(এনসিপি) মুখ্য সমন্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এক আওয়ামী লীগ নেতার প্রাডো গাড়িতে চড়ে লংড্রাই করেছেন বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন। একই সাথে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ১১ দলীয় জোটের লংমার্চ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য নিয়ে চরম সংশয় প্রকাশ করেছেন তিনি, রাশেদ খাঁনের অভিযোগ এই কর্মসূচির নেপথ্যে মূলত নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনাকে দেশে পুনর্বাসিত করার প্রেক্ষাপট তৈরির একটি অপচেষ্টা চালানো হয়েছে।
আজ রোববার সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে পোস্ট করে এসব চাঞ্চল্যকর দাবি পেশ করেন মো. রাশেদ খাঁন।
উক্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বার্তায় তিনি উল্লেখ করেন, মন্ত্রীপাড়ায় এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বাসভবনে আলোচনার সময় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী প্রতিনিয়ত আওয়ামী লীগ নেতাদের জমিজমা, বাসাবাড়ি ও ধনসম্পত্তি দখল করার বিষয়ে কথা বলতেন, আর সে কথারই খানিকটা বাস্তব প্রমাণ মিললো সাম্প্রতিক ঘটনার মধ্য দিয়ে।
পাটওয়ারীর লংড্রাইভে যাওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন তুলে রাশেদ খাঁন লেখেন, শনিবার এক আওয়ামী লীগ নেতার দামি প্রাডো গাড়িতে চড়ে লংড্রাইভে যান নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। সংশ্লিষ্ট আওয়ামী লীগ নেতাকে বাড়তি সুরক্ষা দেওয়ার বিনিময়ে উপহারস্বরূপ গাড়িটি দেওয়া হয়েছে, নাকি ক্ষমতার দাপটে সেই সম্পদ দখল করা হয়েছে—বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।
লংমার্চের কর্মসূচির উদ্দেশ্য ও বক্তব্য নিয়ে সমালোচনা করে তিনি আরও লেখেন, গতদিনের ওই আয়োজনে আওয়ামী লীগের অপশাসন ও গণপরিষদের গণহত্যার বিচারের দাবিতে কেন জোরালো কোনো বক্তব্য রাখা হলো না, তা ভেবে দেখার সময় এসেছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি দাবি করেন, আসন্ন ডিসেম্বরের মধ্যে শেখ হাসিনাকে আবার দেশে ফিরিয়ে আনার পরিবেশ তৈরি করাই ছিল এই লংমার্চের মূল গোপন উদ্দেশ্য। আর সেই উদ্দেশ্য হাসিল করতেই বহরে উসকানিমূলক স্লোগানসহ লাঠিসোঁটা বহন করা হয়েছে।
তবে বিরোধী শিবিরের এমন পদক্ষেপের মাঝেও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কিংবা এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা কোনো প্ররোচনায় কান দেননি বলে জানান রাশেদ খাঁন। তিনি বলেন, দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীরা জামায়াতের তৈরি করা প্ররোচনায় পা বাড়ানো থেকে বিরত থেকেছেন। একই সাথে এ ধরনের কাণ্ডের পর এনসিপি দলীয়ভাবে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করে কি না, সে বিষয়ে দৃষ্টি রাখার কথা জানান প্রধানমন্ত্রীর এই রাজনৈতিক সহকারী।
উল্লেখ্য, গত ৫ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টায় ঢাকার শাপলা চত্বরে উদ্বোধনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে ১১টি রাজনৈতিক দলের যৌথ উদ্যোগে লংমার্চ শুরু হয়েছিল। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং অন্যতম প্রধান বক্তা হিসেবে ভাষণ দেন এনসিপির আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
প্রায় দেড় হাজার যানবাহনের বিশাল বহর নিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ধরে কুমিল্লা ও ফেনী শহরের পথসভা সম্পন্ন করে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে এসে জনসভার মধ্য দিয়ে এই কর্মসূচি সমাপ্ত হয়।
amardesh24.com









