নোটিশ: বকেয়া পরিশোধ না হওয়ায় সাইটটি শীঘ্রই সাসপেন্ড হয়ে যাবে, অনুগ্রহ পূর্বক যোগাযোগ করুন। ধন্যবাদ।

সর্বশেষ
বিশ্ববাজারে তেলের দাম আবারও বেড়েছে। দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দুদকের বিরুদ্ধে যে ৩টি অভিযোগ এনেছে : জুলাই নেতা। হাসান মাহমুদ টুকুর নিজ বাসার গ্যাস লাইনে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। বিআরটিএর অনুমোদন ছাড়া মহাসড়কে স্লিপার বাস চলাচল করতে পারবে না। উত্তর কোরিয়ার প্রধান পারমাণবিক কমপ্লেক্স ইয়ংবিয়নের অংশ। ১০ হাজার কর্মী নেওয়ার বিষয়ে ওমানের সঙ্গে আলোচনা। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তিনি আপিলের সুযোগ পাবেন কি না, তা প্রচলিত আইন ও সংশ্লিষ্ট। নারীর ক্ষমতায়ন ছাড়া একটি সভ্য সমাজ পূর্ণতা পেতে পারে না: রিজভী। গ্যাস সংকট মোকাবিলায় সরকার বড় ধরনের পরিকল্পনা নিয়েছে।

উত্তর কোরিয়ার প্রধান পারমাণবিক কমপ্লেক্স ইয়ংবিয়নের অংশ।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক।

ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের জন্য ২ তলাবিশিষ্ট নতুন একটি স্থাপনা নির্মাণ করেছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)। সংস্থাটির মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচির এই নতুন অগ্রগতিকে গভীর উদ্বেগের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

নবনির্মিত ভবনটি উত্তর কোরিয়ার প্রধান পারমাণবিক কমপ্লেক্স ইয়ংবিয়নের অংশ।আইএইএর তথ্য অনুযায়ী, ভবনটিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের কাজে ব্যবহৃত ২৮টি সেন্ট্রিফিউজের সমন্বয়ে ক্যাসকেড স্থাপনের সক্ষমতা রয়েছে।

গত মাসের শেষ দিকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানায়, পিয়ংইয়ং অন্য একটি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রেও সম্প্রসারিত ভবনের কার্যক্রম শুরু করেছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, এসব তথ্য থেকে বোঝা যায়, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে উত্তর কোরিয়া তার পারমাণবিক অবকাঠামো ধারাবাহিকভাবে বাড়িয়ে চলেছে।

২০০৯ সালে উত্তর কোরিয়া থেকে আইএইএর পরিদর্শকদের বহিষ্কার করার পর দেশটিতে সংস্থাটির সরাসরি কোনো উপস্থিতি নেই। ফলে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক স্থাপনাগুলো সম্পর্কে মূল্যায়নে মূলত উপগ্রহ থেকে পাওয়া ছবি ও অন্যান্য দূরবর্তী পর্যবেক্ষণের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে সংস্থাটিকে।

চলতি সপ্তাহের শুরুতে এক বিবৃতিতে আইএইএর মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি বলেন, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচিতে ধারাবাহিকতা ও নতুন অগ্রগতি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবগুলোর স্পষ্ট লঙ্ঘন। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আইএইএ চলতি বছরের জুনে প্রথমবারের মতো নতুন ভবনটির অস্তিত্বের কথা প্রকাশ করে। তবে গ্রোসি এর আগেই বছরের শুরুর দিকে এমন একটি স্থাপনা নির্মাণের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, গত ৩ জুন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন একটি নতুন পারমাণবিক উপাদান উৎপাদন কারখানা পরিদর্শন করেন। পরবর্তীতে সেটিকে ইয়ংবিয়নের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র হিসেবে শনাক্ত করা হয়।

পরিদর্শনের সময় কিম জং উন দেশের নজিরবিহীন উৎপাদন সক্ষমতায় সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এই সক্ষমতা আরও বড় সামরিক ও কৌশলগত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথ তৈরি করবে।

বিশ্বের অন্যতম দরিদ্র দেশ হওয়া সত্ত্বেও উত্তর কোরিয়া পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচিতে বিপুল অর্থ ব্যয় করছে। একটি আন্তর্জাতিক অলাভজনক পারমাণবিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের ২০২২ সালের হিসাব অনুযায়ী, এ খাতে দেশটির বার্ষিক ব্যয় প্রায় ৬৪ কোটি মার্কিন ডলার।

যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এডওয়ার্ড হাওয়েল বিবিসিকে বলেন, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচির সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো দেশটির বহু স্থাপনা সম্পর্কে বাইরের বিশ্বের কাছে কোনো তথ্য নেই। এগুলো অত্যন্ত গোপনে পরিচালিত হওয়ায় শনাক্ত করা কিংবা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা কঠিন।

তিনি বলেন, ইয়ংবিয়নের বাইরেও কাংসনের মতো এলাকায় উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক স্থাপনা রয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র ও অভ্যন্তরীণ নীতির সঙ্গে পারমাণবিক কর্মসূচি এত গভীরভাবে যুক্ত যে ভবিষ্যতে আরও গোপন উৎপাদন কেন্দ্রের সন্ধান পাওয়া অস্বাভাবিক হবে না।

আইএইএ জানিয়েছে, রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ের কাছে কাংসনে অবস্থিত আরেকটি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে কার্যক্রম শুরুর প্রমাণ পাওয়া গেছে। এর আগে ২০২৪ সালে কাংসনে একটি অতিরিক্ত ভবন নির্মাণ করা হয়েছিল।

এর আগে গত এপ্রিলে আইএইএ সতর্ক করে বলেছিল, উত্তর কোরিয়া পরমাণু বোমা তৈরির সক্ষমতা দ্রুত বাড়াচ্ছে। একই সঙ্গে ইয়ংবিয়ন পারমাণবিক কমপ্লেক্সের সম্প্রসারণ কার্যক্রমও পর্যবেক্ষণ করছে সংস্থাটি।

কিম জং উনের শাসনামলে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি উল্লেখযোগ্যভাবে গতি পেয়েছে। তিনি রেকর্ডসংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা তদারক করেছেন। ২০১৭ সালে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা পরীক্ষা শুরুর পর দেশটি একাধিক আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করেছে।এ পর্যন্ত উত্তর কোরিয়া ছয়টি পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে। সর্বশেষ পারমাণবিক পরীক্ষা হয় ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে।

এদিকে চলতি বছরের আগস্টে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধের অবসান ঘটানোর লক্ষ্যে উত্তর কোরিয়াকে আলোচনার প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক সক্ষমতার বিস্তার কার্যকরভাবে বন্ধ করার উপায় খুঁজে বের করতে এ ধরনের আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।তবে দক্ষিণ কোরিয়ার ওই প্রস্তাবের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি উত্তর কোরিয়া।

amardesh24.com

 

আরও পড়ুন