নোটিশ: বকেয়া পরিশোধ না হওয়ায় সাইটটি শীঘ্রই সাসপেন্ড হয়ে যাবে, অনুগ্রহ পূর্বক যোগাযোগ করুন। ধন্যবাদ।

সর্বশেষ
মণিপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে কৃতিত্বের সাথে গোল্ডেন এ-প্লাস অর্জন। বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে ৬ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। আমের শুঘ্রাণ থাকলেও অনেক চাষির মুখে রয়ে গেছে হতাশার ছাপ। ডারউইনে দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টে মুখোমুখি হবে দুই দল। ডাকাতির ঘটনায় জড়িত ৭জনকে গ্রেপ্তার করেছে : জোরারগঞ্জ থানা-পুলিশ। ঢাকায় সফরে এসেছেন ভারতের বহিঃগোয়েন্দা সংস্থা। বিতর্কিত পরিচালকদের ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার পথ বন্ধ হয়ে গেছে।, বান্দরবান সীমান্তে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা, বিদেশি অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার। ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি খেলা নিশ্চিত করেছে রশিদ খানের দল। অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে ১৫ জন নারীকে গ্রেফতার।

ক্ষমতাসম্পন্ন মাতারবাড়ী আল্ট্রা-সুপারক্রিটিক্যাল।

মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ীতে অবস্থিত দেশের অন্যতম বৃহৎ বিদ্যুৎ প্রকল্প ১২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন মাতারবাড়ী আল্ট্রা-সুপারক্রিটিক্যা কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ রোববার নির্ধারিত সফরসূচি অনুযায়ী সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী হেলিকপ্টার মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্র সংলগ্ন হেলিপ্যাডে অবতরণ করে। পরে তিনি সরাসরি প্রকল্পের প্রশাসনিক ভবনে যান। সেখানে প্রকল্পের সার্বিক কার্যক্রম পর্যালোচনা এবং বিভিন্ন স্থাপনা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।

সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিদ্যুৎকেন্দ্রের সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত পর্যালোচনা সভায় অংশ নেন। এ সময় সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিদ্যুৎকেন্দ্রের বর্তমান পরিচালন ব্যবস্থা, দৈনন্দিন বিদ্যুৎ উৎপাদন, উৎপাদন সক্ষমতা, জ্বালানি সরবরাহ ও ব্যবস্থাপনা, যন্ত্রপাতির কার্যক্ষমতা, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।

সভায় মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রকে ঘিরে ভবিষ্যতের বিভিন্ন পরিকল্পনাও প্রধানমন্ত্রীর সামনে উপস্থাপন করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বর্তমানে সম্পূর্ণভাবে দেশীয় দক্ষ প্রকৌশলী ও জনবলের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।

দেশীয় প্রকৌশলী ও প্রযুক্তিবিদদের দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁদের কাজের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি উৎসাহ দেন। সফরকে স্মরণীয় করে রাখতে বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রাঙ্গণে একটি নিমগাছের চারা রোপণ করেন তিনি।

জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার ঋণ এবং আন্তর্জাতিক আধুনিক কারিগরি সহায়তায় নির্মিত মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্র দেশের বিদ্যুৎ খাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। ১২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে ৬০০ মেগাওয়াট করে দুটি ইউনিট রয়েছে। ইউনিট দুটি আল্ট্রা-সুপারক্রিটিক্যাল প্রযুক্তিতে পরিচালিত হয়। এ প্রযুক্তির মাধ্যমে বায়ুমণ্ডলে ক্ষতিকর গ্যাসের নিঃসরণ তুলনামূলকভাবে কম রাখা সম্ভব।

বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্রের পাশাপাশি প্রকল্পের আওতায় কয়লা পরিবহনের জন্য গভীর সমুদ্রভিত্তিক নিজস্ব বন্দর ও জেটি সুবিধা, উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন, সংযোগ সড়ক এবং বিভিন্ন সহায়ক অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে।

প্রকল্পটি জাতীয় গ্রিডে স্থিতিশীল বিদ্যুৎ সরবরাহের পাশাপাশি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

প্রশাসনিক ভবনে বৈঠক শেষে দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিভিন্ন কার্যকরী অংশ ও ভবিষ্যতে বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তাবিত স্থানগুলো পরিদর্শন শুরু করেন।

দুপুর ১২টা ২৯ মিনিটে তিনি প্রস্তাবিত ৭০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের স্থান পরিদর্শন করেন। সেখানে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রাথমিক পরিকল্পনা ও উৎপাদন সম্ভাবনা সম্পর্কে তাঁকে অবহিত করেন।

একই এলাকায় প্রস্তাবিত এলএনজিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, পেট্রোকেমিক্যাল প্রকল্প এবং আধুনিক তেল শোধনাগার নির্মাণের জন্য নির্ধারিত স্থানও প্রধানমন্ত্রীকে দেখানো হয়।

এরপর প্রধানমন্ত্রী এলপিজি, এলএনজি ও কয়লা টার্মিনালসংক্রান্ত বিদ্যমান অবকাঠামো এবং ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের জন্য নির্ধারিত স্থানগুলো পরিদর্শন করেন। এসব প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি বাস্তবায়নের সময়সীমা নিয়েও সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।

সফরের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী বিদ্যুৎকেন্দ্রের কয়লা জেটি পরিদর্শন করেন। সেখান থেকে তিনি মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, এলএনজি টার্মিনাল এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেন।

পরিদর্শনের শেষ পর্যায়ে তিনি প্রস্তাবিত সাময়িক এলপিজি জেটি এবং ভবিষ্যতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের তৃতীয় ও চতুর্থ ইউনিট নির্মাণের জন্য সংরক্ষিত স্থানগুলো ঘুরে দেখেন। প্রকল্প পরিচালকেরা প্রস্তাবিত নতুন ইউনিটগুলোর অবকাঠামোগত নকশা ও পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে বিস্তারিত জানান।

দীর্ঘ পরিদর্শন শেষে দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী হেলিপ্যাডে ফিরে আসেন। পরে দুপুর ১টা ৫ মিনিটে হেলিকপ্টারযোগে তিনি মাতারবাড়ী ত্যাগ করেন।

amardesh24.com

 

আরও পড়ুন