• উত্তরা বিভাগ ৫২ জন
• গুলশান বিভাগ ৪৩ জন
• রমনা বিভাগ ৩০ জন
• লালবাগ বিভাগ ২৮ জন
• সিটিটিসি ১১ জন
• গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) ১ জন
অভিযানে একটি জিপ, একটি মোটরসাইকেল, একটি অটোরিকশা, একটি পানির মিটার, একটি ল্যাপটপ, দুটি সিপিইউ, একটি হার্ডডিস্ক, একটি মনিটর, ২১টি মোবাইল ফোন, ১৩৫টি সিমকার্ড, ১ কেজি ২৫০ গ্রাম গাঁজা, ৬ হাজার ৬৫৮ পিস ইয়াবা, ৭০ লিটার দেশীয় মদ এবং ৬০টি বুপ্রেনরফিন ইনজেকশন উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ছাড়া রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নাম ব্যবহার করে জালিয়াতি করা একটি চক্রের কাছ থেকে প্রধান উপদেষ্টা, মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও অন্যান্য উচ্চপদস্থ ব্যক্তির নামে ব্যবহৃত ৪১টি জাল সিল এবং ৩২০ পাতা অফিসিয়াল লেটারহেড উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য, এসব আলামত সংঘবদ্ধ জালিয়াতি চক্রের সক্রিয়তার প্রমাণ।
ডিএমপি কমিশনারের নতুন কৌশলের অন্যতম দিক হলো তথ্যভিত্তিক ও গোয়েন্দানির্ভর অভিযান। অপরাধপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করে সিসিটিভির নজরদারি বাড়ানো, ডিজিটাল ট্র্যাকিং এবং আন্ডারকাভার টিমের মাধ্যমে অপরাধীদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
এ ছাড়া আকস্মিক ‘টার্গেটেড ব্লক রেইড’ এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট এলাকা ঘিরে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে, যাতে অপরাধীদের পালানোর সুযোগ কমে যায়।
কিশোর গ্যাং, ফুটপাতকেন্দ্রিক চাঁদাবাজি ও সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি সাইবার অপরাধ, সিম জালিয়াতি এবং সরকারি নথি জালিয়াতির মতো অপরাধেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের মতে, এ ধরনের ধারাবাহিক ও পরিকল্পিত অভিযান অব্যাহত থাকলে ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও সংঘবদ্ধ অপরাধ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু অভিযান নয়, গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার এবং আইনের কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত সহযোগিতার মাধ্যমে নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও অপরাধমুক্ত রাজধানী গড়ে তোলাই এখন সবচেয়ে বড় লক্ষ্য।
amardesh24.com









